‘বিকল্প উৎস না থাকায় সেরামের উপরই ভরসা রাখতে হয়েছে′ | আলাপ | DW | 30.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘বিকল্প উৎস না থাকায় সেরামের উপরই ভরসা রাখতে হয়েছে'

করোনার টিকার জন্য বিকল্প উৎসের সন্ধান না করে শুধু সেরাম ইন্সটিটিউটের উপর ভরসা রাখা কি ঠিক হয়েছে? সরকার কি চাইলে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে পারতো না?

এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের সামনে তখন বিকল্প কোনো উৎস ছিল না৷ ফলে আমাদের সেরামের উপরই ভরসা রাখতে হয়েছে৷ চীন টিকার ট্রায়ালে আগ্রহ দেখালেও পরে তারা টাকা চাওয়ায় সেটা আর সম্ভব হয়নি৷ অন্য কেউ আমাদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে আসেনি৷''

ডয়চে ভেলে : এখন তো রাশিয়ার টিকা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এটা কোন পর্যায়ে আছে?

অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম : ওদের আমরা বলেছি, এখানে উৎপাদনের জন্য৷ ওরা জানিয়েছে, এখানে এসে দেখবে, তারপর ব্যবস্থা নেবে৷ আর চীনের টিকার ব্যাপারে তো ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর অনুমতি দিয়েছে৷ এখন এর মধ্যে যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন তারা পেয়ে যায় তো ভালো৷ না হলে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে যে, তাদেরটা কীভাবে ব্যবহার করবে৷ এটা নিয়ে এখনো আমরা কোনো পরিকল্পনা করিনি৷ এটার অনুমোদন লাগবে সরকারের৷

সেরাম ইন্সটিটিউট কি সর্বশেষ কিছু জানিয়েছে?

আমাদের ওরা কিছু জানায়নি৷ তবে বেক্সিমকোকে ওরা যে শেষ চিঠি দিয়েছে সেখানে তারা বলেছে, তারা আশা করছে, খুব তাড়াতাড়ি এটা দিতে পারবে৷ এই তাড়াতাড়ি যে কখন, সেটা আমরা জানি না৷

একমাত্র সেরামের উপর নির্ভর করার সিদ্ধান্তটা কি সঠিক ছিল?

মহামারিতে সারা দুনিয়া যখন একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তখন কি আপনি একাধিক উৎস খুঁজবেন নাকি হাতের কাছে যেটা আছে সেটা নিবেন? তখন তো এমন ছিল না যে, আমাদের কাছে ১০টা লোক অফার নিয়ে এসেছে?

চীনের তো একটা অফার ছিলো?

ওটা ছিল ট্রায়াল করার জন্য৷ আবার আমরা যখন ট্রায়ালে রাজি হলাম তখন তারা আমাদের কাছে পয়সা চাইল৷ চীন আমাদের কাছে কো-ফাইনান্সিং চেয়েছে৷ আপনি যদি পেছন ফিরে তাকান তাহলে দেখবেন অনেক সিদ্ধান্ত সময়ের প্রেক্ষিতে বদল হয়েছে৷ এটা হয়ত আরেকটু ভালো করা যেত৷ সেটাতে কি আর আপনি এখন ফিরে যেতে পারবেন?

অডিও শুনুন 09:43

আমরা বেশি উৎসাহিত করছি, এখানে উৎপাদনের জন্য: ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম

সেরামতো চূড়ান্ত ছিলই৷ বিকল্প আর কোনো উৎসের সন্ধান করা যেত কিনা?

তখনতো কোথাও কোনো অপশন ছিল না৷ তারপরও আমি বলব যে, প্রধানমন্ত্রী তখন থেকে একটা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন৷ এটাতো এমনও হতে পারত যে, অক্সফোর্ডের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে অনুমোদনই পেল না৷ তাহলে তখন কী করতাম? তখন এই টাকার কী হতো?

এই টাকার ঝুঁকি তো বেক্সিমকো নিয়েছে, সরকার তো নেয়নি?

এটা তো ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে৷ বেক্সিমকো মধ্যখানে দায়িত্ব নিয়েছে যে, তারা এনে দেবে৷ তাদের সঙ্গে সেরামের এই চুক্তি হয়েছে৷ সরকারের পক্ষ থেকে আমরা চুক্তি করেছি৷ এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বড় ব্যাপার ছিল বেক্সিমকো এটা নিশ্চিত করবে৷ এখন আনতে পারেনি, সেটাই কথা৷ সেটা আন্তর্জাতিক ইস্যু হোক, সেরাম দিচ্ছে না সেটা হোক, ওদের দেশের চাহিদা বেশি, ওরা উৎপাদন করতে পারছে না অনেক যুক্তি আছে৷ কিন্তু মূল কথা আমরা পাইনি৷

আপনারা বেক্সিমকোকে কিছু বলেছেন?

আমরা অনেকবার তাদের তাগাদাপত্র দিয়েছি৷ চিঠি দিয়েছি৷

তাহলে এই দায়টা কার? বেক্সিমকোর নাকি সরকারের?

এই বিচার কে করবে জানি না৷ আপনারা প্রেস মিডিয়া বিচার করতে পারেন৷ তখন তো বিকল্প উৎসের চেষ্টা করা হচ্ছিল, কিন্তু পাওয়া যায়নি৷ আমরা চাচ্ছিলাম রেডি টিকা৷ আমরা ট্রায়াল চাচ্ছিলাম না৷ আবার আমরা যখন ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দিলাম, তখন চীন টাকা চেয়ে বসল৷

এখন যে উৎসগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেটা কতটা নিরাপদ বা তাদের উপর কতটা আস্থা রাখা যায়?

এটা একটা মূল্যবান কথা বলেছেন৷ এখন কীভাবে এটা জাস্টিফাই করবেন? আমাদের তো যাচাই করতে হচ্ছে ওদের কাগজপত্র দেখে৷ ওদের পুরো গবেষণা আমরা দেখিনি, আপনি দেখেছেন? আমি দেখেছি? কেউ দেখিনি৷ ফলে ওদের কাগজপত্র দেখে আমাদের বলতে হচ্ছে হ্যাঁ, এটা নিরাপদ৷ তারপরও যদি অনিরাপদ হয় তাহলে তখন তার দায়ভার কে নেবে? এখন আমি যদি ওদের ফিরিয়ে দেই, যে ১০ বছর যাক, তারপর যখন নিরাপদ হবে তখন আনব৷ সেটাও তো হবে না, হবে? তখন আপনারাই বলবেন, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছে৷ এখন কোন পথে যাবো? বলছেন, লকডাউন দিতে, লকডাউন দিলে বলছেন, লোকজন না খেয়ে মারা যাচ্ছে৷ আমরা কী করব বলেন?

রাশিয়ার টিকা বাংলাদেশে যে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটা কোন প্রতিষ্ঠান করবে? সেটা কী ঠিক হয়েছে?

না, এখনো আমরা ফাইনাল করিনি৷ ওরা বলেছে যে, ওরা এসে সক্ষমতা দেখবে৷ আমরা কয়েকটি ফার্মাসিউটিক্যালের নাম বলে দিয়েছি যাদের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা আছে৷

সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া তো বাংলাদেশে বেসরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠানের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা আছে?

হ্যাঁ, আপনি তো জানেন৷ আমরা ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম দিয়েছি৷ এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে৷

রাশিয়া থেকে কি আমরা রেডি টিকা পাবো নাকি শুধু উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছি?

আমরা দু'টোতেই গুরুত্ব দিচ্ছি৷ ওরা যদি রেডি টিকা দিতে পারে তো ভালো৷ তবে আমরা বেশি উৎসাহিত করছি, এখানে উৎপাদনের জন্য৷

রাশিয়ার এই টিকা সংরক্ষণ ও বহনের ব্যবস্থা কি অক্সফোর্ডের টিকার মতোই, নাকি আলাদা অবকাঠামোর প্রয়োজন হবে?

আমি যতদূর জানি, একই তাপমাত্রায় এটা সংরক্ষণ করা যাবে৷ মাইনাস ৮ ডিগ্রির মধ্যেই রাখতে হবে৷ ফাইজার আর মর্ডানার টিকার জন্য বেশি মাইনাস ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখতে হয়৷

মর্ডানার টিকার ব্যাপারে আমাদের কি কোনো উদ্যোগ আছে?

রেনেটা আমাদের কাছে আবেদন করেছে, ওরা এনে দেবে৷ আমরা রাজি আছি৷ এখন কাগজপত্র ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে দিয়ে দিয়েছি৷

আর কোনো প্রতিষ্ঠান কি টিকা আমদানির ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে?

বহু প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে৷ আমরা টিকা কমিটির কাছে এই আবেদনগুলো দিয়ে দিয়েছি৷ তারাই এটা ঠিক করুক৷ কারণ এত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটা সঠিক, তারাই বেছে বের করুক৷ আমি এগুলো বাছতে পারব না৷ এত লোক এটার মধ্যে জড়িত হয়েছেন যে, সবাই শুধু ব্যবসা, ব্যবসা আর ব্যবসা করতে চায়৷

নামকরা কোনো ফার্মাসিউটিক্যাল এমন উদ্যোগ নিয়েছে?

স্কয়ার আসেনি৷ আমাদের কাছে যেগুলো এসেছে তার মধ্যে পরিচিত ফার্মাসিউটিক্যাল হলো রেনেটা৷ ওরা তিনটা টিকার কথা বলেছে যে, ওরা এনে দেবে৷ আমরা বলেছি যে, আনেন৷ আমাদের কোনো অসুবিধা নেই৷

ফাইজার বা মর্ডানার টিকা তো সংরক্ষণ করা কঠিন?

শহরগুলোতে এই টিকা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে৷ ওরা তো আর কোটি কোটি ডোজ দেবে না৷ হয়তো কিছু ডোজ দেবে৷ এটুকু রাখার সামর্থ্য আমাদের আছে৷

অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ডোজ যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সক্ষমতা কি আমাদের আছে? বিশেষজ্ঞরা তো বলছেন, যে টিকাই দেন না কেন একই টিকার দুই ডোজ দিতে হবে?

অনেক বিশেষজ্ঞ তো আবার বলছে, দুই প্রতিষ্ঠানের দুই ডোজ দেওয়া যাবে৷ এটার সত্যতা যাচাই করার সুযোগ আমাদের হয়নি৷ আমাদের ২০ লাখ ডোজের ঘাটতি আছে৷ এখন আমরা যদি অক্সফোর্ডের ২০ লাখ ডোজ পাই তাহলে প্রথম ডোজ যারা নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজ দিতে পারব৷ যেসব দেশ এরই মধ্যে অক্সফোর্ডের টিকা নিয়েছে কিন্তু দেয়নি, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি৷ যেমন, অ্যামেরিকা, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ওরা নিয়েছে, কিন্তু দেয়নি৷ আমরা ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই টিকা আনার চেষ্টা করছি৷ এখনও জানি না পাব কিনা৷ এখনও কোনো দেশ নিশ্চিত করেনি যে, আমাদের দেবে৷

যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে তো এখন একটা উদ্বেগ আছে?

২০ লাখ ডোজ তো ঘাটতি আছে৷ এখন যারা ফার্স্ট ডোজ নিতে আসছে আমরা তাদের বলছি যে, নিয়েন না৷ আমরা বন্ধও করে দিয়েছি৷ বিভিন্ন এলাকায় আমার লোকজনকে মারতে যাচ্ছে, ওরা ভয় পেয়ে কিছু দিয়ে দিচ্ছে৷ এগুলো তো অপচয়৷ সত্যি সত্যি যদি আমরা এই টিকা আর না পাই তাহলে ফার্স্ট ডোজ নিয়ে কী করবে? প্রথম তো লোকজন নেয়নি৷ তারপর প্রচার প্রচারণার পর মানুষ আগ্রহী হলো৷ এখন আমরা ফার্স্ট ডোজ দিতে চাচ্ছি না, তারপরও মাঠে আমাদের কর্মীরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন৷