বাবরি ধ্বংসে চক্রান্ত ছিল না, অভিযোগমুক্ত আডবাণীরা | বিশ্ব | DW | 30.09.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বাবরি ধ্বংসে চক্রান্ত ছিল না, অভিযোগমুক্ত আডবাণীরা

১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের রায় ঘোষণা করল লখনউয়ের বিশেষ আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, বাবরি ধ্বংসের ক্ষেত্রে কোনো চক্রান্ত ছিল না।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের ছবিতে হিন্দু মৌলবাদীদের বাবরি মসজিদ ভাঙতে দেখা যাচ্ছে

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের ছবিতে হিন্দু মৌলবাদীদের বাবরি মসজিদ ভাঙতে দেখা যাচ্ছে

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দীর্ঘ ২৮ বছর পর আদালত রায় দিল, এর পিছনে কোনো চক্রান্ত নেই। লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর জোশী, উমা ভারতী, কল্যাণ সিং, সাধ্বী ঋতম্ভরা, সাক্ষী মহারাজ সহ ৩২ জন অভিযুক্তই বেকসুর বলে ঘোষণা করেছে আদালত। সিবিআই বিচারক এস কে যাদব তাঁর রায়ে বলেছেন, আডবাণী, জোশীরা উল্টে বাবরি মসজিদ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক অশোক সিঙ্ঘলও চেষ্টা করেছিলেন, যাতে বাবরি মসজিদ ভাঙা না হয়। 

তা হলে বাবরি মসজিদ ভাঙল কে? বিচারকের রায়, কিছু অসামাজিক লোক, যারা মসজিদের পিছন থেকে এসে বাবরি মসজিদের মাথায় চড়ে যায়, তারাই ভেঙেছে। রায় অনুযায়ী, বাবরি মসজিদ ভাঙার দায় কিছু নামহীন অসামাজিক লোকের উপরই বর্তেছে। 

 কিন্তু ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর যে উত্তেজক ভাষণ দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল, সংবাদপত্রের রিপোর্টেও বলা  হয়েছিল,  কিছু নেতা-নেত্রী সোচ্চারে বলছিলেন, 'এক ধাক্কা আওর দো' তার কী হলো? বিচারক জানিয়েছেন, আদালতের কাছে জমা দেয়া অডিও ও ভিডিও পরিষ্কার নয়। আর সিবিআই এই অডিও-ভিডিওর বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেনি। 

বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়ে রায় যখন এলো, ততদিনে রামমন্দির নির্মাণের পথ প্রশস্থ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইতিমধ্যে রামমন্দিরের ভূমিপুজো হয়ে গেছে। মন্দির বানানোর কাজও শুরু হয়ে গেছে।  তা সত্ত্বেও বাবরি মসজিদ ভাঙা নিয়ে আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো দেশ। কারণ, মামলার মূল বিষয় ছিল, বাবরি ভাঙার চক্রান্তের দিকটি। বাবরি মসজিদ তো ১৯৯২ সালেই ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। প্রশ্নটা ছিল, সেই ঘটনার পিছনে কি আডবাণীদের বা আরো স্পষ্ট করে বললে বিজেপি, ভিএইচপি, রামজন্মভূমি ন্যাসের কিছু নেতার চক্রান্ত ছিল? সুপ্রিম কোর্টও রামজন্মভূমি নিয়ে রায়ে বলেছিল, বাবরি মসজিদ ভাঙা ছিল পুরোপুরি বেআইনি কাজ।

এই পরিস্থিতিতে সিবিআই-এর বিশেষ বিচারকের রায়, বাবরি ধ্বংসে কোনো চক্রান্ত ছিল না। অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সেরকম কোনো তথ্য প্রমাণই নেই।  অডিও-ভিডিও-র বিষয়টি তো সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। 

স্বাভাবিকভাবে রায়ের পর বিজেপি নেতারা উল্লসিত। দেশের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বিজেপি-র মিছিল। যোগী আদিত্যনাথের মতো নেতারা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। আদিত্যনাথ বলেছেন, এই রায় থেকে বোঝা গেল, কংগ্রেস সাধু-সন্তদের ফাঁসাবার চক্রান্ত করেছিল।  নিশ্চিন্ত আডবাণী বলেছেন, রামের প্রতি তাঁর ও বিজেপি-র দায়বদ্ধতা আবার প্রমাণিত হলো। 

বিজেপি-র এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁরা আবার করোনা, উত্তর প্রদেশে দলিত ধর্ষিতার মৃত্যু ও তারপরের  বিতর্কিত ঘটনা, কৃষক বিক্ষোভের মতো বিষয়গুলি থেকে লোকের নজর ফেরাবার জন্য বাবরি ধ্বস নিয়ে রায়কে হাতিয়ার করবে। আর এই রায়ের পর বিজেপি বা সংঘ পরিবারের গায়ে কালো দাগ লাগলো না।

কংগ্রেস জানিয়েছে, এই রায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিপরীত। পুরো দেশ দেখেছিল, কীভাবে বিজেপি ও আরএসএস নেতারা চক্রান্ত করেছিলেন। তার সঙ্গী ছিল সে সময়ে রাজ্যের বিজেপি সরকার। তারা সুপ্রিম কোর্টে মিথ্যা হলফনামা দিয়েছিল। 

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি টুইট করে বলেছেন, ''যাঁদের বিরুদ্ধে বাবরি ভাঙার চক্রান্তের অভিযোগ করা হলো, তারা সকলেই বেকসুর। তাহলে মসজিদ কি আপনা থেকে ভেঙে গেলো? প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাংবিধনিক বেঞ্চ বললো, বাবরি ধ্বংস হলো বেআইনি কাজ। তারপর এই রায় লজ্জার।'' এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েইসির মতে, ''আজ ভারতীয় বিচারব্যবস্থার কালো দিন।''    

বাবরি মসজিদ যখন ভাঙা হয়, তখন কল্যাণ সিং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। আডবাণী, জোশী, উমা ভারতীরা ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় ছিলেন। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর দাঙ্গায় সারা দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন। 

জিএইচ/এসজি(পিটিআই, এএনআই)

নির্বাচিত প্রতিবেদন