‘বাচ্চা ছেলের গল্প শুনে লাভ কী?’ | বিশ্ব | DW | 25.04.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘বাচ্চা ছেলের গল্প শুনে লাভ কী?’

সমকামীদের ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যায় জড়িত পাঁচ জনকে চিহ্নিত করার দাবি করেছে পুলিশ৷ তবে জুলহাজ মান্নানের ভাই মিনহাজ মা্ন্নান মনে করেন, পুলিশের এসব কথা আসলে ‘বাচ্চা ছেলের গল্প’৷

Bangladesch Aktivisten Mord Dhaka Journalisten Homosexuellen Aktivisten Leichen werden abtransportiert (picture-alliance/dpa/S.Ramany)

নিহত মান্নান ও তনয়ের মৃতদেহ ফ্ল্যাট থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে (ফাইল ছবি)

গত বছরের ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগান এলাকায় বাড়িতে ঢুকে সমকামীদের অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ সম্পাদক জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷ এলজিবিটি অধিকার কর্মী জুলহাজ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির আপন খালাতো ভাই এবং তিনি ইউএসএআইডিতে কর্মরত ছিলেন৷ আর মাহবুব তনয় ছিলেন নাট্যকর্মী৷ পাশাপাশি পিটিএ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নাট্য প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন৷

অডিও শুনুন 00:34

‘‘আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি’’

এক বছর হয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলতে চাননি তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর বাহাউদ্দিন ফারুকী৷ তবে ডিবি’র উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এরই মধ্যে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছি৷ তাদের একজন রশিদুন্নবী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ আর তার জবানবন্দি ধরে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে চিহ্নিত করেছি৷’’

তবে তাদের কাউকেই এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ৷ আর তারা কি দেশে, না দেশের বাইরে সে সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ ডিবি'র উপ-কমিশনার বলেন, ‘‘আমরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি৷ গ্রেপ্তার না এই মামলার তদন্ত শেষ করা যাবে না৷ আশা করি, গ্রেপ্তার করতে পারব৷’’

জুলহাজ ও তনয় হত্যাকাণ্ডের পরের দিন আল-কায়েদার পক্ষ থেকে ‘আনসার আল ইসলাম-৫’-এর নামে এর দায় স্বীকার করা হয়৷ এই ঘটনার তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ গত বছরের ১৫ মে কুষ্টিয়া থেকে শরীফুল ইসলাম শিহাব নামে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে৷ ১৭ অক্টোবর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে রশিদুন্নবী ভুঁইয়া টিপু ওরফে রায়হান ওরফে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

তদন্ত সূত্র জানায়, দু'জনের মধ্যে রশিদুন্নবী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে৷ সে নিজে আরেক ব্লগার নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিলেও জুলহাজ-তনয় হত্যার সঙ্গে সরাসরি অংশ নেয়নি৷ তবে হত্যাকারীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল৷ আর গ্রেপ্তার হওয়া শিহাব অস্ত্রের যোগানদাতা ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা৷

তদন্ত সংস্থার দাবি, তাদের কাছ থেকেই জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত পাঁচ জনের নাম জানা গেছে৷ কিন্তু ওই পাঁচজন আটক না হওয়া পর্যন্ত তদন্তের নতুন আর কোনো অগ্রগতি আশা করা যায় না৷

অডিও শুনুন 01:43

‘‘রাস্তা থেকে দু'জন ধরলেই হয় না, প্রমাণ করতে হয়’’

নিহত জুলহাজ মান্নানের ভাই মিনহাজ মান্নান অবশ্য পুলিশের এই তদন্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা পুরোপুরি হতাশ৷ এখনো হত্যাকণ্ডে জড়িত কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ আমাদের তদন্তের কোনো অগ্রগতিও জানায়নি পুলিশ৷’’

পাঁচজন চিহ্নিত হওয়া প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমাদের বাচ্চা ছেলের গল্প বলে কী লাভ! এই গল্প শুনে আমাদের কী লাভ হবে৷ আমরা তো বাচ্চা না৷ রাস্তা থেকে দু'জন ধরলেই হয় না৷ প্রমাণ করতে হয়৷ এটা এত সহজ নয় যে, বলে দিলেই হলো৷ কারা জড়িত, কিভাবে জড়িত তা তো প্রমাণ করতে হবে৷ কাউকে এক বছরে ধরতেই পারলো না!’’

পুলিশের ধীর গতিতে তদন্তের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এত জটিল বিষয়ে কথা বলে আমি কি আমার নিজের প্রাণ হারাব নাকি?’’

ভিডিও দেখুন 02:24

চেচনিয়ায় সমকামীদের নির্যাতন কেন্দ্র

এদিকে নানা পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে এলজিবিটি অধিকার সংক্রান্ত তৎপরতা থমকে গেছে৷ যারা সক্রিয় ছিলেন তাদের একাংশ দেশের বাইরে চলে গেছেন৷ যারা আছেন তারা এখন আর প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা চালাচ্ছেন না৷

প্রিয় পাঠক, এই বিষয়ে আপনি কিছু বলতে চাইলে জানান নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন