বাডেন ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্যের জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় হাইডেলব্যার্গ | জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা | DW | 04.07.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা

বাডেন ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্যের জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় হাইডেলব্যার্গ

এই বিশ্ববিদ্যালয় জার্মানির প্রাচীনতম৷ সেখানে পড়াশোনা, গবেষণার নানা সুযোগ সুবিধা রয়েছে৷ হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে সুবিশাল ‘সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ’ ইন্সটিটিউট৷

জার্মানির প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়৷ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩৮৫ সালে৷ ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি পালন করছে তার ৬২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী৷ ১৩৮৫ সালে মাত্র তিনটি অনুষদ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি শুরু করেছিল তার যাত্রা৷ ধর্মতত্ত্ব, আইন এবং দর্শন৷ এর দুই বছর পর চিকিৎসাবিদ্যা বিভাগটি যোগ করা হয়৷ সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ছিলেন একজন ডাচ, অধ্যাপকরা এসেছিলেন প্যারিস এবং প্রাগ থেকে৷

আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে দেখা যাবে দেশি-বিদেশি শিক্ষকদের৷ যোগ্যতার মাপকাঠিতে যিনি উঠে আসবেন তাকেই সুযোগ দেয়া হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার৷ দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের আধুনিক ইন্ডোলজি বিভাগে পড়ানো হয় বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, উর্দু ভাষা৷ যোগেশ লিউ হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার৷ যোগেশের মা ভারতীয় এবং বাবা চীনা৷ জন্ম অস্ট্রিয়ায়৷ যোগেশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দি ভাষার শিক্ষক৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার মতৃভাষা হিন্দি সেই সূত্র ধরেই হিন্দি ভাষাটি শেখা হয়েছে৷ এছাড়া হিন্দি সাহিত্য নিয়েও আমি পড়াশোনা করেছি৷ ছোটবেলা থেকেই প্রায় প্রতিদিনই আমি হিন্দি ভাষায় কিছু না কিছু পড়তাম৷ এছাড়া ধীরে ধীরে গল্পের বই এবং পত্রিকা পড়া শুরু করি৷ তখন আমার আগ্রহ হয় এই ভাষা নিয়েই কাজ করার৷ আমি একটি বইও প্রকাশ করেছি৷ বইয়ের নাম ‘হিন্দি বোলো' অর্থাৎ হিন্দি ভাষায় কথা বল৷ এখন আমি হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ইন্ডোলজি বিভাগে হিন্দি পড়াই৷''

হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে পড়াশোনা করছে প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী৷ এর মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার হচ্ছে বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী৷ ২০১০ সালে পিএইচডি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে এগারশো ছাত্র-ছাত্রী৷ এর মধ্যে ২২৬ জন হলেন বিদেশি৷

যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করে৷ কারণ বাজেটে দেখেই বোঝা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন গবেষণা কোন পর্যায়ে হতে পারে বা হয়ে থাকে৷ ছাত্র-ছাত্রী সঙ্কুলানের বিষয় ছাড়াও বৃত্তির বিষয়টি এর সঙ্গে জড়িত৷ হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক বাজেট ৫৭৯ মিলিয়ন ইউরো৷ এর মধ্যে চিকিৎসা বিভাগের ভাগে পড়েছে ৩০২ মিলিয়ন ইউরো৷

হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে চারটি অনুষদ৷ এই চারটি অনুষদের অধীনে রয়েছে প্রায় ৮০টির মত বিভাগ এবং অন্তত ২৫টি ইন্সটিটিউট৷ দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউট তার অন্যতম৷ এই ইন্সটিটিউটের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে৷ ফেলিক্স অটার দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক৷ কী কী বিষয় নিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউটে পড়া যায়?

ফেলিক্স অটার'এর কথায়, ‘‘আমাদের এখানে বেশ কিছু বিভাগ রয়েছে৷ আমি দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক ভাষা বিভাগের সঙ্গে জড়িত৷ আমি দক্ষিণ এশিয়ার ভাষার প্রাথমিক পর্বের ক্লাস নেই৷ এছাড়া হিন্দি ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ এবং রিডিং পড়ার ক্লাসও নিতে হয় আমাকে৷ গত কয়েক বছর ধরে আমি ফিল্ম বিষয়ের ওপরও ক্লাশ নিচ্ছি৷ এর পাশাপাশি রয়েছে ‘মিডিয়া ইন সাউথ এশিয়া' র মত বিষয়৷''

মেঘা পাতিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত জার্মান ছাত্রী৷ মেঘার জন্ম জার্মানিতে কিন্তু তার বাবা-মা ভারতীয়৷ হিন্দি ভাষায় দক্ষ হতে চান মেঘা৷ দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউটে তিনি পড়াশোনা করছেন ‘আধুনিক ইন্দোলজি' বিষয় নিয়ে৷ মেঘা পাতিল বলেন, ‘‘আমার বাবা-মা ভারতীয়৷ আমি যা শিখতে চাই করতে চাই তা ভারতকে ঘিরেই করতে চাই৷ আমি হিন্দি ভাষাটি খুব ভালমত শিখতে চাই৷ এই ভাষায় লেখালেখি করতে চাই৷ আমি হিন্দি এবং উর্দু ছাড়াও গুজরাটি ভাষা শিখছি৷ আগামী সেমেস্টার থেকে আমি তামিল ভাষাও শেখা শুরু করবো৷''

হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপক ভূষিত হয়েছেন নোবেল পুরস্কারে৷ ১৯০২ সালে প্রথমবারের মত বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে আসে নোবেল৷ পুরস্কার পান ড. চার্ল্স এ্যালবার্ট গোবাট৷ তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান৷ এরপর হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয় আর থেমে থাকেনি৷ সর্বমোট ৪২টি নোবেল পুরস্কার এসেছে হাইডেলব্যার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ সর্বশেষ পুরস্কার এসেছে ২০০৫ সালে৷ অধ্যাপক ড. টেওডর হেন্শ পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক