বাংলা ছবি ঠাঁই পাচ্ছে না কলকাতার হলে | বিশ্ব | DW | 26.09.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

বাংলা ছবি ঠাঁই পাচ্ছে না কলকাতার হলে

ক্রমশ নিজভূমে পরবাসী হয়ে উঠছে বাংলা ছবি৷ পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ছবি দেখাতে নিমরাজি প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা৷ প্রতিবাদে সরব স্বয়ং চলচ্চিত্র পরিচালক৷ হল-মাল্টিপ্লেক্সকে হিন্দির সঙ্গে সমানুপাতে বাংলা ছবি দেখাতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

কলকাতার প্যারাডাইস হলে চলতি সপ্তাহে হিন্দি ছবি চলছে

কলকাতার প্যারাডাইস হলে চলতি সপ্তাহে হিন্দি ছবি চলছে

সম্প্রতি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র মহলে শোরগোল পড়েছে৷ তিনি হল মালিকদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন৷ তাঁর নতুন ছবি ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত'  মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ২০ সেপ্টেম্বর৷ কিন্তু কলকাতার কোনো হলে তাঁর ছবিকে মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়নি৷ ছবি মুক্তির আগে হলের যে তালিকা পাওয়া যায়, তাতে দেখা গিয়েছে, শহরতলি ও জেলার কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখানোর অনুমতি মেলে৷এর বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্ট করেন প্রদীপ্ত৷ ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়া পরিচালক লেখেন, ‘‘বাংলা ছবির প্রতি যথেচ্ছ করুণা বর্ষণ করুন৷ খুবই খারাপ লাগছে, কিন্তু হাল ছাড়া যাবে না৷ ছবি আমরা দেখাবোই৷’’

Bengali Kino Komplex Kalkutta

কলকাতার একটি সিনেমা হলে ভবিষ্যতে যে ছবিগুলো চলবে সেগুলোর পোস্টার

এই প্রথম নয়, অতীতেও হিন্দি ও ইংরেজি ছবির দাপটে পিছু হঠেছে বাংলা ছবি৷ হিন্দি ছবি ‘রাজি’-র জন্য পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘হামি’-কে সময় দেওয়া হয়নি৷ তারও আগে দক্ষিণের ছবি ‘বাহুবলী’-র সঙ্গে লড়াইয়ে ময়দান ছেড়েছিল পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিসর্জন’৷ একই অবস্থা হয়েছিল কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ‘গুড নাইট সিটি’-র৷ হিন্দি ছবি বেশি জনপ্রিয়, একথা স্বীকার করেও প্রদীপ্ত বলেন, ‘‘কলকাতায় বাংলা ছবির দর্শক আছে৷ আমার এই ছবিতে স্টার ভ্যালুও কম নয়৷ তাই কলকাতার বুকে কমপক্ষে তিনটি হল পাওয়ার কথা৷ রহস্যময় কারণে তা হয়নি৷ এটা সবাইকে জানাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছি৷’’

অডিও শুনুন 02:30

হিন্দি ছবির প্রযোজকেরা বেশি টাকা দেয়: সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

বাংলা ছবি না চলার কথা মানতে চাননি চলচ্চিত্র সমালোচক, অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘হিন্দি ছবির প্রযোজকেরা বেশি টাকা দেয়৷ বৃহৎ পুঁজি এভাবেই আমাদের গ্রাস করছে৷ কোনদিন শুনবো সত্যজিৎ, ঋত্বিকের ছবি দেখানোর হলও পাওয়া যাচ্ছে না৷ সবটাই কি বাণিজ্যিক মুনাফা পরিচালনা করবে?’’ এর সঙ্গে রাজনীতিকে জুড়েছেন তিনি৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আর্থিক কারণে একটা সাংস্কৃতিক সংকট তৈরি করা হচ্ছে৷ এটা হিন্দি সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের লক্ষণ৷ প্রান্তিক ভাষা ও সংস্কৃতিকে কোণঠাসা করা হচ্ছে৷’’

গত সপ্তাহে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রদীপ্তর পোস্ট হইচই ফেলে৷ দুর্গাপুজো উপলক্ষে শুক্রবার এবং পরের সপ্তাহে একগুচ্ছ বাংলা ও হিন্দি ছবির একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার কথা৷ বক্স অফিসে বাংলার ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’, ‘মিতিন মাসি’-র সঙ্গে লড়াইয়ে বলিউডের টাইগার শ্রফ, হৃত্বিক রোশনের ছবি ‘ওয়ার’৷ বিভি্ন্ন হল ইতিমধ্যেই ‘ওয়ার’-এর পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে৷ উৎসবের দিনে বাংলা ছবির হল প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে৷ বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের প্রধান সচিব বিবেক কুমার হল মালিকদের একটি নির্দেশিকা পাঠাচ্ছেন৷ তাতে সরকারের হল এবং মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে বাংলা ও হিন্দি ছবি প্রদর্শনের জন্য সঠিক অনুপাত বজায় রাখতে বলা হচ্ছে৷ 

অডিও শুনুন 05:02

হিন্দি ছবির সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতা জোরদার করতে হবে: প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য

ফেসবুকে প্রদীপ্তর প্রতিবাদ ও চলচ্চিত্র মহলের সমালোচনায় অবশ্য কাজ হয়েছে৷ ২৭ সেপ্টেম্বর রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত মুক্তির আগে প্রদীপ্ত যে প্রেক্ষাগৃহের তালিকা পেয়েছেন, তাতে কলকাতার প্রথম সারির কয়েকটি হল ও মাল্টিপ্লেক্স রয়েছে৷ এই দফায় বাংলা ছবির দাবির সামনে পিছু হঠেছেন হল মালিকরা৷ কেন বাংলা ছবিকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়ে মালিকরা ডয়চে ভেলেকে কিছু বলতে চাননি৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ আসার পর তাঁরা কিছুটা ব্যাকফুটে৷ এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে বাংলার চলচ্চিত্র মহল৷ প্রদীপ্ত বলেন, ‘‘হিন্দি ছবির সঙ্গে আমাদের প্রতিযোগিতা জোরদার করতে হবে৷ বিভিন্ন বিষয়ের ছবি তৈরি করতে হবে৷ শক্তিশালী চিত্রনাট্য, অভিনব ভাবনা ও নিত্যনতুন ট্রিটমেন্ট কাজে লাগিয়ে বাংলা ছবিকে আকর্ষণীয় করে তোলা দরকার৷ বিগ বাজেটের ছবি আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে৷ তাদের সঙ্গে টক্কর দিতে হবে আমাদের৷’’ এই সংকটের জন্য বাঙালি দর্শকের রুচিকেও কিছুটা দায়ী করলেন ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রাক্তন সদস্য, ফিল্ম স্টাডিজের অধ্যাপক নবীনানন্দ সেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভালো সিনেমা দেখার অভ্যেস আমাদের তৈরি করাতে হবে৷ দর্শক নিম্নরুচির কিছুতে আকৃষ্ট হতেই পারেন, তাঁকে ভালো ছবি দেখাতে হবে৷ আমাদের ভালো ছবি তৈরি করতে হবে৷’’

২০১৮ সালের জুলাই মাসের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন