বাংলা গান শোনে না কলকাতা!‌ | বিশ্ব | DW | 24.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বাংলা গান শোনে না কলকাতা!‌

‘‌কলকাতার গান, কলকাতার প্রাণ'‌ ছিল যে এফএম চ্যানেলের স্লোগান, সেই ‘আমার এফএম' বন্ধ হয়ে গেল৷ বাংলা গানের দুর্দিন ঘোষিত হলো আরও একবার৷

কলকাতা শহরে এখন যে কটি এফএম রেডিও স্টেশন আছে, তাদের রেডিও জকিরা সবাই কথা বলেন মূলত হিন্দি এবং ইংরেজি, তার সঙ্গে খুব সামান্য বাংলা মেশানো এক জগাখিচুড়ি ভাষায়৷ ব্যতিক্রম ছিল একমাত্র আমার এফএম চ্যানেলটি৷ কলকাতার জনপ্রিয় টাইমস রেডিও মির্চি, বিগ এফএম, ফ্রেন্ডস এফএম এবং বিগ এফএম— সবাই বেশি বাজায় হিন্দি গান৷ এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ছিল আমার এফএম৷ বন্ধ হয়ে গেল স্টেশনটি৷ যদিও বলা হচ্ছে, সাময়িক বন্ধ থাকবে সম্প্রচার, কিন্তু যাঁরা এফএম বাণিজ্য সম্বন্ধে খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা সবাই জানেন, বিজ্ঞাপনী পৃষ্ঠপোষকতা না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ধুঁকছিল চ্যানেলটি৷ কেন বিজ্ঞাপন আসছিল না?‌ কারণ, কলকাতার লোক নাকি বাংলা গান শুনতে আজকাল আর পছন্দ করেন না!‌ অন্য এফএম চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রে সরাসরি সে কথা না বলে অবশ্য বলা হয়, দিল্লি, মুম্বাই, বা বেঙ্গালুরুতে তাদের সদর দপ্তরের সেরকমই নির্দেশ৷ বাংলা গান না বাজানোর৷ যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জনমত সমীক্ষা, শ্রোতাদের পছন্দ-অপছন্দ এবং বাজার যাচাইয়ের ভিত্তিতে৷

অডিও শুনুন 02:11

‘বাংলা গান, বাংলা সাহিত্য, বাংলা সিনেমা সবই আজ সংকটে’

অথচ একটা সময় বাংলা ব্যান্ডের গান জনপ্রিয় করতে খুব বড় ভূমিকা নিয়েছিল আমার এফএম৷ ভূমি, চন্দ্রবিন্দু, শহর, বা ক্যাকটাস-এর মতো বাংলা ব্যান্ডই শুধু নয়, রূপঙ্কর, রাঘব, মনোময়-এর মতো এখনকার বাংলা আধুনিক গানের শিল্পীদের গানের মঞ্চ হয়ে উঠেছিল এই এফএম চ্যানেল৷ তাই এই চ্যানেলের অকাল সমাপ্তি বাংলা গানের জন্যে এক বড় ধাক্কা৷ ডয়চে ভেলেকে বললেন চন্দ্রবিন্দুর মূল গায়েন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়৷

বাংলা ব্যান্ডের গান, বিশেষত বাংলা রক সংগীত নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা আছে গায়ক প্রিয়ম সেনগুপ্তর৷ তিনি বললেন, একমাত্র কোনো বাংলা সিনেমার প্রচার প্যাকেজের অংশ হিসেবে, টাকার বিনিময়ে সিনেমার গান বাজানো হয় এফএম চ্যানেলে৷ তার বাইরে অন্য গোত্রের বাংলা গান দশমিক এক শতাংশও বাজানো হয় না৷ রবীন্দ্রনাথের গান থেকে নজরুলগীতি, লোকগান— সব ওই ভগ্নাংশের মধ্যেই পড়ে৷ এর কারণ হিসেবে এফএম চ্যানেলগুলো একদিকে ওই হাস্যকর যুক্তি দেয় যে সদর দপ্তরের নির্দেশ৷ অথচ এই চ্যানেলগুলোই যখন কোনো অনুষ্ঠান করে, জলসা বা গানের আসর বসায়, তখন বাংলা ব্যান্ডেরই ডাক পড়ে আসর জমাতে, টিকিট বিক্রি বাড়াতে৷

আমার এফএম বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে অনিন্দ্য আরো বলেছেন, শুধু বাংলা গান নয়, বাংলা সাহিত্য, বাংলা সিনেমা, সবই আজ একই রকম সংকটে৷ এখনই যদি সচেতন না হওয়া যায়, সার্বিকভাবে বাংলা সংস্কৃতিকেই উদ্ধার করা যাবে না!‌  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন