বাধার মুখে প্রথম হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক | বিশ্ব | DW | 26.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাধার মুখে প্রথম হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক

বাংলাদেশের প্রথম হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক ধর্মীয় বাধার মুখে পড়েছে৷ মাতৃহীন এবং দুধ পায় না এমন শিশুদের জন্য এই হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক বন্ধে আইনি নোটিশও দেয়া হয়েছে৷ ফলে ১ ডিসেম্বর ব্যাংকটি চালুর কথা থাকলেও তা করা যায়নি৷

ঢাকার মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এ এই হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকটি কাজ শুরুর জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে৷ প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী অধ্যাপক ও ব্যাংকের সমন্বয়কারী ডা. মজিবুর রহমান নিজ উদ্যোগে এটা প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ প্রাথমিকভাবে এই ব্যাংকে ৫০০ লিটার মায়ের দুধ সংরক্ষণ করা যাবে৷

এই ব্যাংকে প্রত্যেক মায়ের দুধ আলাদাভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে৷ আর দুধ পাস্তুরিত করাসহ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে স্পেন থেকে ৷ ডা. মুজিবুর রহমান এটা স্থাপন করতে সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ সহায়তা নেননি ৷ নিজে এবং দানশীল ব্যক্তিদের অর্থায়নে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷

কিন্তু ‘জাতীয় তাফসির পরিষদ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক স্থাপনের বিরোধিতা করছে৷ তাদের পক্ষ থেকে এটা বন্ধে আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছে৷  ওই পরিষদের মুখপাত্র মাওলানা আতাউর রহমান বলেন,‘‘সন্তান না হয়েও একই মায়ের দুধ যারা খান তারা দুধ ভাই বা দুধ বোন ৷ তাদের মধ্যে বিবাহ ইসলামে হারাম৷ তাই এধরনের দুধ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলে ওই হারামের আশঙ্কা থেকে যাবে৷ সে কারণেই আমরা এটার বিরোধিতা করছি৷ তবে যদি ইসলামী চিন্তাবিদদের মাধ্যমে এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় তাহলে ভিন্ন কথা৷''

অডিও শুনুন 02:30

‘প্রভাবশালী আলেম-ওলামাদের সাথে বসে বিষয়টি সুরাহা করে নিলে ভালো হয়’

এর জবাবে ডা. মজিবুর রহমান বলেন,‘‘তারা দুধ সম্পর্কের যে কথা বলছেন সে আশঙ্কা নেই৷ বাংলাদেশের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই আমরা এটা স্থাপন করেছি৷ প্রথমত: এখানে যে মা দুধ দেবেন তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হবে৷ তাকে আইডি কার্ড দেয়া হবে৷ সংরক্ষিত দুধ যে শিশুকে দেয়া হবে তার পরিচিতি সংরক্ষণ করা হবে৷ তাকেও কার্ড দেয়া হবে৷ আর সবচেয়ে বড় কথা হলো যে মায়ের ছেলে সন্তান তার দুধ ছেলে শিশুকে দেয়া হবে৷ আর যে মায়ের মেয়ে সন্তান তার দুধ মেয়ে শিশুকে দেয়া হবে৷ আর দুধ দানের ব্যাপারে মা এবং তার স্বামীর লিখিত সম্মতি নেয়া হবে৷ ধর্মীয় কারণে এইসব তথ্য দেশের কাজি অফিসগুলোতেও পাঠানো হবে৷''

তিনি বলেন,‘‘এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আগে বিশ্বের অনেক দেশে আমি হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক পরিদর্শন করেছি৷ কুয়েত, ইরান, ইরাক ও পাকিস্তানের মত মুসলিম দেশে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক আছে৷ আমি তাদের নিয়ম দেখে এবং ইসলামী চিন্তাবিদদের সাথে কথা বলে এটা করেছি৷ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের  ইসলামী চিন্তাবিদদের সামনেও আমি এটা উপস্থাপন করেছি৷  আর আমি নিজে মুসলমান৷ তাই ধর্মীয় কারণে এটা বিরোধিতা করার কোনো কারণ দেখছিনা৷''

জাতীয় তাফসির পরিষদের বিরোধিতা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ব্যাংক নিয়ে একটি গোষ্ঠী ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে৷ এ ব্যাপারে ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন,‘‘আমাদের নবীজীও দুধ মায়ের দুধ পান করেছেন৷ তার একজন নয় একাধিক দুধ মা ছিলেন৷

অডিও শুনুন 12:43

‘আমি নিজে মুসলমান, তাই ধর্মীয় কারণে এর বিরোধিতা করার কোনো কারণ দেখছি না’

তাই হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকেও আমি একটি ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছি৷ বহু মা ও শিশু উপকৃত হবেন৷ তবে যেহেতু কথা উঠেছে তাই আমি মনে করি ইসলামি চিন্তাবিদদের একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে এর পদ্ধতিগুলো অনুমোদন করিয়ে নেয়া উচিত৷ কারণ এত ভালো একটি উদ্যোগ কোনো বিতর্কের কারণে বাধাগ্রস্থ হোক তা আমি চাই না৷  আর আমি শুনেছি কুয়েত, ইরানসহ অনেক মুসলিম দেশে এই ধরণের মিল্ক ব্যাংক আছে৷ আমাদের এখানে করতেও তাই কোনো অসুবিধা দেখি না৷''

এই হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক-এর বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও দেখছে৷ তারা মনে করে এই ধরনের ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা আছে৷ যেসব শিশুর মা নেই, যে মা বুকের দুধ দিতে সক্ষম নন  সেই সব শিশুর জন্য এই ধরণের উদ্যোগ অনেক উপকারী হবে৷ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘‘আমি মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এর হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকটি পরিদর্শন করেছি৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এটা উদ্বোধন করার কথা৷ তবে কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা আরো  একটু পর্যবেক্ষণ করছি৷শিশুর জন্য  মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই৷ তাই সব নীতি মেনে আমাদের সরকারী নীতি এই ধরণের হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পক্ষে৷''

ডা. মজিবুর রহমান জানান,‘‘এখানে কর্মজীবী মায়েরা তার নিজ শিশুর জন্যও দুধ রেখে যেতে পারবেন৷ আর এই দুধ ব্যাংকে দুধ জমা রাখা ও গ্রহণের জন্য কোনো অর্থ লাগবেনা৷ প্রয়োজন নিশ্চিত হয়েই শিশুকে দুধ দেয়া হবে৷ এই ব্যাংকে তিন মাস থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত দুধ শিশুদের খাওয়ার উপযোগী থাকবে৷''

তিনি আরো বলেন,‘‘প্রাথমিকভাবে এই ব্যাংকটি আমাদের হাসপাতাল কেন্দ্রিক চাহিদা মেটানোর জন্যই স্থাপন করা হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে আমরা সফল হয়েছি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন