বাতিল পোশাক বিক্রি করছে ব্রিটিশ অ্যাপ | বিশ্ব | DW | 03.06.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

করোনা সংকট

বাতিল পোশাক বিক্রি করছে ব্রিটিশ অ্যাপ

করোনা সংকটের এ সময়ে বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকদের সাহায্য করতে ব্রিটিশ শপিং অ্যাপ ‘মলজি’ বিখ্যাত ব্র্যান্ডের বাতিল করা পোশাক বিক্রি করছে৷ তারা এ উদ্যোগের নাম দিয়েছে ‘লস্ট স্টক’৷

আন্ডার মলজিস ‘লস্ট স্টক’ নামে তারা ৩৫ পাউন্ডে (৪৪ মার্কিন ডলার) পোশাক ভর্তি একটি বাক্স বিক্রি করছে৷ প্রতিটি বাক্সে অন্তত তিন ধরনের পোশাক থাকে৷ শোরুম থেকে যে পোশাক কিনতে অন্তত দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হতো৷

বেশিরভাগ বাক্সে টপস থাকে৷ তবে সেখানে মাপ অনুযায়ী ট্রাউজার বা স্কার্ট পাওয়া বেশ কঠিন৷ ক্রেতারা পণ্য দেখার সুযোগ পান না৷ ফলে অনেকটা চোখ বন্ধ করে সেগুলো কিনতে হয়৷ প্রতিটি পোশাকই নানা বিখ্যাত ব্র্যান্ডের, কিন্তু ব্র্যান্ডের লেভেল খুলে রাখা৷

‘মলজি’ তাদের এ বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৩৭ শতাংশ বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের ত্রাণ হিসেবে দেবে৷ ‘সাজেদা ফাউন্ডেশন’ এ কাজে তাদের সাহায্য করছে৷

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ব্র্যান্ড লকডাউনের কারণে বেচা-বিক্রি ও ব্যবসা বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়ার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করে৷ কিন্তু ততদিনে অনেক পোশাক তৈরি হয়ে গেছে৷

ফলে অনেক গার্মেন্টস মালিক কোটি কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়ে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন৷  কোথাও শ্রমিকদের বেতন বকেয়া পড়ে৷ কোথাও কারখানা লেঅফ ঘোষণা করা হয়৷ কেউ কেউ  শ্রমিক ছাঁটাই করে খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেন৷

ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার কারণে গুদামে বাতিলের খাতায় চলে যাওয়া ওই সব পোশাকই বাক্সে ভরে বিক্রির উদ্যোগ নেয় অনলাইন শপিং অ্যাপ মলজি৷

এডিনবরা ভিত্তিক এ কোম্পানির মুখপাত্র মেলানি গ্রে বলেন, ‘‘আমরা আমাদের কোম্পানির মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে বাতিল হয়ে যাওয়া পোশাকের চালানের সংযোগ ঘটিয়ে দিচ্ছি৷ এরমাধ্যমে আমরা পোশাক শ্রমিকদের সাহায্যের পাশাপাশি বাতিল হওয়া পোশাক ভাগাড়ে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে চাই৷’’

বাংলাদেশে পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন মনজি-র এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে৷ তবে তারা এটাও বলেছে, এর ফলে হয়তো বড় বড় ব্র্যান্ড গণহারে ক্রয়াদেশ বাতিল করবে৷ সেটা হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে তাদের জীবনযাপনই ঝুঁকিতে পড়ে যাবে৷

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি-র নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, ‘‘আমি তাদের উদ্যোগকে অবশ্যই স্বাগত জানাই৷ কিন্তু কেন আমাদের শ্রমিকরা দানের উপর নির্ভর করে বাঁচবে?

‘‘বরং তারা যদি ব্র্যান্ডগুলোকে চাপ দিয়ে পণ্যের মূল্য পরিশোধে বাধ্য করতে পারে তবে সেটা আমাদের জন্য আরো বেশি খুশির খবর হবে৷’’

বাংলাদেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ গার্মেন্ট শ্রমিক৷ অনেক পরিবার গার্মেন্টস শিল্পখাতের উপর নির্ভর করে টিকে আছে৷ বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারিতে বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধ্বে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়ে যায়৷

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সভাপতি রুবানা হক বলেন, ‘লস্ট স্টক’-এর মতো উদ্যোগ এখন ‘অপরিহার্য’৷

বিজিএমইএর সভাপতি গত সপ্তাহেই করোনা ভাইরাস মহামারির সুযোগ নিয়ে বিদেশি ক্রেতারা পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধ না করে ‘ডিসকাউন্টের’ দাবি তুললে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন৷ ব্রিটিশ একটি পোশাক ব্র্যান্ডকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার কথাও জানান তিনি৷

ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অনেক গার্মেন্টস মালিক গত দুই মাস শ্রমিকদের বেতন দিতে পারেননি৷ গত মাসে বেতনের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকেরা

দুই সপ্তাহ আগে লস্ট স্টক প্রকল্প চালু করে মলজি৷  গ্রে বলেন, তারা ১০ হাজার বাক্স পোশাক বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করে মাঠে নেমেছিলেন৷ কিন্তু সেই লক্ষ্য ছাড়িয়ে এ কদিনে তারা ৮০ হাজার বাক্স বিক্রি করে ফেলেছে৷

‘‘আমরা ৮০ হাজার পোশাক  শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য খাবার ও স্যানিটারি পণ্য সরবরাহ করার মত যথেষ্ট অর্থ সংগ্রহ করতে পেরছি৷’’

সাজেদা ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র বলেন, ‘‘পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে কাদের সহায়তা প্রয়োজন তার তালিকা তৈরির কাজ আমরা শুরু করেছি৷ তাদের দুই মাস চলার মতো সাহায্য দেওয়া হবে৷’’

তবে গবেষকরা বলছেন, এভাবে ত্রাণ দিয়ে শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা দেওয়া যাবে না৷ বরং সরকারের উচিত গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বসে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা৷

এসএনএল/কেএম (রয়টার্স)

২১ মে’র ছবিঘরটি দেখুন...

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন