বাসটির বিরুদ্ধে আগে ২৭টি মামলা হয়েছে | বিশ্ব | DW | 21.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাসটির বিরুদ্ধে আগে ২৭টি মামলা হয়েছে

ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় মঙ্গলবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরীকে চাপা দেয়া সুপ্রভাত পরিবহণের বাসটির বিরুদ্ধে আগে ২৭টি মামলা হয়েছে৷ নেই ‘রুট পারমিট', চালকের নেই লাইসেন্স৷ তারপরও বাসটি সড়কে চলত নির্বিঘ্নে৷

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে জানান, ‘‘ওই বাসটির বিরুদ্ধে আগে শুধু ২৭টি মামলাই নয়, বাসটির রুট পারমিটও নেই৷ রুট পারমিট ছিল ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়ার৷ তারপরও বাসটি ঢাকা শহরে চলাচল করত৷''

এমনকি বাসটির চালক সিরাজুল ইসলামের বাস (ভারী যানবাহন) চালানোর কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সও ছিল না৷ ছিল শুধু হালকা (প্রাইভেট কার) যানবাহন চালানোর লাইসেন্স৷ আটক হওয়ার পর সে স্বীকার করেছে যে ঘটনার সময় সে মাদকাসক্ত ছিল৷ সে নাকি গাঁজা না খেয়ে গাড়ি চালাতে পারে না৷

এদিকে সুপ্রভাত ও জাবালে নূর পরিবহণের বসগুলোর চলাচল নগরীতে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ কিন্তু নিষিদ্ধ হতে পারে এটা আঁচ করতে পেরেই সুপ্রাভাত পরিবহণের বাসগুলো নাকি রং পরিবর্তম করে সম্রাট পরিবহণ নামে নগরীতে চলাচলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে৷ অভিযোগ অন্তত এমনটাই৷

এর আগে গত জুলাই মাসে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ও জাবালে নূর পরিবহণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল৷ কিন্তু কিছুদিন পরই জাবালে নূরের বাসগুলো সড়কে ফিরে আসে৷ মঙ্গলবার রাজধানীর নর্দ্দার বসুন্ধরা এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস-এর (বিইউপি) ছাত্র আবার নিহত হয় সুপ্রভাস বাসের চাপায়৷ তখন সুপ্রভাত ও জাবেলে নূরের দু'টি বাস যাত্রী ধরার জন্য প্রতিযোগিতা করছিল৷ জানা যায়, এ ঘটনার ঠিক আগেই সুপ্রভাত পরিবহণের বাসটি আরেক নারীকে ধাক্কা দিয়েছিল৷

সুপ্রভাত ও জাবেলে নূরের ওই দু'টি বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হলেও, তাদের বাকি বাসগুলোর চলাচল স্থগিত করা হয়েছে কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখার জন্য৷ ওই দু'টি পরিবহণের বাস আছে ১২০টি৷ আর সুপ্রভাত পরিবহণের ওই বাসের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও, তাকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ বাসের মালিক গোপাল সরকার নানাভাবে সক্রিয় থাকলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে পুলিশ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ওদিকে ছাত্ররা নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবারও নগরীতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে৷ বসুন্ধরা এবং নর্দ্দা এলকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে৷ শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং পুরনো ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে৷ এ সব কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ৷ বসুন্ধরা এলাকায় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ফুল দিয়ে এবং পানি পান করিয়ে সহমর্মিতা দেখায়৷ আর পুলিশ কমিশনার নিজেই ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে স্বীকার করেছেন, ‘‘পরিবহণে খাতে নৈরাজ্য চলছে৷ আমরা শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছি৷ এর দায় সবাইকে নিতে হবে৷''

আন্দোলন

বিইউপি-র শিক্ষার্থীরদের একাংশ বুধবার তাদের আন্দোলন ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে৷ তবে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে নতুন কোনো কর্মসূচি দেয়নি বিইউপি-র শিক্ষার্থীদের একাংশ৷ মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিইউপি-র শিক্ষার্থী ফাহমিন চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা সম্পূর্ণ অহিংস উপায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি৷ গতকাল (বুধবার) আমরা সড়ক অবরোধ করেছিলাম, আজকে আমরা কোনো অবরোধে যাইনি৷ আমরা চাই না যে কোনো জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হোক৷ সরকার সাত দিন সময় চেয়েছে, আমরা সময় দিয়েছি৷ শুক্র ও শনিবার আমাদের বন্ধ৷ রবিবার থেকে আবারও আমরা সড়কে থাকবো৷''

দায় কার?

বাংলাদেশে গতবছর ৫ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে৷ তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ সব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৬৬ জন৷ গত ২৯ জুলাই হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসে চাপা পড়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবি ওঠে৷ কিন্তু সড়ক নিরাপদ হয়নি৷

অডিও শুনুন 06:28

খন্দকার এনায়েত উল্যাহ: চালকদের শতকরা ৮০ ভাগ মাদকাসক্ত

ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার বিবেচনায় প্রধানত তিনটি কারণ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী৷ চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো, পরিবহণ শ্রমিকদের মাদকাসক্তি এবং বেপরোয়া পথচারী৷'' তিনি জানান, ‘‘গত জুলাই মাসে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর আমরা চালকদের বেতনভুক্ত করার চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু চালক আর কিছু মালিকের কারণে শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি৷ চালক যেমন বেশি টাকার আশায় চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালাতে চায়, তেমনি মালিকও নানা ঝামেলা, চাঁদাবাজি ইত্যাদির কারণে চুক্তিতেই স্বাচ্ছন্ন বোধ করেন৷ ফলে বেপরোয়া ড্রাইভিং বন্ধ হচ্ছে না৷ এছাড়া চালকদের শতকরা ৮০ ভাগ মাদকাসক্ত৷ ফলে তারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে গাড়ি চালায়৷ অন্যদিকে পথচারীরা সড়কের আইন মানেন না৷ তারা হেডফোন কানে দিয়ে রাস্তা পার হন৷ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন না৷''

তিনি আরেক প্ররশ্নর জবাবে বলেন, ‘‘ঢাকায় ১৫০টির মতো পরিবহণ কোম্পানি আছে৷ একটি পরিবহণ কোম্পানিতে অনেক মালিকের গাড়ি আছে৷ যে গাড়ি বেআইনি কাজ করে, যে ড্রাইভার অপরাধ করে, তাকে শাস্তি দিন৷ কিন্তু তাই বলে ওই কোম্পানির সব বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয় না৷''

মালিকরা কেন দক্ষ চালক নিয়োগ দেয় না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘চালকের স্বল্পতা আছে৷ গাড়ির তুলনায় চালক অনেক কম৷ তাদের প্রশিক্ষণেরও কোনো ব্যবস্থা নেই৷ আমরা বার বার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা বলছি৷ কিন্তু সরকার বা কেউ তা আমলে নিচ্ছে না৷''

অডিও শুনুন 02:56

এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ: মানুষের জীবনরক্ষার দায়িত্ব পুলিশের

মুনাফাই আসল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পুলিশ কমিশনার সড়কে নৈরাজ্যের কথা বলেছেন, বলেছেন সবাই দায়ী৷ কিন্তু সড়কে থাকে পুলিশ৷ তাই সবার আগে দায়িত্ব পুলিশের৷ তারা যে কোনো পরিবহণ অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারেন৷ মানুষের জীবনরক্ষার দায়িত্ব তাদের৷ বিআরটিএ, সিটি কর্পোরেশনসহ আরো অনেক সংস্থাকে দায়ী করা যাবে৷ কিন্তু ‘অন স্পট' দেখার দায়িত্ব পুলিশের৷ তারাই ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন৷ কিন্তু তারা দেখছেন না৷ ওই বাসটির বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা তো পুলিশই দিয়েছে৷ কিন্তু এরপর পুলিশ কী করেছে? এদের রুট পারমিট নেই৷ পুলিশ কেন তাদের আটকায়নি?''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এখানে এখন মুনাফার প্রতিযোগিতা চলছে৷ আমরা বলেছিলাম চালকদের নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি দাও৷ তারা যেন ঘুমাতে পারে৷ এটা হলে তারা মাদকাসক্ত হতো না৷ কিন্তু মুনাফার কারণে সেটা হচ্ছে না৷ এখান থেকে পরিবহণের বাইরেও অনেক পক্ষ মুনাফা নেয়৷ রাজনীতিও তাই৷''

প্রসঙ্গত, সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য ২০টি প্রতিষ্ঠান কাজ করে বাংলাদেশে৷ কিন্তু তাদের কাজের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই৷ চালকদের ৮০ ভাগ লাইসেন্স ভুয়া বলে জানান পরিবহণ মালিকরাই৷ আর যাঁরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন, তাঁদের শতকরা ৪৬ ভাগই পথচারী৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন