বিজ্ঞান গবেষণায় ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়ে ভাবনা | অন্বেষণ | DW | 17.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বিজ্ঞান গবেষণায় ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়ে ভাবনা

ব্রেক্সিটের পর ব্রিটেনের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে৷ বিজ্ঞান ও গবেষণা খাতে ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়েও ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা৷

ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি শহরের বাসিন্দারা ইউরোপের সঙ্গে না থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন৷ তবে সেখানে থাকা দু'টি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপপন্থি৷

বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় শহরের সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের দেখা যায়৷ শহরের বাসিন্দারা ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দেয়ায় তরুণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ৷ যেমন এক তরুণ বলছেন, ‘‘ভোটদাতাদের অধিকাংশই পুরনো প্রজন্মের হওয়ায় ব্যাপারটি হতাশাজনক৷ কারণ এর প্রভাব তো পড়বে তরুণদের ওপর৷'' আরেক তরুণ মনে করছেন, ‘‘গবেষণা, প্রযুক্তি – এ সবের জন্য ইউরোপের সঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো৷''

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর প্ল্যান্ট প্রোডাকশন'-এ কাজ করেন জুলিয়া রাইট৷ ইউরোপের অন্যতম সেরা এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে৷ এই প্রতিষ্ঠানের বাজেটের এক-চতুর্থাংশ আসে ব্রাসেলস থেকে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫টি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে কাজ করেছি৷ এ বছর ইইউ থেকে প্রায় দেড় মিলিয়ন ইউরো অর্থ সহায়তা আসবে৷ প্রতিবছরই এর পরিমাণ বাড়ছে৷ আমরা যা করছি, তা ইউরোপের স্বার্থেই করছি৷ আমার মনে হয়, খাদ্য উৎপাদন ও চাষাবাদ খাতে একসঙ্গে কাজ করাটা জরুরি৷''

ইউরোপের মধ্যে চলাচলের স্বাধীনতা না থাকলে এই ধরণের গবেষণা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও ব্যবস্থাপকরা৷

উপ-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক রিচার্ড ড্যাশউড বলেন, ‘‘জ্বালানি, খাদ্য, পানি ও নিরাপত্তা খাতে আমরা এখন যে ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে আছি তা সবগুলোই বৈশ্বিক৷ একা সেসবের সমাধান করা সম্ভব নয়৷ আমাদের একটি বড় সম্প্রদায়ের হয়ে কাজ করতে হবে৷ ইউরোপই একমাত্র জায়গা যেখানে অনেক দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে৷ এরকম সুযোগ বিশ্বের আর কোথাও নেই৷''

বিশ্ববিদ্যালয় দু'টি হয়ত ইউরোপপন্থি, কিন্তু কভেন্ট্রির বেশিরভাগ বাসিন্দা ব্রাসেলস থেকে যা পাচ্ছেন তাতে খুশি নন৷ এক বাসিন্দা বলছেন, ‘‘কভেন্ট্রির মানুষ চায় নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে থাকুক৷ তাদের মনে হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে, তারা চায় সরকার আবার সেটা ফিরে পাক, বিশেষ করে অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে৷'' আরেক বাসিন্দা মনে করছেন, ‘‘অনেক শিক্ষার্থী আসার কারণে স্থানীয় অর্থনীতির ভালো হলেও এটাও সত্য যে, এখানে যারা চাকরি করছে তাদের অবস্থার উন্নতি হয়নি, উলটে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে৷''

বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে স্থানীয় গাড়ি শিল্পে নুতন গতির সঞ্চার হয়েছে৷

কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন জস্টিনস ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হচ্ছেন৷ এক্ষেত্রে চীনের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি৷ তাঁর ধারণা, সে দেশে তাঁর হাইড্রোজেন চালিত বাহনের বাজার রয়েছে৷

তিনি বলেন, ‘‘এটা চীনের বাজারের জন্য খুবই উপযোগী৷ বড় শহরে চলাচলের জন্য ছোট বাহন অনেকদিন ধরেই খোঁজা হচ্ছে৷ বিশেষ করে যেসব শহরে বায়ুদূষণ একটি সমস্যা৷''

যদিও তাঁরা ইইউর কাছ থেকে সম্প্রতি বড় অংকের একটি তহবিল পেয়েছেন, কিন্তু তবুও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করাটা কঠিন হয়ে উঠছে৷ তবে চীনের সঙ্গে সহযোগিতাও সহজ নয়৷

তাই গবেষকরা আশা করছেন যে, ইউরোপের সঙ্গে প্রতীকী এবং বাস্তবেও যেন যোগাযোগ বহাল থাকে৷ ড: জুলিয়া রাইট বলেন, ‘‘আমরা সবাইকে জানাতে চাই যে, আমাদের প্রতিষ্ঠান ইউরোপপন্থি৷ আমাদের এখানে যাঁরা আসেন তাঁরা সেটা জানেন৷ আর যাঁরা কাজ করেন তাঁরাও এর সঙ্গে একমত, বলে মনে হয়৷''

ইউরোপের অন্য ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের কয়েকজন গবেষককে পাঠানোর চিন্তা করছে কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়৷ অন্য ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ভবিষ্যতে সেই পথ অনুসরণ করতে পারে৷

ভিডিও দেখুন 04:22
এখন লাইভ
04:22 মিনিট

বিজ্ঞান গবেষণায় ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়ে ভাবনা

বির্গিট  মাস/জেডএইচ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন