বাইডেন-ম্যার্কেল বৈঠক | বিশ্ব | DW | 16.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অ্যামেরিকা

বাইডেন-ম্যার্কেল বৈঠক

একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং জার্মান চ্যান্সেলরের।

সম্ভবত শেষবার চ্যান্সেলর হিসেবে অ্যামেরিকায় গেলেন জার্মান চ্যান্সেলর। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পরে দুই নেতা একত্রে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। বেশ কিছু বিষয়ে সহমত হয়েছেন তারা। বেশ কিছু বিষয়ে মতৈক্য হয়নি।

জার্মান নাগরিকদের উৎসাহ ছিল মূলত দুইটি বিষয়ে। এক, নর্ড স্ট্রিম ২ নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধান সহমত হতে পারেন কি না। এবং দুই, ইউরোপের নাগরিকদের অ্যামেরিকা যাওয়ার ক্ষেত্রে বাইডেন নিয়ম শিথিল করেন কি না। দুইটি বিষয়েই দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে ম্যার্কেল-বাইডেনের। তবে এদিনের সাংবাদিক বৈঠক তারা শুরু করেছেন জার্মানির বন্যাদুর্গতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে।

ম্যার্কেলবলেছেন, তিনি যখন সুদূর অ্যামেরিকায় বসে আছেন, তখন দেশের মানুষ আচমকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার বন্যা দুর্গতদের সবরকম সাহায্য করবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টও বন্যা দুর্গতদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

নর্ড স্ট্রিম ২

ইউরোপের বহু দেশই গ্যাস এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর অনেকটা নির্ভরশীল। অ্যামেরিকা কখনোই বিষয়টি ভালো চোখে দেখে না। অ্যামেরিকার দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে রাশিয়া অতিরিক্ত সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে এবং দাদাগিরি চালায়। এরই মধ্যে বিতর্কিত নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস লাইনের চুক্তি করে রাশিয়া এবং জার্মানি। ইউক্রেনের উপর দিয়ে সেই গ্যাস লাইন যাবে রাশিয়া থেকে জার্মানি। অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনকে দেশের অঞ্চল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কর দিতে চাইছে না। এক সময় অ্যামেরিকা ওই গ্যাস লাইন তৈরির সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল।

বৃহস্পতিবার দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা সম্পূর্ণ সহমত না হলেও বরফ খানিকটা গলেছে। বাইডেন বলেছেন রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে রাশিয়ার ওই সংস্থার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ম্যার্কেল বলেছেন, রাশিয়ার অবশ্যই ইউক্রেনের জমি ব্যবহারের জন্য কর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি বাইডেনকে আশ্বস্ত করে ম্যার্কেল জানিয়েছেন, এই গ্যাস লাইনের মাধ্যমে জার্মানি রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে না।

অ্যামেরিকার কোভিড নীতি

ইউরোপীয় নাগরিকদের অ্যামেরিকায় ঢোকার বিষয়ে এখনো একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে মার্কিন প্রশাসন। কোভিডের কারণেই ওই নিয়মগুলি তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনা হয়েছে। বাইডেন জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে নিয়ম-কানুন শিথিল করার পথে এগোচ্ছে অ্যামেরিকা। এখনই সমস্ত নিয়ম তুলে না দিলেও ধীরে ধীরে তা হবে।

চীন নিয়ে দুই দেশের মত

চীন নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। চীনের সঙ্গে জার্মানির বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। কিন্তু অ্যামেরিকার সঙ্গে চীনের সঙ্গে এখন প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে হংকং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই নেতাই। আলোচনা হয়েছে, চীনের মানবাধিকার এবং শ্রমিক-নীতি নিয়ে। ম্যার্কেল এবং বাইডেন দুইজনই একটি বিষয়ে সহমত হয়েছেন। চীনের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য সামগ্রিক নীতি রূপায়ন করতে হবে। জার্মানি কখনোই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক দূরত্ব তৈরি করতে চায় না। কিন্তু কীভাবে একটি ভারসাম্য তৈরি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের।

আফগানিস্তান এবং সাহেল

জর্জ ডাব্লিউ বুশ যখন আফগানিস্তানে সেনা পাঠিয়েছিলেন, প্রায় সেই সময় থেকেই ন্যাটোর সদস্য হিসেবে জার্মান সেনা আফগানিস্তানে ছিল। সম্প্রতি জার্মানি সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে। অ্যামেরিকায় অগাস্টের মধ্যে সমস্ত সেনা প্রত্যআহার করে নেবে। ম্যার্কেল জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে অ্যামেরিকার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে জার্মানি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক যুদ্ধে অনেকটাই সফল তারা। তবে ম্যার্কেল আক্ষেপ করে বলেছেন, একটি ঐক্যবদ্ধ আফগানিস্তান গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। বাইডেনও আফগানিস্তানে জার্মানির সহযোগিতার প্রশংসা করেছেন।

বাইডেন এদিন বলেছেন, ম্যার্কেল তার দীর্ঘদিনের বন্ধু। ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ওভাল অফিসে তারা বহুবার আড্ডা মেরেছেন। ম্যার্কেল চ্যান্সেলর না থাকলেও তাদের সেই বন্ধুত্ব অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন বাইডেন। পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্কও আরো উন্নত হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধানই।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডিপিএ)