বিএনপির ব্যর্থতার কারণ বললেন শেখ হাসিনা | বিশ্ব | DW | 31.12.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বিএনপির ব্যর্থতার কারণ বললেন শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মাঠ পর্যায়ে তেমন একটা তৎপর ছিল না৷ তাই পরাজিত হয়েছে৷

সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তিনি বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মাঠ পর্যায়ে তেমন একটা তৎপর ছিল না৷ তাই পরাজিত হয়েছে৷ এছাড়া তাদের মূল নেতৃত্বেও সমস্যা ছিল বলে মনে করেন তিনি৷

টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ৷ একটানা এতটা সময় কোনো দল সরকারে থাকেনি৷ তাই ইতিহাস তৈরি করেছে তারা৷

তবে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় ভোটের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ কাটেনি সাধারণের মনে৷ বেশকিছু জায়গায় অনিয়মের অভিযোগও আছে৷ এ অবস্থায় এসব নিয়ে গণভবনে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ জানান, ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি'র পরাজয়ের কারণ নিয়ে তাঁর মতামত৷

‘‘নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসন পেয়েছে তাদের নিজেদের কারণে৷ নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের প্রধান কে হবে তা তারা দেখাতে পারেনি,'' বলেন তিনি৷

বিএনপিতে মূল নেতৃত্বের অভাব ছিল: হাসিনা

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের ব্যাঙ্কোয়েট হলে অনুষ্ঠিত হয় এই মতবিনিময় সভা৷ 

হাসিনা বলেন, ‘‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকালে আপনারা দেখবেন, কংগ্রেসও গত নির্বাচনের আগে দেখাতে পারেনি তাদের প্রধান কে হবেন? তারা মানুষকে ওইভাবে আকৃষ্ট করতে পারেনি৷ ঐক্যফ্রন্টের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে৷''

বিএনপি যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

‘‘তারা ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে৷ একেকটা আসনে চার জন, পাঁচ জন, তিন জন করে নোমিনেশন দিয়েছে৷ এতে কেউ আর সেভাবে মাঠে কাজ করেনি৷ কে কী করবে না করবে না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কেউ কাজ করেনি,'' বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি৷

আইনজীবী হিসেবে কামাল হোসেন ভালো হলেও নির্বাচন জেতার কোনো অভিজ্ঞতা তাঁর নেই বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা৷

এছাড়া মানবতাবিরোধীদের মনোনয়ন দেয়ায় মানুষ বিএনপি জোটকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী৷

‘‘বিএনপি তাদের জোটে মানবতাবিরোধীদের নোমিনেশন দিয়েছে৷ একাত্তরে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন৷ সেই দলের ২৫ জনকে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিয়েছে, এজন্য তাদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে৷''

সরকারপ্রধান বলেন, বিএনপি শীর্ষ পর্যায় থেকেই দূর্নীতিতে জড়িত৷

‘‘বিএনপির মূল লিডাররা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত এবং আদালতের রায়ে অভিযুক্ত৷ তাদের একজন কারাগারে ও অন্যজন পলাতক৷ সুতরাং তাদের মূল নেতৃত্বের অভাব ছিল৷ পরাজয়ের এটিও একটি কারণ৷''

এছাড়া, বিরোধী শিবির মাঠ পর্যায়ে তৎপর ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷

‘‘আমরা বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করেছি, তারা নির্বাচনি কোনো কাজ করেনি। কয়েকজনের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও অনেকেই অ্যাক্টিভিটি না করে প্রোপাগান্ডা ছাড়া সেরকম কিছু করেনি,'' বলেন হাসিনা৷

অডিও শুনুন 03:58

সইফুল আলম চৌধুরী

এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শুরু থেকেই এক রকমের ধোঁয়াশা ছিল ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে৷''

‘‘অস্পষ্ট ছিল তাদের উদ্দেশ্য৷ বার বার পরিবর্তন হয়েছে,'' বলেন সাইফুল৷ ‘‘তারা বলল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়, তারপর সেখান থেকে সরে এসে বলল, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চায়৷''

সাইফুল যোগ করেন, ‘‘প্রথমে তারা বলল, নির্বাচনে জেতার লক্ষ্য ছিল না ঐক্যফ্রন্টের৷ আন্দোলন করাই ছিল মূল লক্ষ্য৷ সব মিলিয়ে অস্পষ্টতা সবসময়ই ছিল৷''

তবে বিএনপিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে এটি মেনে নিতে পারছেন না রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দিন আহমেদ৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘এই যে ক'দিন আগেই তো মেয়র নির্বাচন হলো৷ সবগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে৷ দু'টিতে বিএনপি প্রার্থী জিতেও গেছেন৷ এই ক'মাসে এমন কী হয়ে গেল যে এভাবে জনসমর্থন কমে গেল৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র কেনার সময় কত মানুষ গেল৷ এরা কোত্থেকে এলো?''

অডিও শুনুন 01:07

এমাজউদ্দিন আহমেদ

তবে সাইফুল আলম চৌধুরী মনে করেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগকে জয় এনে দিয়ে নিজেকেই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা৷

‘‘তাঁর অর্জন হলো, বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নারীনেত্রী হিসেবে চারবার সরকার হবার গৌরব অর্জন করেছেন ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ও জীবিতদের মধ্যে শুধু জার্মানির আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ রাজনীতির প্রতি তাঁর যে একাগ্রতা, সেটিই তাঁকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে,'' বলেন সাইফুল৷

হাসিনাকে বিশ্ব নেতাদের শুভেচ্ছা

এদিকে, বিজয়ী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এরই মধ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনাকে৷ চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁকে৷

এছাড়া  ভুটানের রাজা,  প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন