বিজেপিতে থেকেও নেই শত্রুঘ্ন সিনহা | বিশ্ব | DW | 22.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

বিজেপিতে থেকেও নেই শত্রুঘ্ন সিনহা

কলকাতায় বিজেপি এবং মোদীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বক্তব্য রেখে বলিউডের সাবেক অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা আবার আলোচনায়৷ বিজেপির একাংশ মনে করে তাঁকে বহিস্কার করা উচিত, তবে অন্য অংশের ধারণা, তাতে তাঁকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে৷

বিহারের পাটনা সাহিবের বিজেপি সাংসদ বর্ষিয়ান বলিউড অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা৷ হালে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা  বিজেপিবিরোধী মহাজোট সমাবেশ হলো ব্রিগেড ময়দানে৷ তাতে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপির বিক্ষুব্ধ সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা৷ ব্রিগেডের সভায় দেওয়া ভাষণে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সুরে সুর মিলিয়ে তিনি আক্রমণ করেন  প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং দলের অন্য শীর্ষ নেতৃত্বকে৷ প্রশ্ন তোলেন, নোটবন্দি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, পণ্য ও পরিষেবা শুল্ক থেকে রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনা নিয়ে৷ তোপ দাগেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে৷ বলেন, রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ উঠেছে তা জনগণের সামনে খোলসা না করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘চৌকিদার চোর হ্যায়' তকমা মুছে ফেলা যাবে না৷ মোদী সরকারের শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছেন শত্রুঘ্ন৷ কখনো ঘরোয়া মহলে, কখনো সভা সমিতিতে৷ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় বিধানসভা ভোটে বিজেপির পতন মোদী সরকারের নীতির ব্যর্থতা প্রমাণ করে৷ব্রিগেডে তিনি প্রশংসা করলেন রাহুলের নেতৃত্বের৷ বললেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মোদীর সামনে তিনি আয়না হিসেবে কাজ করবেন কারণ, প্রথমে তিনি জনগণের, তারপর বিজেপির৷

ব্রিগেডে শত্রুঘ্ন সিনহার ভাষণ শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বিরুদ্ধে দল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়ে দেন বিহারের আরেক বিজেপি সাংসদ, বিজেপির মুখপাত্র রাজীব প্রতাপ রুডি৷ তিনি বলেন, ‘‘নিজের স্বার্থে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মুখে এখন তিনি নিজের দাম বাড়াতে চাইছেন৷'' বিজেপি মুখপাত্রের উক্তিকে কটাক্ষ করে শত্রুঘ্ন বলেছেন, ‘‘মেরুদণ্ড সোজা রেখে চললে যদি বিদ্রোহী তকমা দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতি নেই৷''

অডিও শুনুন 02:46
এখন লাইভ
02:46 মিনিট

‘শত্রুঘ্ন সিনহা নিজে চাইছেন বিজেপি তাঁকে বহিষ্কার করুক’: অমূল্য গাঙ্গুলি

আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে দল হয়ত তাঁকে টিকিট না-ও দিতে পারে– তা ধরে নিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা কংগ্রেস, লালু প্রসাদের আরজেডি দল, কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে হৃদ্যতা বজায় রেখে চলেছেন পুরোদমে৷ ব্রিগেড সভায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুরি ভুরি প্রশংসা করেছেন৷ এ-ও বলেছেন, মমতাই আদর্শ প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী৷

পাটনা সাহিব থেকেই ভোটে দাঁড়াবেন শত্রুঘ্ন৷ হ্যাঁ, ইঙ্গিতটা স্পষ্ট৷ তবে হয়ত অন্য পার্টির টিকিটে দাঁড়াবেন৷ বহিষ্কার করা হলে বিহারে শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপির একটা বড় প্রতিপক্ষ হবে৷ বিজেপি সভাপতি সেটা বুঝবেন না এমন বোকা নন৷ ‘বিহারিবাবু'কে ‘শহীদ' হবার সেই সুযোগ তিনি হয়ত দেবেন না, চাইবেন তিনি নিজে দল থেকে ইস্তফা দিন৷

এই প্রসঙ্গে প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমূল্য গাঙ্গুলি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিহারের রাজনীতিতে শত্রুঘ্ন সিনহার আরো একটু বেশি গুরুত্ব প্রাপ্য ছিল৷ তবে সর্বভারতীয় বা জাতীয় স্তরের নেতা হিসেবে তিনি উঠে আসতে পারেননি কখনো৷ মনে হয় এটাই বড় কারণ৷ অনেক দিন ধরেই তাঁকে সাইডলাইন করা হচ্ছে৷ তাই শত্রুঘ্ন সিনহা এখন নিজেই চাইছেন, তাঁকে বিজেপি থেকে বহিষ্কার করা হোক৷ অন্য বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহার মতো নিজে থেকে দল ছাড়তে চাইছেন না৷ মোটকথা, একদিকে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে শত্রুঘ্ন সিনহাকে বহিষ্কার করা হলে তাঁকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে, অন্যদিকে শত্রুঘ্ন সিনহা নিজে চাইছেন বিজেপি তাঁকে বহিষ্কার করুক৷ নিজে থেকে দল ছাড়তে চাইছেন না৷ এই ধরনের একটা খেলা চলছে৷''

তবে অমূল্য গাঙ্গুলি মনে করেন, ‘‘শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপির ‘ওজনদার' রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন৷ সেই হিসেবে বিজেপি নেতা অরুণ শৌরি বড় মাপের ব্যক্তিত্ব৷ যদিও তাঁকে বিদ্রোহীর তকমা দেওয়া হয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, বলিউড অভিনেতা হিসেবেও তিনি প্রথম সারির অভিনেতা কিংবা হিরো বলতে যা বুঝি, তিনি তা ছিলেন না৷'' দল থেকে বহিষ্কার করা হলে কিংবা নিজে থেকে দল ছাড়লে তিনি কি রাহুলের খাতায় নাম লেখাতে পারেন? অমূল্য গাঙ্গুলি বললেন, ‘‘কংগ্রেসের দলীয় কাঠামোটা পরিবারকেন্দ্রিক বলে নেতা হিসেবে অন্যদের পরিসর সীমিত৷ কাজেই কংগ্রেস তাঁকে নেবে কি নেবে না, সে বিষয়ে সংশয় থেকেই যায়৷ আসল কথা, ভোটের মুখে এই ধরনের একটু-আধটু ভাবভঙ্গি করে নিজের গুরুত্ব বাড়ানো ছাড়া এটাকে আর কী বলা যায়৷''

৭২ বছর বয়সি শত্রুঘ্ন সিনহা দু’বারের বিজেপি সাংসদ৷ লোকসভা এবং রাজ্যসভার৷ অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ ২০০৯ সালে ১৫তম লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত হন প্রথমবার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন