‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে সংঘাত বাড়বে’ | বিশ্ব | DW | 09.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিলে সংঘাত বাড়বে’

দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি৷ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে তারা৷ কিন্তু সেখানেও আসছে বাধা৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ধরনের কর্মসূচিতে বাধা দিলে সংঘাত বাড়বে, যা কারুর জন্যই ভালো নয়৷

default

ফাইল ছবি

মানববন্ধন, লিফলেট বিলির মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সরকারের পতন হয় না৷ তাহলে এ সব কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকারের লাভ কী? বরং সরকারের উচিত বিএনপিকে তাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয়া৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম এ বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এখন বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে আন্দোলন করছে, সেটার জন্য তারা প্রশংসা পেতে পারে৷ তাদের এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার কাজটা ঠিক করছে না৷ যদি এই অবস্থা চলতে থাকে তাহলে আমরা দেখব যে সামনের দিনে সংঘাত বেড়ে গেছে৷''

অডিও শুনুন 03:37
এখন লাইভ
03:37 মিনিট

‘বিএনপির এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে সরকার কাজটা ঠিক করছে না’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা দেখছি, এখনো দুই দলের জন্য মাঠ সমান না৷ বিএনপিকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না৷ এক্ষেত্রে সরকারের উচিত তাদের সেই সুযোগ দেয়া৷ নাহলে মানুষ সরকারকেই অভিযুক্ত করবে৷ বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে হলে এই সুযোগ-সুবিধা তো তাদের দিতেই হবে৷ আবার বিএনপিরও উচিত, তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করা৷ তারা বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করে না, একাত্তর নিয়েও তাদের অস্পষ্টতা আছে৷ এছাড়া তাদের জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে হবে৷ এ সব বিষয় তারা পরিষ্কার না করলে মানুষও তাদের সঙ্গে থাকবে না৷ আবার সরকারও যেটা করছে, সেটা করে প্রকারন্তরে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে৷''

খালেদা জিয়া মুক্তি না পেলে নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইসলাম বলেন, ‘‘যদি জামিন পেয়েও খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হন এবং নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিতে পারেন, তাহলে কোনো সমস্যা নেই৷ তিনি নিজে অংশ নিতে না পারলেও বিএনপি নির্বাচনে জিতলে তাঁর মামলা প্রত্যাহার হয়ে যাবে৷ তিনি কোনো একটি আসন থেকে উপ-নির্বাচন করে দায়িত্ব নিতে পারবেন৷ তবে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যদি খালেদা জিয়া কারাগারে থাকেন, তাহলে দেশ সংঘাতের দিকেই যাবে৷ সেটা কারো কাম্য না৷''

বিএনপির এই আন্দোলনের নতুন কৌশল অনেক সাধারণ মানুষই পছন্দ করেছেন৷ কিন্তু সেখানেও বেধেছে বিপত্তি৷ রাস্তা বন্ধ করে এই সমাবেশকে বেআইনি বলছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের৷ তাঁর মতে, রাস্তা বন্ধ করে সভা-সমাবেশ করায় পুলিশ বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে৷ এই ঘটনার জন্য বিএনপি নিজেরাই দায়ী৷

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবুকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ৷ ওবায়দুল কাদেরের মতে, বিএনপির নেতাকর্মীরা মামলার আসামি৷ আসামিরা এমনিতেই পালিয়ে পালিয়ে থাকে৷ সমাবেশের পর মামলার আসামিদের যদি পুলিশ সামনে পায়, তহলে কি তাকে ছেড়ে দেবে?

অডিও শুনুন 01:25
এখন লাইভ
01:25 মিনিট

‘আওয়ামী লীগের এমনই গণতন্ত্র যে আমরা সামান্য একটা কর্মসূচিও করতে পারছি না’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চ আওয়ামী লীগ সমাবেশ করলেও বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ এই অভিযোগের বিষয়ে জনাব কাদের বলেন, ‘‘সভার অনুমতি দেওয়া মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যাপার৷ দলীয়ভাবে এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ইন্টারফেয়ার আছে – এটা মনে করা ঠিক নয়৷ বিএনপি মহাসচিব জনাব আলমগীর বলেন, ‘‘এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র, আমরা সামান্য একটা কর্মসূচিও করতে পারছি না৷’’ অথচ ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বুধবার সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ৷ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে এই স্থানে জনসভা করতে চাইলেও সেই অনুমতি পায়নি দলটি৷

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডয়চে ভেলে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এখন ‘গণতন্ত্রহীন অবস্থা' চলছে৷ আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও করতে পারছি না৷ অথচ আওয়ামী লীগের সমাবেশে যাওয়ার সময় নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে৷ এর কোনো বিচার হচ্ছে না৷’’ এমন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে? এ প্রশ্নের জবাবে জনাব চৌধুরী বলেন, ‘‘জনগণের ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে গেলে জুলুম চালিয়ে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না৷ বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবে৷’’

প্রতিবেদনটি নিয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাই৷ তাই লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়