‘বাংলায় পঞ্চাশের মন্বন্তরের জন্য দায়ী ছিলেন চার্চিল′ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.09.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘বাংলায় পঞ্চাশের মন্বন্তরের জন্য দায়ী ছিলেন চার্চিল'

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ইচ্ছে করে ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন – সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বইয়ে এমনটা দাবি করা হয়েছে৷

default

নতুন করে মূল্যায়ন হচ্ছে চার্চিলের

১৩৫০ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৩ সালে অবিভক্ত বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় তা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত৷ তখন জাপান সবে বর্মা দখল করেছে৷ ফলে ভারতে তখন চালের অভাব দেখা দিয়েছিল৷ যা খাদ্য ছিল, ঔপনিবেশিক সরকার তখন তা সৈন্যদের খোরাক হিসেবে মজুত করে রেখেছিল৷ আতঙ্কে সাধারণ মানুষও চাল মজুত করতে শুরু করে৷ ফলে বাজারে চালের দাম আকাশছোয়াঁ হয়ে পড়ে৷ তাছাড়া জাপানি হামলার ভয়ে ব্রিটিশ শাসনযন্ত্র নৌকো ও গরুর গাড়ি বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংস করতে শুরু করে৷ খাদ্য সরবরাহের গোটা কাঠামোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এই সব পদক্ষেপের ফলে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়৷ গ্রামের মানুষ খাবারের আশায় দলে দলে কলকাতা শহরে এসে পড়ে৷ রাস্তাঘাটে তখন ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যেত৷ শিশুসহ কঙ্কালসার মায়েদের মৃতদেহ পড়ে থাকত৷ অন্যদিকে ব্রিটিশ শাসক ও উচ্চ মধ্যবিত্ত বাঙালিরা দিব্যি খেয়ে দেয়ে বেঁচে ছিল৷

Edwina Mountbatten

জিন্নাহ সহ সস্ত্রীক মাউন্টব্যাটেন – উপনিবেশ ছাড়ার আগে দেশভাগে ব্রিটিশদের ভূমিকা অজানা নয়

জার্মানিবাসী বাঙালি মধুশ্রী মুখার্জি প্রায় ৭ বছর ধরে অজানা অনেক নথিপত্র ঘেঁটে একটি বই লিখেছেন, যার নাম ‘চার্চিলস সিক্রেট ওয়ার' বা ‘চার্চিলের গোপন যুদ্ধ'৷ তাঁর দাবি, চার্চিল নিজে সরাসরি বাংলার মন্বন্তরের জন্য দায়ী ছিলেন৷ বাংলায় ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর হাজার আবেদন সত্ত্বেও তিনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে সেই কাজ করতে দেন নি৷ এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া ত্রাণ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও চার্চিল ও তাঁর মন্ত্রীরা সেই অনুমতি দেন নি৷ ভারত ও ভারতীয়দের প্রতি তাঁর মনে বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছিল, তার বেশ কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে৷ ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী লিও আমেরি'র ডায়রি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মধুশ্রী মুখার্জি লিখেছেন, ‘‘চার্চিল ও হিটলারের মনোভাবের মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখতে পাইনি৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন
সম্পাদনা: সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়