বিচারপতিদের অভিযোগ ঘিরে ভারতে আলোড়ন | বিশ্ব | DW | 12.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

বিচারপতিদের অভিযোগ ঘিরে ভারতে আলোড়ন

এমন ঘটনা আগে কখনোই দেখেনি ভারত৷ সুপ্রিম কোর্টের ৪জন বিচারপতি সরাসরি অভিযোগ তুললেন সুপ্রিমক কোর্টের কর্মপদ্ধতি এবং প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে৷ তাঁরা বললেন, সুপ্রিম কোর্ট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চলছে না৷

অভূতপূর্ব ঘটনা৷ স্বাধীনতার সত্তর বছরের মধ্যে ভারতীয় ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি৷ ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ৪জন বিচারপতি একত্রে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন এবং জানালেন, যেভাবে সুপ্রিম কোর্টে কাজ হচ্ছে, তা স্বচ্ছ নয় এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের দিক থেকে বিষয়টি উদ্বেগজনক৷

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, গণতন্ত্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভ৷ আইনবিভাগ, বিচারবিভাগ এবং প্রশাসন৷ সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷ বস্তুত ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিটিই দাঁড়িয়ে আছে এই ভাবনার উপর৷ ৪ বিচারপতি সাংবাদিক বৈঠকে যা বলেছেন, তা ওই মূল ধারনাটির উপরেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে৷ বিচারপতি যষ্টী চেলামেশ্বর, রঞ্জন গগোই, মদন লকুর এবং কুরিয়ান জোসেফের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ভারতীয় গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না৷ যেভাবে তিনি সুপ্রিম কোর্ট চালাচ্ছেন, তা গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বচ্ছতার পরিপন্থি৷

যদিও তাঁদের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে বিচারপতিরা কথা বলতে চাননি৷ তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের গভীরে গেলে সুপ্রিম কোর্টের অগণতান্ত্রিক ছবিটি আরও স্পষ্ট হবে৷ ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে যা খুব সুখের হবে না৷ তাঁদের আশা, তাঁদের অভিযোগ শোনার পর বিষয়টির দিকে গুরুত্ব প্রদান করা হবে৷

বস্তুত, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুপ্রিম কোর্টের এই ৪ বিচারপতি তাঁদের অভিযোগ জানিয়েছেন৷ তাঁদের সাংবাদিক বৈঠকের কিছুক্ষণ আগেই সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্র প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে যে, বিচারপতি লোয়া'র অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সে বিষয়ে যাবতীয় কাগজপত্র যেন সোমবারের মধ্যে জমা দেওয়া হয়৷ গুজরাটে সোহরাব উদ্দিন ফেক এনকাউন্টার মামলার বিচার করছিলেন বিচারপতি লোয়া৷ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন বিজেপি'র বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি অমত শাহ৷ অভিযোগ, মামলাটিকে ভুল প্রমাণ করতে লোয়াকে ১০০ কোটি টাকা ঘুস দিতে চাওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু লোয়া তা নিতে চাননি৷ এরপরেই নাগপুরে এক সহকর্মীর পারিবারিক বিয়েতে গিয়ে লোয়া'র অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়৷ যদিও সেই মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর পরিবারের এবং বন্ধুদের৷ পরবর্তীকালে অমিত শাহও সোহরাব উদ্দিন মামলায় ক্লিন চিট পেয়ে যান৷

অনেকেরই ধারণা, সেই সময় থেকেই সুপ্রিম কোর্টের এক শ্রেণির বিচারপতি ক্ষুব্ধ৷ বিচারবিভাগের উপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলা হয়েছে কোনও কোনও মহল থেকে৷ বিচারপতিদের সাংবাদিক বৈঠকে সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে কোনো কোনো মহলের ধারনা৷ যদিও ৪ বিচারপতি লোয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে কোনো আলোচনা করেননি৷

৪ বিচারপতির সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়েছে দেশে৷ কোনো কোনো মহল বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ কিন্তু অনেকেরই মতে, এই ঘটনা দেশের গণতন্ত্রের জন্য মোটেই সুখকর নয়৷ এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের সম্মানহানি ঘটেছে৷ সুপ্রিম কোর্টের স্বনামধন্য প্রাক্তন বিচারপতি আরএস সোধীর মতে, বিচারপতিরা সিস্টেমের মধ্যে থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাতে পারতেন৷ প্রকাশ্যে সাংবাদিক বৈঠক না করলেও চলত৷ অন্যদিকে বিশিষ্ট আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংয়ের মতে, এ এক ‘ঐতিহাসিক' ঘটনা৷ কেন্দ্রের বিরোধী দল কংগ্রেস টুইট করে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ৪ জন বাচিরপতির উদ্বেগ অত্যন্ত চিন্তার৷

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে দীপক মিশ্র সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদে নিয়োজিত হন৷ শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল৷ অনেকেই তাঁকে মোদীঘনিষ্ঠ বলে বর্ণনা করেছিলেন৷ বিচারপতিদের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা ছিল৷ কিন্তু সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে চলে আসবে, তা অনেকেই কল্পনা করেননি৷ যদিও এত কাণ্ডের পরেও বিচারপতি মিশ্রের তরফ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি৷

এসজি/এসিবি (এপি, রয়টার্স, ডিডব্লু, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, দ্য ওয়্যার)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন