বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে কিছু করার নাই: প্রধানমন্ত্রী | বিশ্ব | DW | 19.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে কিছু করার নাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে আমাদের কিছুই করণীয় নেই৷’’ আর প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘এটা আগেও হয়েছে৷ ২০মিনিট আগে প্রশ্ন পেয়ে উত্তর মুখস্থ করতে পারবে, এমন ট্যালেন্টেড কে আছে?’’

রোম সফর শেষে দেশে  ফিরে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ওই সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন৷ কিন্তু সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন আগামী নির্বাচন, দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে৷

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘‘বিএনপি ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে, পারেনি৷ এবারও পারবে না৷ জনগণের ওপর যে দলের আস্থা আছে, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা নির্বাচনে অংশ নেবে৷ বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে আমাদের কিছুই করণীয় নেই৷’’

খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত না করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে৷ দলটির এই ঘোষণা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এটা তো নতুন কিছু না৷ আপনাদের নিশ্চয় স্মরণ আছে, ২০১৪ সালে তারা নির্বাচন করবে না বলে, নির্বাচন ঠেকানোর নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে৷ প্রায় সত্তরটা সরকারি অফিস তারা পুড়িয়েছে৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে৷ গাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে৷ ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সাল- এই সময়ের মধ্যে তারা প্রায় পাঁচ শ'র মতো মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে৷ সাড়ে তিন হাজারেরও বিশ মানুষকে পুড়িয়েছে৷’’

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিএনপির কাছের লোকেরাই মামলা দিয়েছ, রায় দিয়েছেন আদালত৷ আদালতের রায়ে সরকারের কিছু করার নেই৷তারেক রহমানের দুর্নীতি সর্বজনবিদিত৷ বিএনপির নেতৃত্বের কি এতই দৈন্যদশা যে অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে পারলো না? বিএনপিতে কি একটা নেতাও দেশে নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে পারতো?’’

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী উল্টো প্রশ্ন করেন,‘‘ পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন দেয়, এটা তো  জানা কথা৷ এখন সবার হাতে ফোন, কেউ ছবি তুলে দিতে পারে৷ কিন্তু আমার এই প্রশ্নের উত্তরটা দেন, কেউ কি এটা দেখে উত্তর লিখে দিতে পারবে? এত ট্যালেন্টেড কে আছে? মন্ত্রী কি নিজে প্রশ্ন পত্র ফাঁস করতে গেছে, নাকি সচিব গেছে? কে প্রশ্ন ফাঁস করেছে, খুঁজে দেন আমরা শাস্তি দিয়ে দেবো৷’’

রোহিঙ্গা সঙ্কট সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে নানা টালবাহানা করেছে৷ তারা আট হাজার নিতে বলেছে এখন, আমরা বলছি আট হাজার আগে নিক৷ তারপর আমরা দেখব, তারা এদের সঙ্গে কী ব্যবহার করে৷ নেয়ার আগে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ভাসানচরে ব্যবস্থা করে দেয়া হবে৷ প্রথমে এক লাখ মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হবে৷’’

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যায় বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে সরকারের সুবিধা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে৷ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্র করছে৷ তারা খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়৷ এজন্যই মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে৷’’

অডিও শুনুন 02:30
এখন লাইভ
02:30 মিনিট

বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে তো আর নির্বাচন বন্ধ থাকবে না: কলিমুল্লাহ

বিএনপি নির্বাচনে না এলে সরকারের কিছু করণীয় নাই– প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রত্রিক্রিয়ায় জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ (জানিপপ)-এর প্রধান, অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তাহলে তো আর নির্বাচন বন্ধ থাকবে না৷ নির্বাচন আগের মতো বিএনপিকে ছাড়াই হবে৷ তবে বিএনপি'রও দায়িত্ব আছে৷ নির্বাচন বর্জন করে আসলে কোনো লাভ হবে না৷ ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি৷ আর শেখ হাসিনা তাঁর সংবাদ সম্মেলনে বহু দলীয় গণতন্ত্রের কথা বলেছেন৷ তবে এই বহুদলীয় গণতন্ত্র যে বিএনপি ছাড়া হবে না, এমন নয়৷’’

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথার জবাবে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আসলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক অবস্থানই এখন প্রশ্নের মুখে৷ ৩০ মিনিট আগে ফাঁস হলে কাজে লাগে কিনা, সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে৷’’

অডিও শুনুন 04:37
এখন লাইভ
04:37 মিনিট

প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিক অবস্থানই এখন প্রশ্নের মুখে: কায়কোবাদ

তিনি বলেন, ‘‘প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে সেন্টারে পাঠানো পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫০ জন লোক জড়িত থাকেন৷ আমাদের নৈতিক মান যা, তা থেকে বলা যায় তাদের কেউ না কেউ প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত৷ এটা শিক্ষকরা আধা ঘণ্টা আগে যখন প্রশ্ন খোলেন, তখনও কেউ করে থাকতে পারেন৷ শিক্ষা মন্ত্রনালয়েরও কেউ জড়িত থাকতে পারেন৷’’

এদিকে ৫৭'র বদলে ৩২ ধারা নিয়ে  সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘৩২ ধারা নিয়ে এত আশঙ্কা কেন? যদি কেউ কিছু না করেন, তাহলে প্রয়োগ হবে না৷ কেউ অপকর্ম না করলে, অপপ্রয়োগ কেন হবে, প্রয়োগ করা হবে৷ ৩২ ধারা নিয়ে শঙ্কিত হবার কিছু নেই৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়