বিএনপির টার্গেট কী, আওয়ামী লীগ কী ভাবছে? | বিশ্ব | DW | 01.12.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বিএনপির টার্গেট কী, আওয়ামী লীগ কী ভাবছে?

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে মাঠের আন্দোলনে আছে বিএনপি৷ আর স্বাধীনতার ৫০ বছরের নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলে রাখার পরিকল্পনা আছে আওয়ামী লীগের৷

Kombobild Khaleda Zia und Sheikh Hasina

ফাইল ফটো

 বিএনপি সরকার পতনের কথাও বলছে৷ আওয়ামী লীগ অবশ্য তা আমলে নিচ্ছে না৷ তাহলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে৷

৩০ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে গণ অনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি৷ আর সেই কর্মসূচির পরই আরো ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা৷ ওই দিনের পর থেকে বিএনপি এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো প্রতিদিনই কর্মসূচি পালন করছে৷ মঙ্গলবার দেশের সব বিভাগের সমাবেশে বিএনপি নেতাদের মুখে সরকারের পতন বিষয়টিই বেশি উচ্চারিত হয়েছে৷ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় বলেছেন,"সরকারের পতন শুরু হয়ে গেছে৷” আর কয়েকদিন আগে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, "খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে এখন সরকার পতনের আন্দোলন জরুরি৷”

বিএনপির কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে স্পষ্ট হয়েছে যে, তারা মনে করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সহানুভূতি আছে৷ সাধারণ মানুষ মনে করে যে খালেদার বিদেশে চিকিৎসা সরকারই আটকে রেখেছে৷ বিএনপি চাইছে এই সহানুভূতি কাজে লাগিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঠে নামাতে ৷ তাই তারা এখন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে লাগাতার কর্মসূচি দেবে৷ তবে সরকারের মনোভাবের দিকেও তারা খেয়াল রাখছে যাতে এই কর্মসূচিগুলো সহিংস না হয়ে ওঠে৷ নেতা-কর্মীদের বার বার এই বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে৷ তারপরও পুলিশের সাথে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষ হয়েছে৷

অডিও শুনুন 05:27

‘ খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আন্দোলকে আমরা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি’

বিএনপির নীতি নির্ধারকেরা এখনো অবশ্য সভা-সমাবেশ, অনশনের বাইরে আরো কঠোর কোনো কর্মসূচির কথা ভাবছেন না৷ হরতাল দেয়া হবে কী না জানতে চাইলে এক নেতা জানান, ওই পর্যায়ে এখনো চিন্তা করা হচ্ছে না৷ কারণ এমনিতেই নেতা-কর্মীদের নামে অনেক মামলা৷ নতুন করে আরো মামলা হলে তা সামলানো কঠিন হবে৷

বিএনপি এখন বাইরে কিছুটা গরম আর ভিতরে নরম কৌশলেই আছে৷ তারা সরকারকে নানাভাবে বোঝাতে চেষ্টা করছে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানো হলে এটা নিয়ে তারা কোনো রাজনীতি করবে না৷ তবে এই কৌশলে মাঠের দখল নিতে পারলে ভবিষ্যতের কর্মসূচি অন্যরকমও হতে পারে৷
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন,"সরকার পতনের আন্দোলন তো আমরা আগে থেকেই করছি৷ আর এখন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আন্দোলনও একই সঙ্গে চলছে৷ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর আন্দোলকে আমরা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি৷ আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই৷ এই কর্মসূচি শেষে আমরা আরো কর্মসূচি দেব৷ কিন্তু সরকার যদি আমাদের পয়েন্ট অব নো রিটার্নে নিয়ে যায় তাহলে তো সংঘাত অনিবার্য৷ সেটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের জন্য আমরা সেটা চাই না৷”

তার মতে,"খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠালে তো সরকারের পতন হয়ে যাবে না৷ সরকারের কিসের এত ভয়? তাকে সরকার চাইলে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দিতে পারে৷ কিন্তু সেটা না দিয়ে রাজনীতি করছে৷''

অডিও শুনুন 04:18

‘কেউ যদি আন্দোলনের নামে সহিংসতা করে, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে’

অন্যদিকে সরকার আসলে বিএনপিকে সীমিত আন্দোলনের সুযোগ দিচ্ছে৷ প্রশাসন বিএনপির কর্মসূচিগুলোর সময় এবং এলাকাও বেধে দিচ্ছে৷ শর্ত মেনেই বিএনপিকে কর্মসূচি শেষ করতে হচ্ছে৷ আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চায় না ৷ তারা এটা নিয়ে রাজনীতি করছে৷ তারা বিএনপিকে তেমন আমলে না নিলেও সামাজিক যেকোনো আন্দোলন নিয়ে সতর্ক আছে৷ বিশেষ করে ছাত্রদের চলমান অর্ধেক ভাড়া ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে পর্যবেক্ষণ করছে৷ এর আগে কোটা সংস্কার ও নিরপদ সড়ক আন্দোলনের মত এই আন্দোলন যাতে প্রবল হতে না পারে সেদিকে নজর রাখছে৷ সরকার মনে করে, আন্দোলন বড় হয়ে গেলে সেটা বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ কাজে লাগাতে পারে৷ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সেই চিন্তা স্পষ্টও করেছেন৷ তিনি দাবি করেছেন,"রামপুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্র নিহতের ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটা বিএনপি জাময়াতের অপকীর্তি কী না খতিয়ে দেখতে হবে৷” আর তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, "একটি মহল ছাত্রদের গায়ে কালিমা লেপনের চেষ্টা করছে৷”  প্রধানমন্ত্রী বলেছেন," দুর্ঘটনা ঘটলে ভাঙচুর কোনো সমাধান নয়৷”

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে বোঝা গেছে যে তারা মনে করেন, দেশে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষমতা বিএনপির নাই৷ তাদের নেতা-কর্মীরা নিজেদের নিরাপদে রেখেই নানা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন৷ সহিংস হওয়ার মত সাহস তাদের নেই৷ বিরোধী দলগুলোকে রাজনীতির সুযোগ দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরো কিছু দেশের চাপও আছে ৷ তাই সরকার নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে আপাতত বাধা দেবে না৷

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন,"আওয়ামী লীগ কোনো আন্দোলনের হুমকিতে ভয় পায় না৷ দেশের সব মানুষের সব দলের বাক স্বাধীনতা আছে, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার আছে৷ কিন্তু কেউ যদি আন্দোলনের নামে সহিংসতা করে৷ জ্বালাও পোড়াও করে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে৷ আমরা আওয়ামী লীগ তাদের সহায়তা করব৷”

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,"বিএনপির নেতৃত্ব এমন পর্যায়ে নেমে গেছে যে তারা এখন তাদের নেত্রীর মৃত্যু হলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়৷ তারা যদি খালেদা জিয়ার সত্যিকারের চিকিৎসা চাইতো, চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চাইতো তাহলে তার দণ্ড মওকুফের জন্য দোষ স্বীকার করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করত৷ তারা সেই আইনি পথে না গিয়ে আন্দোলন করছে৷ রাজনীতি করছে৷”

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়