বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের নেপথ্যে কী? | বিশ্ব | DW | 03.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের নেপথ্যে কী?

বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে ‘১২৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং'-এর ঘটনা তদন্তে নেমেছে দুদক৷ বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর দলের নেতাদের দমনেই এই তৎপরতা৷ তবে আওয়ামী লীগ বলছে, দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে৷

Bangladesch Oppositionspartei BNP-Führers Meeting in Dhaka (bdnews24.com)

ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, বিএনপির আট নেতার ব্যাংক হিসাব থেকে ৩০ দিনে ১২৫ কোটি টাকা সন্দেহজনকভাবে লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ আছে৷ যেসব ব্যাংক থেকে লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে সেই সব ব্যাংককে চিঠি দিয়ে দুদক ওই আট নেতার লেনদেনের তথ্য জানতে চেয়েছে৷ সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক ঋতিক সাহা ব্যাংকগুলোকে ওই চিঠি দেন৷ বিএনপি'র যে আটজন নেতার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন, বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মীর্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, যুগ্ম-মহাসচবি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়াল৷

তবে বিএনপি নেতাদের বাইরে মোর্শেদ খানের  ছেলে ব্যবসায়ী ফয়সাল মোর্শেদ খান এবং ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের ব্যাপারেও অনুসন্ধান করবে দুদক৷

অডিও শুনুন 01:44
এখন লাইভ
01:44 মিনিট

‘দুদক তো আওয়ামী লীগের অনেক এমপি ও নেতার বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে’

দুদকের চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে লেনদেনের হিসাব চাওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘‘৩০দিনের মধ্যে তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে মানিলন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন জ্ঞাত আয় বহর্ভিূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্তের প্রয়োজনে৷''

অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের  উপ-পরচিালক মো. শামছুল আলমের নতেৃত্বে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷

বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক লেনদেনের একটি হিসাবের কথাও বলছে দুদক৷ আর তাতে বলা হয়, ‘‘তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর হিসাব থেকে ১১, ১৫ ও ২২ ফেব্রুয়ারি মোট ৩২ কোটি টাকা তোলা হয়৷ একই মাসে তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালের হিসাব থেকে তোলা হয় ২০ কোটি টাকা৷

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের ব্যাংক হিসাব থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ১৮ কোটি টাকা৷ তাঁর ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের হিসাব থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ৯ কোটি টাকা৷

খন্দকার মোশাররফ হোসেন ৩ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১২টি চেকের মাধ্যমে ২১ কোটি টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে৷ এর মধ্যে ছয়টি চেকে টাকা তোলা হয়েছে ঢাকার বাইরে থেকে৷

২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ ঢাকা ব্যাংকে মীর্জা আব্বাসের হিসাব থেকে ১৬ কোটি টাকা তোলা হয়৷ এছাড়া নজরুল ইসলাম খান এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে ৭ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে৷''

অডিও শুনুন 01:41
এখন লাইভ
01:41 মিনিট

‘অভিযোগের গুণগত মান এবং স্বচ্ছ তদন্তই আমরা আশা করি’

দুদকের এই অনুসন্ধানের ব্যাপারে অনুসন্ধান তালিকায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন,  ‘‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর যেসব নেতা বিভিন্ন পর্যায় থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন, দলকে সংগঠিত করার কাজ করছেন, তাদেরই এখন টার্গেট করা হচ্ছে৷ তারা যাতে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই হাস্যকর অনুসন্ধান শুরু হয়েছে দুদকের৷''

তিনি দাবি করেন, ‘‘যেসব ব্যাংকের কথা বলা হচ্ছে, ওইসব ব্যাংকে তো মোশাররফ সাহেবের কোনো অ্যাকাউন্টই নেই৷ আমার ব্যাংক থেকে পারিবারিক প্রয়োজনের বাইরে কোনো টাকা তোলা হয়নি৷ মিন্টু সাহেবের ক্ষেত্রেও তাই৷ নজরুল ইসলাম খান একজন লেবার লিডার৷ তার চলার মতো পয়সা নেই৷ ২০ দলের সমন্বয়কারী তিনি, এজন্য তার বিরুদ্ধে তদন্ত৷ সোহেলেরও চলার মতো পয়সা নাই৷ সে ঢাকা সিটিতে বিএনপিকে সংগঠিত করছে৷ তাই তার বিরুদ্ধেও তদন্ত৷ মানে যারা এখন দলকে সংগঠিত করছেন, আন্দোলন সংগঠন করছেন তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে৷''

তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘‘দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক খাতে এখন যে বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে, তা থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোও এর উদ্দেশ্য৷ তারা একটি কথিত অনলাইনের ওপর ভিত্তি করে এসব কাজ করছে৷ ওই অনলাইনটি বিএনপি ও নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করে আসছে৷''

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিএনপি নেতারা মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ১২৫ কোটি টাকার লেনদেন কেন করলেন, কী কারণে করলেন, তা দুদক অনুসন্ধান করতেই পারে৷ দুদকের কাজই হলো দুর্নীতি, অস্বাভাবিক লেনদেনের অনুসন্ধান করা৷ তারা তো আওয়ামী লীগেরও অনেক এমপি ও নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে৷ দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে৷ তাদের ওপর সরকারের প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নই ওঠে না৷'' তিনি বলেন, ‘‘এই ১২৫ কোটি টাকার ব্যাপারে দেশের মানুষও জানতে চায়৷''

অডিও শুনুন 03:05
এখন লাইভ
03:05 মিনিট

‘যাঁরা এখন দলকে সংগঠিত করছেন, তাঁদেরই টার্গেট করা হচ্ছে’

টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘অভিযোগের গুণগত মান এবং স্বচ্ছ তদন্তই আমরা আশা করি৷ দুদককে এই তদন্তে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে৷ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তে কেউ যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার শাস্তি প্রাপ্য৷ কিন্তু আইন সবার জন্য সমান এবং দুদক সমতার নীতিতে আইন প্রয়োগ করছে, তা প্রমাণ করা জরুরি৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘বিএনপির এতজন নেতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বাভাকিভাবেই এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে৷ আমরা আশা করবো, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়৷ তবে সেটা দুদককেই তার স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে৷''

এদিকে দুদক  চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘অভিযোগ পেলে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে, এটা সত্য কিনা৷ অনুন্ধানের পরই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য কিনা, তা বলা যাবে৷'' এই অনুসন্ধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘কারো প্রতি অন্যায় হোক এটা আমরা চাই না৷''

প্রসঙ্গত, জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় ৮ ফেব্রুয়ারি৷ আর সেই দিন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন৷ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরো ৩৪টি মামলা আছে৷ এরমধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন, তদন্ত চলছে ১২টি মামলার এবং আদালতের নির্দেশে ৩টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত আছে৷ বিএনপির আরো ৩৪ জন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন