বাতিল কাপড় দিয়ে অভিনব ফ্যাশন | অন্বেষণ | DW | 24.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বাতিল কাপড় দিয়ে অভিনব ফ্যাশন

তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদনের সময় অনেক পরিমাণ কাপড় বর্জ্য হিসেবে বাতিল হয়ে যায়৷ এস্টোনিয়ার এক ডিজাইনার কোম্পানিগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই সমস্যার এমন এক সমাধানসূত্র বার করেছেন, যাতে সব পক্ষেরই লাভ হয়৷

বর্জ্য কাপড় নিয়ে সমস্যা

বর্জ্য কাপড়ের স্তূপ প্রায় পাহাড়ের আকার ধারণ করেছে৷ ভারত ও বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে বাতিল হওয়া টন টন কাপড় এভাবে ফেলে দেওয়া হয়৷ তারই কিছু অংশ দিয়ে এবার নতুন ধরনের ফ্যাশন শুরু হয়েছে৷ এস্টোনিয়ার ডিজাইনার রেট আউস এমন উদ্বৃত্ত কাপড় দিয়ে টিশার্ট, সোয়েটার ও ড্রেস সৃষ্টি করছেন৷ তিনি ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হতে চান৷

রেট বলেন, ‘‘শিল্পাঞ্চলে গাড়ি নিয়ে ঘুরলে কী দেখতে পান? সব জায়গায় উদ্বৃত্ত কাপড় ছড়িয়ে রয়েছে৷ সঙ্গে প্লাস্টিকও থাকে৷ শিশুরা সে সব নিয়ে খেলা করে, আগুনে পুড়িয়ে দেয়৷ এ সব টক্সিক বা বিষাক্ত বর্জ্য৷ মারাত্মক বায়ু দূষণ ঘটে৷ দ্বিতীয়ত সব টক্সিক পদার্থ ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে যায়৷ স্থানীয় মানুষ সেই পানি খান, খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ বর্জ্য কাপড়ের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত৷''

পুনর্বব্যহারের সমাধানসূত্র

তিন বছর আগে রেট আউস ‘আপমেড' নামের এক প্রণালী সৃষ্টি করেন৷ এই উদ্যোগের দু'টি স্তর রয়েছে৷ স্বচ্ছতার অঙ্গীকার করে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিকে একটি সার্টিফিকেশন বা বিবৃতি দিতে হবে এবং প্রতি মাসে তাঁকে কারখানা থেকে উদ্বৃত্ত কাপড়ের বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে৷ ফলে তিনি সহজে পরিকল্পনা করতে পারবেন৷

ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে  রেট আউস বলেন, ‘‘তারা যখন উৎপাদন শুরু করে, তখনই আমরা জানতে পারি বর্জ্যের পরিমাণ কী হবে, কোন ধরনের উপাদান পাওয়া যাবে৷ আমরা ব্যবসার হিসাবপত্রও করে ফেলি৷ উদ্বৃত্ত কাপড় দিয়ে আমরা কত পরিমাণ ব্লাউজ, প্যান্ট বা অন্যান্য পণ্য তৈরি করতে পারবো, একটি সফটওয়্যার হিসেব করে তা জানিয়ে দেয়৷ বড় কোম্পানির জন্য তখন সবকিছু অনেক সহজ হয়ে পড়ে৷ নতুন কোনো বড় কোম্পানিও এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারে৷''

এস্টোনিয়ার রাজধানী টালিন-এর এক প্রাক্তন শিল্পকেন্দ্রে তাঁর দোকান রয়েছে৷ এস্টোনিয়ার শিল্পীদের সৃজনশীলতার সুযোগ দিতে এখন জায়গাটিকে একটি হাব বা কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে৷ সেখানেই তিনি স্যাম্পলিং ও ডিজাইনের কাজ করেন৷ উৎপাদনের জন্য সেই ডিজাইন  বাংলাদেশ বা ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

পরিবেশের জন্যও ভালো

উদ্বৃত্ত উপকরণ ব্যবহার করে তিনি প্রচলিত উৎপাদন প্রক্রিয়ার তুলনায় গড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ পানি ও প্রায় ৮৮ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারেন৷ কিন্তু এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে৷ রেট আউস বলেন, ‘‘উৎপাদনের পর কত পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হয়, কোম্পানিগুলির সাধারণত সে বিষয়ে কোনো ধারণা থাকে না৷ আমরা তাদের জন্য বর্জ্য সৃষ্টির হার সম্পর্কে স্বচ্ছতা দিচ্ছি৷ ফলে তারা পণ্যের ডিজাইন শুরু করার সময়ই বর্জ্য থেকে আপসাইকেল করা পণ্যেরও ডিজাইন করতে পারে৷ কারণ তারা মূল উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে বর্জ্যের পরিমাণ আগেভাগেই জানতে পারছে৷''

এই প্রকল্পের আওতায় ভোক্তাদের পক্ষ থেকে বর্জ্যের সমস্যাও সমাধানের চেষ্টা চলছে৷ ‘ডেনিম' নামে তাঁর নতুন প্রকল্পের আওতায় তিনি এস্টোনিয়ার রিসাইক্লিং সেন্টার থেকে পুরানো জিনস সংগ্রহ করেন৷ একটি কোম্পানি সেগুলিকে আবার সুতায় রূপান্তরিত করে৷ সেই সুতা দিয়ে নতুন করে জামাকাপড় তৈরি হয়৷ ক্রেতারাও আপসাইক্লিং ও রিসাইক্লিং-এর মধ্যে মেলবন্ধন পছন্দ করেন৷

কোম্পানিগুলি উদ্বৃত্ত কাপড় কাজে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং এভাবে অনেক অর্থও বাঁচাতে পারে৷ রেট আউস মনে করেন, এতে সব পক্ষেরই লাভ হয়৷ আগামী কালেকশনের জন্য তিনি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন৷

ডানিয়েলা স্পেট/এসবি

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন