বাচ্চা দুটো যার কাছে থাকতে চাইবে তার কাছেই রাখা উচিত | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 24.08.2021

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাচ্চা দুটো যার কাছে থাকতে চাইবে তার কাছেই রাখা উচিত

বাংলাদেশের আইনে কী আছে বা জাপানি আইনে কী আছে তা নয়, বড় কথা শিশুদের মতামত নেওয়া উচিত৷ শিশুদের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেক পাঠক তবে ভিন্নমতও রয়েছে৷

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সন্তানেরা যার সাথে থাকতে চায় তার সাথে থাকতে দেওয়া হোক৷ এখন বিদেশি মা বলে বেশি সহানুভূতি না দেখিয়ে বাবা এবং মা দুইজনকে সন্তানের অধিকার দিতে হবে কাউকে বঞ্চিত করা যাবেনা বলে ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় মত প্রকাশ করেছেন পাঠক জুবায়ের আনসারী৷

এক বাংলাদেশি বাবা তার দুই সন্তানকে নিয়ে জাপান থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছেন৷ সেই সন্তানদের নিতে ছুটে এসেছেন তাদের জাপানি মা৷ ঢাকা পুলিশ শিশু দু'টোকে নিয়ে গেছে নিজেদের কাছে৷

ইকতারুল ইসলাম সাগর মনে করেন পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে কাজটি করেছে যা সংবিধান বিরোধী৷

অভিষেক ইসলাম অভির মতে এটা বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়! তিনি লিখেছেন, যেখানে বিষয়টা আদালতে বিচারাধীন সেখানে প্রশাসনের অতি মাতবরির দরকার নাই৷৩১ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত ছিলো, এটা আদালত অবমাননার সামিল৷ ৩১ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত বলে মনে করেন পাঠক আবু ইমরান সোহাগও৷ বাচ্চা দুটো যার কাছে থাকতে চাইবে তার কাছেই রাখা উচিত বলে মনে করেন জহিরুল ইসলাম৷

বাংলাদেশের আইনে কী আছে বা জাপানি আইনে কী আছে তা নয়, বড় কথা শিশুদের মতমত নেওয়া উচিত৷ সন্তানেরা যার সাথে থাকতে চায় তার সাথে থাকতে দেওয়া হোক- এমনই মনে করেন আহমেদ মামুন জীবন৷

 

পাঠক তানভীর আহমেদ লিখেছেন, এই বিষয়টি সবার নজরে এসেছে৷ বাংলাদেশে একজন মা দুধের শিশু বুকে নিয়ে দিনের পর দিন সাবেক এটর্নি জেনারেল টি এস হাসান আরিফের বাসার সামনে তার তিন বছরের মেয়েকে দেখার জন্য কাকুতি মিনতি করছে, কোর্টের নির্দেশ থাকার পরেও মেয়েকে দেখার সুযোগ পায়নি, পুলিশ তাড়িয়ে দিয়েছে৷

গাজী সাহাবুদ্দিনের মতে, আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ ছিল৷তবে বাংলাদেশের আইনের শাসন নিয়ে সন্দিহান পাঠক রাইসুল৷

এদিকে পাঠক ওমর ফারুক তার ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছেন এভাবে, মেয়েগুলো বাবার কাছেই থাকবে বলে বক্তব্য দিয়েছে৷ সুতরাং পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ অনুযায়ী শিশুদের মতামতকে আদালতের প্রাধান্য দিতে হবে,এটাই আইনি বিধান৷ 

আমরা খুব আবেগি জাতি, একজন নারী কান্নাকাটি করছে এতেই আমরা ধরে নিয়েছি সব দোষ তার স্বামীর৷ আর পুলিশ আরও একধাপ এগিয়ে ...... ৷এই মন্তব্যটি সাইফুল ইসলাম শুভ করেছেন৷

মায়ের যেমন অধিকার আছে সন্তানের প্রতি এবং একই অধিকার বাবারও৷ মা বিদেশি বলে বেশি সহানুভূতি না দেখিয়ে বা কাউকে বঞ্চিত না করে দুইজনকে সন্তানের অধিকার দিতে হবে বলে মনে করেন ডয়চে ভেলের পাঠক মো.ইকবাল হোসেন৷

পাঠক ইকবাল হোসেনের মতো একই মত পোষণ করেন পাঠক মিজানুর রহমানও ৷ তিনি লিখেছেন, বিষয়টি গভীর তদন্ত হোক এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে মানবিকতার পথে চলুক৷

প্রায় একই মত মনিরুজ্জামান মনিরের৷ তবে তার মতে,বাংলাদেশের দেশের অনেক পুলিশের মানবিক ও পেশাদারত্বের প্রকট অভাব রয়েছে ৷

ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় এ বিষয়ে পাঠক রুবেল মাহমুদ  লিখেছেন,

বাচ্চারা ১৮ না হওয়া পর্যন্ত মায়ের কাছেই থাকবে ৷পরে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিবে কার সাথে থাকবে ৷

সন্তানেরা যার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে তার কাছে থাকলে ভালো হয় বলে মনে করেন মোশারফ হোসেন তৈয়ব ৷

এদিকে পুলিশের প্রশিক্ষণের সময় মানবাধিকার এবং আইন প্রয়োগের নীতিমালা অধিক যত্ন সহকারে শেখানো উচিত বলে মনে করেন মো. রানা খন্দকার ৷ এ বিষয়ে প্রায় একই মত মো.ফয়জুল হাসান কবিরের ৷ পুলিশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা যুগোপযোগী নয় বলে তিনি মনে করেন তিনি৷

অন্যদিকে বিবাহ বিচ্ছেদ অপরাধ না হলেও অসংখ্য সন্তানের জীবন নষ্টের কারণ বলে মনে করেন পাঠক রহমত টিটো ৷ 

আর জাহান ইমতিয়াজ তার মতামত জানাতে গিয়ে লিখেছেন, মেয়েদের বাবার বিষয়টা সবার কাছেই উপেক্ষিত ছিল ৷ আমিও চেয়েছিলাম মায়ের কাছে মেয়েদের দিয়ে দেয়া হোক ৷ বিশেষ করে জাপানি মা বলে সবাই অবচেতন মনে মায়ের পক্ষ নিয়েছে৷ কিন্তু বাবারও যে অধিকার আছে তার সন্তানকে কাছে পাবার!

যুক্তরাজ্যের একজন শিশু কাস্টডি বিষয়ক আইনজীবী তারেক চৌধুরী ডয়চে ভেলের ফেসবুক পাতায় লিখেছেন,  শিশু বিষয়ে যুক্তরাজ্যে সোশ্যাল ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট বাচ্চাদের নিরাপত্তা ব্যাপারে অনেক ক্ষমতাবান৷ যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে৷ তারা কোন সিদ্ধান্ত নিলে আদালতকে ব্যাখ্যা দিতে হয় ৷ পুলিশের ও এই ব্যাপারে ব্যাপক ক্ষমতা থাকে ৷ বাংলাদেশে যেহেতু এই ধরনের সিস্টেম নাই সেইজন্য পুলিশের কাজ নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে ৷ কোন পারেন্টের কাছে রিস্ক না হলে কোর্ট বাচ্চাকে সময় শেয়ার করে কাস্টডি দিতে পারে ৷ টেলিফোন বা ভিডিও কনটাক্ট দিতে পারে৷ স্কুল কলেজে গার্ডিয়ান হিসাবে এক্সেস দিতে পারে৷

আর পাঠক সাত্তার হোসেনের প্রশ্ন , বাবা কিন্তু সন্তানদের জোর করে আনেনি, তাহলে পুলিশ কেন?

রিট হয়েছে, নিষ্পত্তি হবে, কিন্তু অতিউৎসাহীরা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীর মত যেভাবে গভীর রাতে বাচ্চাদের টেনে হিচড়ে নিয়ে গেলো তা সবদিক থেকে অন্যায়, অমানবিক৷ মন্তব্য আনামুল হকের৷

পাঠক মুরাদ বালুচি লিখেছেন, কোন ব্যক্তিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেফতারের পর অপরাধ প্রমাণের আগেই অপরাধী বানিয়ে দেয় দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যম ৷

লেখাটা গুরুত্বপূর্ণ তবে দেশে বর্তমানে পুলিশি বাড়াবাড়ি একেবারে চরম সীমা অতিক্রম করেছে বিষয়টা পরিমনি ইস্যু দেখলেই টের পাওয়া যায়৷ লিখেছেন পাঠক শুভ৷

পাঠক এমএ জলিলের কাছে বিষয়টি অতিরঞ্জিত বলে মনে হয়েছে৷ বাংলাদেশি বাবা ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন বলে তিনি আশঙ্কা করছেন৷

আর আসিফ হোসেন বলছেন, বাংলাদেশের পুলিশ খুবই অপেশাদার তা বার বার প্রমাণ করেছে ৷

বর্তমানে বাংলাদেশের পুলিশের কর্মকাণ্ড অনেকটাই বিতর্কিত! মন্তব্যটি পাঠক হুমায়ূন কবিরের৷

সংকলন:  নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: খালেদ মুহিউদ্দীন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়