‘বায়ুদূষণ রোধে সরকারের উদ্যোগ তেমন দৃশ্যমান নয়’ | বিশ্ব | DW | 06.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘বায়ুদূষণ রোধে সরকারের উদ্যোগ তেমন দৃশ্যমান নয়’

সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, বিশ্বে বায়ুদূষণে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে৷ তবে রাজধানী হিসেব করলে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়তে৷ আর শহরের হিসেবে ঢাকা আছে ১৭ নম্বরে৷

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এয়ারভিজ্যুয়াল ‘বিশ্ব বাতাসের মান প্রতিবেদন ২০১৮’ শীর্ষক ওই গবেষণাটি প্রকাশ করেছে৷ এতে দেশের তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে পাকিস্তান ও ভারত৷

বাতাসে ক্ষুদ্র কণিকার উপস্থিতির পরিমাণ হিসেব করে বায়ুদূষণের মাত্রা হিসাব করা হয়৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লিউএইচও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে বাতাসে ক্ষুদ্র কণিকার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম২.৫) গড় মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে সর্বোচ্চ ১০ মাইক্রোগ্রাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে৷ কিন্তু ঢাকার বাতাসে এই কণিকার মাত্রা ২০১৮ সালে প্রতি ঘনমিটারে পাওয়া যায় ৯৭ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রাম, যা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি৷ তবে এক বছর আগে ২০১৭ সালে এই মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭৯ দশমিক ৭ মাইক্রোগ্রাম৷ ২০১৭ সালে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল মঙ্গোলিয়া৷

দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান ও ভারতের বাতাসে ক্ষুদ্র কণিকার মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৩ ও ৭২ দশমিক ৫ মাইক্রোগ্রাম ছিল৷ চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান ও বাহরাইন৷ এরপর রয়েছে যথাক্রমে মঙ্গোলিয়া, কুয়েত, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নাইজেরিয়া৷

সবচেয়ে কম দূষিত দেশ হিসেবে তালিকার নীচের দিকে রয়েছে যথাক্রমে আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, এস্তোনিয়া ও সুইডেনের নাম৷

বিশ্বের ৭৩টি দেশকে নিয়ে এই গবেষণা করা হয়৷ এইসব দেশের শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭তম হলেও রাজধানী শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়৷ আর শীর্ষ দূষিত রাজধানী ভারতের নতুন দিল্লি৷

বায়ুদূষণের শীর্ষ তালিকায় থাকা রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের তালিকায় প্রথম ২০টির মধ্যে ১৫টিই ভারতের৷ বাকি পাঁচটি হলো, ঢাকা, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ ও লাহোর এবং চীনের হোতান ও কাশগর৷ ভারতের গুরগাঁও সবচেয়ে দূষিত শহর৷

দূষণের কারণ

 বাংলাদেশে বায়ুদূষণেরপ্রধান কারণ হিসেবে ইটভাটা এবং যানবাহনের জ্বালানি তেলকে দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি সারাদেশের অবস্থা খারাপ বলবনা৷ তবে ঢাকার বায়ুদূষণের অবস্থা খারাপ৷ এটা অস্বীকার করে কোনো লাভ নেই৷ ঢাকার বায়ুদূষণের ৫০ শতাংশ কারণ শহরের আশেপাশের ইটভাটা৷ এরপর রয়েছে নির্মাণকাজ৷ নির্মাণকাজের কারণে বাতাসে প্রচুর ধুলো যুক্ত হয়৷ এরপরে রয়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত জ্বালানি৷ এছাড়া নতুন একটি কারণে বাতাস দূষিত হচ্ছে, তা হলো বর্জ্য পোড়ানো৷ ঢাকায় এখন নানা ধরণের বর্জ্য পোড়ানো হয় এবং এটা দিন দিন বাড়ছে৷ শিল্প কারখানার মধ্যে স্টিল রিরোলিং মিল বায়ু দূষণ করে, ক্ষুদ্র কণা ছড়ায়৷ এরপরে আছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরি৷’’

অডিও শুনুন 06:05

ঢাকার বায়ুদূষণের অবস্থা খারাপ এটা অস্বীকার করে কোনো লাভ নেই: মো. জিয়াউল হক

তিনি বলেন, ‘‘ঢাকার বাইরেও বায়ুদূষণের কারণগুলো প্রায় একই রকম৷ তবে ঢাকার বাইরে বায়ুদূষণ অনেক কম৷ তাই আমি মনে করি এই প্রতিবেদনটি ঠিক নয়৷ এখানে পদ্ধতিগত সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি৷ কারণ ঢাকার বাইরে দূষণ অনেক কম৷ তাহলে বাংলাদেশ কীভাবে দূষণে এক নম্বর হয়?’’

মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘‘আমরা বায়ুদূষণ মনিটর করি৷ ঢাকাসহ সারাদেশে ১৭টি পয়েন্টে মনিটরিং-এর ব্যবস্থা আছে৷ আমাদের যন্ত্রপাতি আছে৷ তবে বায়ুদূষণ কমিয়ে আনায় আমাদের একক কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই৷ আমরা ইটভাটার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারি৷ ইটের বিকল্পের জন্য প্রচার চালাতে পারি৷ কিন্তু দূষণের জন্য আরো অনেক কিছু দায়ী, যেখানে আমাদের ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই৷ এখানে সমন্বয়ের অভাব আছে৷ আর সচেতনতা তৈরির কাজও কার্যকরভাবে হচ্ছেনা৷’’

‘সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়’ 

অডিও শুনুন 05:19

দূষণ রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তেমন দক্ষ ও তৎপর নয়: ড. শহীদ আখতার হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এয়ার কোয়ালিটি রিচার্স অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এর প্রকল্প ম্যানেজার এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ আখতার হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বায়ুদূষণের ঘটনা দুইভাবে ঘটে৷ একটি হলো ক্ষুদ্র কণিকার কারণে৷ আকেটি হলো নানা কেমিকেল ও দূষিত পদার্থের কারণে৷ বাংলাদেশে ক্ষুদ্র কণিকার মাধ্যমে বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি৷ আর প্রধান কারণ এখন ইট ভাটা৷ তবে বাংলাদেশের ব্যাপারে যতটা বলা হচ্ছে ততটা নয়৷ দিল্লিতে স্কুল, কলেজ দূষণের কারণে বন্ধ করে দিতে হয়৷ আমাদের এখানেতো তা হয়না৷ আর দূষণের কারণ যে আমাদের দেশই, শুধু তা নাও হতে পারে৷ পার্শ্ববর্তী দেশের কারণেও দূষিত হতে পারে৷ আর আমাদের এখানে বায়ুদূষণটা সিজনাল৷ শীতের সময় বেশি হয়৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করছি৷ আর নানা রোগের সঙ্গে এর কী কার্যকারণ সম্পর্ক আছে তাও আমরা দেখার চেষ্টা করছি৷’’

অধ্যাপক ড. শহীদ আখতার হোসেন বলেন, ‘‘এই বায়ুদূষণ রোধে সরকারের উদ্যোগ তেমন দৃশ্যমান নয়৷ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তেমন দক্ষ এবং তৎপর নয়৷ দূষণ পরিমাপে যেসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তাও তত আধুনিক নয়৷ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেই বললেই চলে৷’’ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন