বার্লিনে আছে এক শরণার্থী শিবির | জার্মানি ইউরোপ | DW | 16.01.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি ইউরোপ

বার্লিনে আছে এক শরণার্থী শিবির

সিরিয়া, আফগানিস্তান, সোমালিয়া – এই ধরনের সংকটপূর্ণ অঞ্চল থেকে দেশ ছাড়তে হয় অনেক মানুষকে, আশ্রয় নিতে হয় অন্যান্য দেশে শরণার্থী হিসাবে৷ গত অক্টোবর মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে বেশ কয়েক হাজার শরণার্থী এসেছেন জার্মানিতে৷

জার্মানির রাজধানী বার্লিন শরণার্থীদের স্রোত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে এখন৷ এজন্য বেশ কিছু জরুরি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে শহরটিতে৷ তবে সেই সব কেন্দ্রকে শুধু মাত্র মাথা গোজার ঠাঁই বলা যায়৷ এই রকমই একটি দালানের এক কক্ষে দাঁড়িয়ে সব কিছু লক্ষ্য করছিলেন কেন্দ্রের পরিচালক মিশাইল গ্রুনেভাল্ড৷ ঘরটি প্রায় নিরাভরণ, ডানদিকে চারটি, বাঁদিকে দুটি ক্যাম্প খাট পাতা৷ পাশে একটা টেবিল৷ জানালায় পাতলা পাতের পর্দা৷ এই কেন্দ্রটি আগে পুলিশ অফিস ছিল৷

বাসোপযোগীকরণ

মিশাইল গ্রুনেভাল্ড জানান, ‘‘আমরা এখানে আসার পর তৃতীয় তলাটিকে সম্পূর্ণ নতুন আসবাবপত্র দিয়ে ঠিক করেছি৷ আনা হয়েছে নতুন বিছানা, আলমারি, টেবিল-চেয়ার ইত্যাদি৷ অন্তত পক্ষে শরণার্থীদের একটা বাসযোগ্য স্থান দেয়ার চেষ্টা করেছি আমরা৷''

ধূসর বর্ণের কংক্রিটের প্লেটের তৈরি তিনতলা দালানটির সবগুলি ঘরই ধীরে ধীরে নতুন আসবাবপত্র দিয়ে বাসোপযোগী করা হবে৷ এজন্য সময় প্রয়োজন৷ কিন্তু এখনই শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রগুলিতে তিল ধারণের স্থান নেই৷ আরো ১০০০ জনের জায়গা দিতে হবে৷ এজন্য সাময়িক বাসস্থান খোঁজা হচ্ছে প্রাণপনে৷ স্বাস্থ্য ও সমাজ সংক্রান্ত প্রাদেশিক দপ্তরের প্রধান ফ্রান্স আলার্ট এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হাড়কাপানো শীতের সময়টাতে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই জোগাড় করা৷ তাপমাত্রা নেমে গেলে সমস্যাটা আরো তীব্র হয়ে পড়বে৷ আর এই দিকটাও আমাদের মাথায় রাখতে হচ্ছে৷''

Aus Mietwohnungen in einem Plattenbau in der Baustraße von Wolgast (Mecklenburg-Vorpommern) ist im Jahr 2012 ein Asylbewerberheim des Landkreises Vorpommern-Greifswald geworden, aufgenommen am 26.09.2012. Bis zu 220 Asylbewerber könnten nach Angaben des Landkreis in dem Heim untergebracht werden. Foto: Stefan Sauer

বিদেশি শরণার্থীদের বসবাসের পরিবেশ তেমন আকর্ষণীয় নয়

জরুরি আশ্রয়স্থল

বার্লিনে এখন ৯টি জরুরি আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা হয়েছে৷ বেশিরভাগই পরিত্যক্ত স্কুল বা অফিস ভবন৷ যেমন গ্রুনাউ-এর আশ্রয় কেন্দ্রটি৷

এখানে ৯০ জন মানুষ একটি মাত্র স্নানাগার ব্যবহার করেন৷ সারাদিন তাঁদের কিছু করার থাকে না ৷ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কী উত্তর আসে, তাদের কী দ্রুত জার্মানি ছাড়তে হবে নাকি কিছু দিনের জন্য এখানে থাকার অনুমতি পাওয়া যাবে – এইসব চিন্তাই মাথায় ঘুরতে থাকে তাঁদের৷ সিদ্ধান্ত আসতে ৬ সপ্তাহ লেগে যায়৷ বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য এই অবস্থা বেশি অস্বস্তিকর৷ ৪০ জনের মতো ছোট ছেলে-মেয়ে রয়েছে এই সব আশ্রয় কেন্দ্রে৷ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকাকালীন তারা কোনো স্কুলে যেতে পারে না৷

কেন্দ্রের প্রধান মিশাইল গ্রুনেভাল্ড জানান, ‘‘সাধারণত তাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, কেননা আমাদের এখানে স্কুলে যাওয়াটা বাধ্যতামূলক৷ কিন্তু ছয় সপ্তাহের জন্য কোথায় তাদের ভর্তি করাবো? স্কুলগুলির তো মাথা ঘুরে যাবে৷''

নানা দেশের মানুষের সমাবেশ

করিডোরে আফ্রিকার নানা দেশের ও আরবি ভাষায় কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে৷ বিশেষ করে বসনিয়ান ও সার্বিয়ান ভাষার প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়৷ বলকান অঞ্চলের দেশগুলি থেকে জার্মানিতে আসা শরণার্থীর সংখ্যা ইদানীং খুব বেড়ে গিয়েছে৷ তবে তাঁদের রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম৷ জার্মান কর্তৃপক্ষের মতে, তাঁরা অর্থনৈতিক কারণে শরণার্থী হয়েছেন৷

মিশাইল গ্রুনেভাল্ড টিভি কক্ষের দিকে এগিয়ে যান৷ আশ্রয় কেন্দ্রের একমাত্র টেলিভিশনটি তারস্বরে আপন মনে বেজে চলেছে৷ আশ্রয় কেন্দ্রের এক বাসিন্দা তাকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান৷

ভাঙা ভাঙা জার্মানে জানান সেই ব্যক্তি, ‘মিশাইল একজন বন্ধু'৷ এক মাস ধরে পরিবারসহ এই জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে বাস করছেন তিনি৷ তাঁর স্ত্রী অপরিপক্ক এক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷ শিশুটি এখন হাসপাতালে৷ মিশাইল গ্রুনেভাল্ড-এর সব কিছুর দিকেই নজর রাখতে হয়৷ প্রত্যেক শিশুর জন্য শীতের কাপড় জোগাড় করা হয়েছে৷ বার্লিনবাসীরা উদার হস্তে দান করেছেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে৷ মার্চ মাসের শেষ নাগাদ পর্যন্ত গ্রুনেভাল্ড এই জরুরি আশ্রয় শিবিরটি দেখাশোনা করবেন৷ ততদিনে নগর কর্তৃপক্ষ শরনার্থীদের জন্য স্থায়ী কোনো আবাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে আশা করা যায়৷ সাময়িক আশ্রয় শালার ইতি ঘটবে তখন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন