‌বিজ্ঞানীও অভিযুক্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতায় | বিশ্ব | DW | 07.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

‌বিজ্ঞানীও অভিযুক্ত রাষ্ট্রদ্রোহিতায়

ভারত সরকারের করোনা নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সমালোচনা করেছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট বিজ্ঞানী পার্থসারথি রায়৷ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হলো ভীমা কোরেগাঁও ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ৷‌

পার্থসারথি রায়

পার্থসারথি রায়

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআই‌এ-এর তলব পেয়ে হতচকিত হয়েছেন কলকাতার বিজ্ঞানী, ‘‌ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ’‌-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট পার্থসারথি রায়৷ বেশ কয়েকজন কবি, অধ্যাপক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এর আগে অভিযুক্ত হয়েছেন যে ভীমা কোরেগাঁও ষড়যন্ত্র মামলায়, সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে, সেই মামলাতে জড়িয়ে গিয়েছে তাঁর নাম৷ ১০ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে এনআই‌এ-এর দপ্তরে গিয়ে জেরার মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে৷ অথচ ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্রের ওই হাঙ্গামার ঘটনার ধারেকাছে ছিলেন না তিনি৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই বক্তব্য, এ নেহাতই তাঁকে ‘ফাঁসানো’র চেষ্টা৷ ডয়চে ভেলেকে পার্থবাবু জানিয়েছেন, ‘‌‘‌একটা জেনারেল প্রসেস চলছে, যেখানে ইন্টেলেকচুয়াল, অ্যাকাডেমিশিয়ান, অ্যাক্টিভিস্ট— সকলকে হ্যারাস করে জেলে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে৷ সরকারের কোনওরকম বিরোধিতা করলেই এটা করা হচ্ছে৷ এই সরকার করোনার মোকাবিলা করতে পারছে না৷ একজন বিজ্ঞানী হিসেবে তা বলেছিলাম৷ আমি আগে যা বলেছিলাম, পরবর্তী কালে তা মিলে গেছে৷ লকডাউনের পরে যে সংক্রমণ বাড়বে, সে কথাই আমি বলেছিলাম৷’‌’‌

অডিও শুনুন 01:14

আমি যেগুলো বলেছি, সেগুলো পরবর্তীতে মিলে গেছে: ডঃ পার্থসারথি রায়

পার্থসারথি রায়ের বক্তব্য, তিনি স্রেফ সরকারের সমালোচনা করার জন্য সমালোচনা করেননি৷ বরং তার বদলে কী করতে হবে, সেটাও বলে ছিলেন৷ অর্থাৎ তাঁর সমালোচনা ছিল গঠনমূলক৷ এবং যাঁরা ভারতে বিজ্ঞানচর্চার খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা বলছেন, প্যান্ডেমিক বা অতিমারী নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার যোগ্যতা অবশ্যই তাঁর আছে৷ এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞান আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত৷ আই‌আই‌এস‌ই‌আর-এ ভাইরোলজি নিয়ে গবেষণায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান আছে৷ ‘‌নেচার’‌-এর মতো পত্রিকায় এ বিষয়ে তাঁর মতামত গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়৷ কোভিড ১৯ ভাইরাসের মতিগতি বুঝতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারা বিশ্বের যে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেছে, পার্থবাবু তাঁদের অন্যতম৷ কিন্তু সে সব অগ্রাহ্য করে তাঁর সমালোচনা করার ‘‌ধৃষ্টতা’‌ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের৷ তাই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে মুম্বইয়ে৷ ভীমা কোরেগাঁও মামলায় আর যে সমস্ত বিশিষ্টজনকে জেলে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধেই দেশদ্রোহের আইনে মামলা করা হয়েছে৷

অডিও শুনুন 05:54

হয় জেলে যেতে হবে, নয় সঙ্গে আসতে হবে: রঞ্জিৎ শূর

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও গ্রেফতার করা হয়েছে পার্থবাবুকে৷ পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড়ে নোনাডাঙায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি৷ পাওয়ার গ্রিডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ৷ ১২ দিন জেলে ছিলেন৷ তার আগেও কৃষক এবং শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন পার্থবাবু৷

পার্থবাবুকে এনআইএ-এর তলব প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রঞ্জিত শূর বলছেন, বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে কোনও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার এই ধরনের ‘‌অতি-সক্রিয়তা’ পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি৷ কিন্তু ডঃ রায়ের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের একটা কারণ সম্ভবত শুধু কোভিড লকডাউন নিয়ে সরকারের সমালোচনা নয়, নানা প্রসঙ্গেই অতীতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি৷ এটা তারই প্রতিক্রিয়া বলে অনেকে মনে করছেন৷ তাঁদের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গে ভোট যত কাছে আসবে, ততই এই ধরনের ঘটনা বাড়বে৷ রঞ্জিত শূরের কথায়, ‘‌‘‌সামনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন৷ বিজেপি বা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি বেশ কয়েকবার পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের কাছে গেছে৷ কিন্তু বিশেষ সুবিধা মেলেনি৷ তাই এ বার এজেন্সিকে ব্যবহার করে তাঁদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে৷‌’‌’

এনআইএ-এর মুম্বইয়ের দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার ডাক পড়েছে পার্থসারথিবাবুর৷ এই করোনা পরিস্থিতিতে তিনি কীভাবে কলকাতা থেকে মুম্বই যাবেন, সেটাই একটা বড় প্রশ্ন৷ আইনি সাহায্যও নিচ্ছেন তিনি৷ অন্যদিকে অনেক বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী তাঁর এই হেনস্থার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন৷ এপিডিআর বিক্ষোভ জমায়েত এবং রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর কর্মসূচি নিয়েছে৷ কিন্তু সরকার আদৌ তাতে কর্ণপাত করে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন৷ পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ বিষয়ে নীরব কেন, সে প্রশ্নও উঠছে কোনও কোনও মহলে৷

বিজ্ঞাপন