বিউটি হত্যাকাণ্ডে বাবাসহ তিনজন জড়িত, ধর্ষণ করেছে বাবুল | বিশ্ব | DW | 08.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বিউটি হত্যাকাণ্ডে বাবাসহ তিনজন জড়িত, ধর্ষণ করেছে বাবুল

হবিগঞ্জের আলোচিত বিউটি আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে৷ আদালতে দেয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, বাবুল ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বিউটির বাবাসহ তিনজন৷

default

প্রতীকী ছবি

বিউটি আক্তারের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল, ‘১৬ মার্চ বাবা সায়েদ আলী বিউটিকে তার নানার বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার গুনিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেন৷ আর ওই দিন রাতেই নানা বাড়ি থেকে বিউটিকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল৷ পরদিন ১৭ মার্চ সকালে হাওরে বিউটির লাশ পাওয়া যায়৷'

গত ২১ জানুয়ারি বিউটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বাবুল ও তার সহযোগীরা৷ এরপর অজ্ঞাত স্থানে একমাস আটকে রেখে বিউটিকে ধর্ষণ করে বাবুল৷ পরে গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে বাবুল পালিয়ে যায়৷ ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদি হয়ে বাবুল ও তার মা ইউপি সদস্য কলম চানকে আসামি করে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন৷ ৪ মার্চ আদালত শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে এ মামলার আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন৷ তখন বাবুলকে গ্রেপ্তার করা না হলেও বিউটির লাশ পাওয়ার পর র‌্যাব ৩১শে মার্চ বাবুলকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে৷ গ্রেপ্তারের পর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায় বাবুল ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যার কথা স্বীকার করেনি৷

অডিও শুনুন 03:11
এখন লাইভ
03:11 মিনিট

‘কেউ বিশ্বাস করতে চাইছে না বিউটির বাবা হত্যার সঙ্গে জড়িত’

৬ এপ্রিল আদালতে জবানবন্দি দেয় বিউটির বাবা সায়েদ আলী এবং ময়না মিয়া নামে একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা৷ ৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা এক সংবাদ সম্মেলনে ঐ জবানবন্দির উল্লেখ করে বলেন, ‘বাবুল নয়, বিউটির প্রকৃত হত্যাকারী তার কথিত চাচা ময়না মিয়া৷ তবে এ হত্যাকাণ্ড বিউটির বাবার উপস্থিতিতেই ঘটেছে৷ তাকে হত্যার সময় বিউটির বাবা সায়েদ আলী পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল৷ এ হত্যাকাণ্ডে আরেকজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি জড়িত ছিল, যে বিউটির হাত-পা চেপে ধরে রাখে৷ আর ময়না মিয়া বিউটির শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে৷'

হত্যার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনে ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনে ময়না মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার, বাবুল মিয়ার মা কলম চানের কাছে পরাজিত হন৷ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুলের পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য বিউটিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল৷''

অডিও শুনুন 00:39
এখন লাইভ
00:39 মিনিট

‘তদন্তের পরই বলা যাবে কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আনা হবে’

স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ নূর উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, ময়না মিয়া বিউটির বাবাকে বুঝিয়েছে বিউটি ‘নষ্ট' হয়ে গেছে৷ আর আরো দুই মেয়ে আছে বিউটির কারণে তাদের বিয়ে দিতে সমস্যা হবে৷ এই কথা বলে বিউটিকে হত্যায় প্ররোচিত করে৷ ১০ হাজার টাকায় একজন ভাড়াটে খুনি এবং ময়না মিয়া সরসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়৷''

পুলিশ সুপার জানান, ‘‘মামলার বাদি বিউটির বাবা সায়েদ আলী আর ময়না মিয়া বিউটি হত্যা ও ধর্ষণ মামলার প্রধান সাক্ষী৷ কিন্তু এ মামলা সম্পর্কে তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় প্রথমে ময়না মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ আর সেখান থেকেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে৷ দু'জনকেই জিজ্ঞাসাবাদের পর এই হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে৷''

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রাহমান জানান, ‘‘এই ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে বিউটির নানী এবং ময়না মিয়ার স্ত্রীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন৷ এখন আমরা মোট চার জনের জবানবন্দি ধরে তদন্ত করছি৷ ভাড়াটে খুনি হিসেবে যার নাম জানা গেছে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি৷ তদন্তের পরই বলা যাবে কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আনা হবে৷ আমরা মামলার চার্জশিটে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলে দেব৷''

অডিও শুনুন 00:57
এখন লাইভ
00:57 মিনিট

‘আমার ছেলেকে ফাঁসানো হতে পারে’

তিনি আরো বলেন, ‘‘তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে৷ প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আমরা দুইজনকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছি৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত মামলার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় তা এখনই বলা যায় না৷''

মোহাম্মদ নূর উদ্দিন বলেন, ‘‘এলাকার কেউ বিশ্বাস করতে চাইছে না যে বিউটির বাবা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে৷ তারা বিস্মিত৷ এমনকি জবানবন্দিতে বিউটির বাবা কোন স্বার্থের কারণে এটা করেছেন তা বলেননি৷''

বিউটির দাদা সনজব আলীও বিশ্বাস করেন না যে তার ছেলে নিজের মেয়েকে হত্যার সঙ্গে জড়িত৷ তিনি বলেন,‘‘আমার বিশ্বাস হয় না আমার ছেলে তার মেয়েকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে৷ তাকে ফাঁসানো হতে পারে৷ ময়না মিয়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত৷ আমি ঘটনার রাতে বাড়িতেই ছিলাম এরকম কোনো আলামত পাইনি৷''

এদিকে পুলিশের ভয়ে নিহত বিউটিদের বাড়ির প্রায় সব আত্মীয় স্বজন বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন৷ বিউটির দুই বোনকে নিয়ে তার মা হবিগঞ্জ শহরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে গেছেন৷

অডিও শুনুন 03:44
এখন লাইভ
03:44 মিনিট

‘ময়না মিয়া তার ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে সুযোগ নিয়েছে’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী নূর খানের কাছে হত্যার কারণ কি হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘‘মামলার তদন্ত এখনো চলছে, তাই বিউটির বাবা মেয়ে হত্যায় জড়িত কিনা আর জড়িত হলেও তা কিভাবে বলার সময় এখনো আসেনি৷ জবানবন্দি ধরে পুলিশকে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে৷ যদি ধরেও নিই যে সায়েদ আলী তার কিশোরী মেয়েকে হত্যার সঙ্গে জড়িত তাহলে তার প্রেক্ষাপট কী? সমাজে এমন অবস্থা বিরাজ করছে যে ধর্ষণের শিকার নারী সমাজে কলঙ্কিত হিসেবে চিহ্নিত হয়৷ পরিবারের অন্য নারী এবং সদস্যদের একই কলঙ্কের দায় নিতে হয়৷ পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসে৷ আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে অন্য কেউ৷ পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করতে পারে৷ এখানে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ময়না মিয়া প্ররোচিত করেছে, তার ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে সুযোগ নিয়েছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আগেই যদি পুলিশ ধর্ষক বাবুলকে গ্রেপ্তার করতো তাহলে হয়তো এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটতো না৷ আর যদি সমাজ এবং সমাজপতিরা বিউটি ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর তার এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতো, যদি পরিবারটিকে সাহস দিতো, অভয় দিতো, ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতো, তাহলে ময়না মিয়ারা সুযোগ নিতে পারতো না, বিউটির বাবাকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে দিয়ে তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারতো না৷ এই ঘটনার মূলে রয়েছে বিচারহীনতা৷ ঘৃণা ছড়ানো এবং সামাজিক লেভেলিং৷''

মানবাধিকার কর্মী নূর খানের বক্তব্যের সঙ্গে আপনি একমত? লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়