বাংলার পশ্চিমের জেলায় বন্যার আশঙ্কা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 10.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

বাংলার পশ্চিমের জেলায় বন্যার আশঙ্কা

পশ্চিমবঙ্গের বা বাংলার পশ্চিমের জেলাগুলিতে গন্ধেশ্বরী, শিলাবতী, কংসাবতী, ডুলুং নদী, ওদিকে দামোদর ও দ্বারকেশ্বর নদের জল বিপদসীমা ছুঁয়েছে৷ এরপর ফের লাগাতার বর্ষণ হলে বন্যা নিশ্চিত৷

সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সর্বত্র এবং সাড়াও ফেলেছে৷ প্রবল জলস্রোতের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে যাচ্ছে একটি দোতলা বাড়ি৷ উলটোদিকের বাড়ির জানলা থেকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তোলা একটিই সংক্ষিপ্ত ভিডিও, যা দেখে বাঁকুড়া জেলায় অতিবর্ষণের কারণে প্রায় বন্যার মতো পরিস্থিতি সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল৷ কিন্তু জেলার হালফিলের পরিস্থিতি জানতে গিয়ে একটু বোকাই বনতে হলো৷

বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা, পেশায় চিকিৎসক একজন নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ডয়চে ভেলেকে জানালেন, বাঁকুড়ায় কখনোই দু'‌ঘণ্টার বেশি জল দাঁড়ায় না৷ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শুকনো জেলা বলে পরিচিত বাঁকুড়ায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টির কারণে অমন জলস্রোত তৈরি হলেও, বৃষ্টি থামতে, রোদ উঠতেই আবার সব খটখটে শুকনো হয়ে গেছে৷

তবে যে বাড়িটি ভেঙে পড়ার ছবি সাড়া ফেলেছে, সেটার অবস্থান নাকি গন্ধেশ্বরী নদীর খাতে৷ নদীর ধারে নয়, নদীর বুকে৷ নির্দিষ্টভাবে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক৷ নদীখাত দীর্ঘদিন শুকিয়ে যাওয়ায় চড়ার ওপরেই তৈরি হয়েছে স্থায়ী কংক্রিটের নির্মাণ৷ তার মধ্যে যেমন ফ্ল্যাটবাড়ি আছে, তেমনই সরকারি দপ্তরও আছে৷ হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে শুকনো নদীখাত বেয়ে বন্যার মতো জল ধেয়ে আসায় সামাল দেওয়া যায়নি৷ তবে ভেঙে পড়া বাড়িটির বাসিন্দাদের আগেই নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ ফলে কোনো প্রাণহানি হয়নি৷

আবহাওয়া দপ্তরের হিসেবে সোম থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে, ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৪ মিমি বৃষ্টি হয় বাঁকুড়ায়৷ তার মধ্যে ২৩৯ মিমি বৃষ্টি হয়েছে মাত্র তিন ঘণ্টায়৷ ফলে ওই জলস্রোত৷ বৃষ্টি না কমলে লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত একাধিক নদীবাঁধের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্কতা জারি হয়েছিল৷ সেক্ষেত্রে যেহেতু বাঁধগুলি পাহাড়ি টিলার ওপর, একটু উচ্চতায় অবস্থিত, বাঁকুড়া, হুগলি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের সমতল এলাকায় হড়কা বান, অর্থাৎ আচমকা জলস্রোত ধেয়ে এসে সব ভাসিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা ছিল৷ পরের দু'‌দিনে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা আপাতত কিছুটা কম৷ গত মরশুমে ঝাড়খণ্ডের ওই বাঁধগুলির থেকে জল ছাড়ার কারণেই পশ্চিমবঙ্গে ৬০ জনের মৃত্যু হয়৷

এদিকে মেদিনীপুরের পরিস্থিতিও আশঙ্কাজনক৷ পশ্চিম মেদিনীপুরে সুবর্ণরেখা নদীতে জল বাড়ছে৷ শিলাবতী, বা শিলাই নদীর জলও বিপদসীমা ছুঁয়েছে৷ এর মধ্যেই জল ঢুকেছে দাঁতন-২ ব্লকের বেশ কিছু গ্রামে৷ পূর্ব মেদিনীপুরে কংসাবতী নদীর বাঁধে ফাটল ধরে জল ঢুকেছে পাঁশকুড়ায়৷ ঝাড়গ্রামের আপাত শীর্ণ, শান্ত ডুলুং নদীরও দুকূল প্লাবিত৷ নদীর ধারের গ্রামগুলি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে আরও প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার৷ কারণ এর পর দু-একদিনের টানা বৃষ্টিই বন্যা ডেকে আনবে৷ রাজ্যের সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র জেলায় জেলায় ঘুরছেন৷ সতর্ক রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন