বার্লিনে বায়ুদূষণ রোধের উপায় কী? | বিশ্ব | DW | 11.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

বার্লিনে বায়ুদূষণ রোধের উপায় কী?

জার্মানির রাজধানী বার্লিন দূষিত বায়ুর জন্য কুখ্যাত৷ স্থানীয় সরকার প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচলে নির্দিষ্ট গতি নির্ধারণ করে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে৷ পরিবেশবাদীরা বলছেন, জার্মানিতে যানবাহনে ডিজেল নিষিদ্ধের বিকল্প নেই৷

বার্লিনের পরিবেশ যে দূষিত এটা আজ আর কোনো গোপন বিষয় নয়৷ এটা সবাই জানে যে, বার্লিনের ট্রেন অপরিষ্কার, পার্কগুলোতে প্রচুর সিগারেটের খোসা, রাস্তায় রাস্তায় পুরোনো আসবাবের স্তূপ৷ বার্লিনের বাতাস এখন এতটাই দূষিত যে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের লঙ্ঘন করছে৷ এর ফলে প্রাণও হারাচ্ছে সেখানকার মানুষ৷

তবে এটা যে সাম্প্রতিক সমস্যা তা কিন্তু নয়৷ ৭০ ও ৮০'র দশকে স্টোভে কয়লা ব্যবহারের জন্য ব্যাপক বায়ু দূষণের কবলে পড়েছিল শহরটি৷ সে সময় কয়লা ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল৷ ৯০-এর দশক এবং এরপরের এক দশকে দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বায়ুতে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি৷ কেবল সিটি সেন্টারকে করা হয়েছে ‘পরিবেশ জোন', যেখানে কম কার্বন নিঃসরণ করে  এমন গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে৷

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শহরটি বাতাসে বিভিন্ন ধরণের বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে৷ সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো বাতাসে নাইট্রোজেন অক্সাইডের উপস্থিতি৷ আর এই পদার্থটি ডিজেলচালিত গাড়ি বা ট্রাক থেকে বের হয়৷

বাতাসে বেশি নাইট্রোজেন অক্সাইডের উপস্থিতি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এবং হৃদরোগের সমস্যার জন্য দায়ী৷ এর ফলে মানুষের শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিসসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷

জার্মান পরিবেশ সংস্থা ইউবিএ একটি নতুন গবেষণায় দেখেছে, বাতাসে যদি খুব কম মাত্রায়ও নাইট্রোজেন অক্সাইড থাকে, তাতে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ফুসফুসে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শিশু ভূমিষ্ট হওয়া– এমন নানা রোগ হতে পারে৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বেসরকারি সংগঠন এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন জার্মানি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন রেশ বলেন, ‘‘এর ফলে মানুষের ভয়াবহ রকম স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে৷ এই গবেষণাতেই দেখা গেছে, নাইট্রোজেন অক্সাইডের কারণে প্রতি বছর ৮ লাখেরও বেশি মানুষ এ ধরণের নানা রোগে ভুগছে এবং এসব রোগের কারণে মানুষের মৃত্যুও হচ্ছে৷ ইউরোপিয়ান এনভারনমেন্ট এজেন্সি দেখেছে নাইট্রোজেন অক্সাইডের কারণে প্রতি বছর জার্মানিতে ১২ হাজার ৮০০ শিশু জন্মের সময় মারা যাচ্ছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার চার গুণ৷''

বার্লিন সেনেট পুরো শহরের ১৬টি স্থানে বায়ু দূষণ পরিমাপক যন্ত্র বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে৷ এ যন্ত্র দিয়ে প্রতি ৫ মিনিটে বায়ুতে কী পরিমাণ দূষিত পদার্থ মিশছে তা পরিমাপ করা যাবে৷

জার্মানি কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবে?

পরিবেশবাদীদের মতে, এর প্রাথমিক উপায় একটাই৷ আর তা হলো, নাইট্রোজেন অক্সাইডের প্রধান উৎস ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ করা৷

জার্মানিতে যেসব গাড়ি চলে, তার মধ্যে প্রতি তিনটির মধ্যে একটিতে ডিজেল ব্যবহৃত হয়৷ অচিরেই জার্মানির সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে দেশের সব শহরে বায়ুদূষণ রোধে ডিজেল চালিত গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা৷ কিন্তু গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর প্রতিবাদের মুখে তা এখনো কার্যকর হয়নি৷ তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই নির্দেশ বাস্তবায়নের পক্ষে৷

এছাড়া প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির গতি সীমিত করার কথা ভাবছেন বার্লিন কর্তৃপক্ষ৷ এ মাসের শেষ থেকেই ৫টি প্রধান সড়কে গাড়ির গতিসীমা প্রতি ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের কম রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে৷ যদি এটি সাফল্য পায়, আরো অনেক সড়কে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বার্লিন সেনেট৷ এছাড়া ফুটপাথ এবং বাইক লেনগুলোর উন্নতি সাধন এবং গণপরিবহনে সুযোগসুবিধা বাড়ানো উচিত বেলে মনে করছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো৷

আন্নে সোফি ব্র্যান্ডলিন/এপিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন