বাড়িতে বসে নববর্ষ উদযাপন করুন: প্রধানমন্ত্রী | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 13.04.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাড়িতে বসে নববর্ষ উদযাপন করুন: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এ বছর দেশবাসীকে বাড়িতে বসে নতুন বছর উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নববর্ষ উপলক্ষ্যে রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী৷ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অনলাইনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্প্রচার করা হয়৷

ভাষণে হাসিনা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের ‍দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান৷

স্বাস্থ্যকর্মীরা ছাড়াও এই সংকটকালীন সময়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তাদের সম্মানী ও বীমার জন্য ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানান তিনি৷ 

বলেন, ‘‘মহামারি প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷''

তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের আস্বস্ত করে বলেন, দেশে সুরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই৷ নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা৷

‘‘একইসঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনভাবেই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে নজর রাখার জন্য আমি প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি৷''

করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত৷ এ অবস্থায় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চারটি মূল কাজের পরিকল্পনা তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী৷

অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রণোদনা দেশের জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ৷

শেখ হাসিনা বলেন,  ‘‘বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আমাদের অর্থনীতির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ আমরা জানি না এই সংকট কতদিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে৷ তবুও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি৷''

প্রধানমন্ত্রী যে চারটি কার্যক্রমের কথা বলেছেন

>> সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা: সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে৷

>> আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন: অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুন্ন রাখা হল আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য৷

>> সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি: দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে৷

>> মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা: অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে৷

তিনি কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক টুকরো জমিও ফেলে ‍না রেখে সেখানে আবাদ করুন৷

‘‘এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরও জোরদার করতে হবে৷ সামনের দিনগুলোতে যাতে কোনো প্রকার খাদ্য সঙ্কট না হয়,  সেজন্য আমাদের একখণ্ড জমিও ফেলে রাখা চলবে না,'' বলেন শেখ হাসিনা৷

এসএনএল/এফএস

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়