বাংলার নাট্যমঞ্চেও উঠে আসছে বিজেপি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 09.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

বাংলার নাট্যমঞ্চেও উঠে আসছে বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের মৌসুমে নাট্যমঞ্চেও লাগছে রাজনীতির রং৷ নাট্যমঞ্চে রাজনীতির প্রভাব কিংবা রাজনীতিতে নাট্যকর্মীদের সক্রিয়তা নতুন নয়৷ তবে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশের খবরে নতুনত্ব আছে বৈকি৷

পশ্চিমবঙ্গে এক সময় প্রগতিশীল আন্দোলনের সমার্থক হয়ে উঠেছিল গ্রুপ থিয়েটার৷ বামফ্রন্টের আমলেও এই পরম্পরা অটুট ছিল৷ কিন্তু বাম শাসনের শেষ দিক থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তনের ডাকে রং বদলাতে থাকে৷ নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু, বিভাস চক্রবর্তী, অর্পিতা ঘোষ প্রমূখ সরাসরি বিরোধীদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন৷

ব্রাত্য বসু এখন তৃণমূল সরকারের মন্ত্রী আর অর্পিতা ঘোষ তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য৷ চন্দন সেন, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, মেঘনাদ ভট্টাচার্য প্রমুখ নাট্যকাররা বাম ধারাকে এখনো বজায় রেখেছেন৷

শহরে নয়া নজির

বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগেই নানা ইস্যুতে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ৷ সংস্কৃতি জগতেও তার ছোঁয়া লেগেছে৷ এর আগে টালিগঞ্জ চলচ্চিত্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিয়ে সংগঠন তৈরি হয়েছিল বিজেপির পৃষ্ঠপোষকতায়৷ এবার নাট্যকর্মীদের বড় আকারের একটি সংগঠনে অংশীদার হতে চলেছে গেরুয়া শিবির৷

অডিও শুনুন 02:33

একবছর পরে দিল্লি সুবিধা করে দিচ্ছে, এটা অবান্তর: মেঘনাদ ভট্টাচার্য

আগামী ১৭ জানুয়ারি কলকাতার যোগেশ মাইম হলে একটি আলোচনা চক্রের আয়োজনে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রের শাসকশিবিরের নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বিজেপির রাজ্য সম্পাদক ও থিয়েটারকর্মী শর্বরী মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী ও প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা৷ ‘দ্য লিবারাল থিয়েটারস্ কনফেডারেশন’ সংগঠনের আহ্বানেই এই জমায়েত৷

২০১৮ সালে তৈরি এই সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের নাট্যকর্মীদের সমস্যা, নিরাপত্তা, উন্নতিসহ সার্বিক দিক নিয়ে কাজ করতে চায়৷ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জেলার ৬৮৬ টি দল ইতিমধ্যে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে৷ সংগঠনের অন্যতম সদস্য ‘বোড়াই ইতি থিয়েটার’-এর সৃজিত ঘোষের ব্যাখা, ‘‘বাংলায় এই সংগঠন আরও আগে তৈরি হওয়া উচিত ছিল৷ বাংলা থিয়েটারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সমস্যা৷ অতীতে আমরা নাট্যকর্মীদের অর্থনৈতিক ও শারীরিক সমস্যায় সহযোগিতা করেছি৷ লকডাউনেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি৷ এবার নিরাপত্তার জন্য নাট্যকর্মীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, আবাসনের ব্যবস্থা করতে চাই৷’’

তৃতীয় বিশ্বে নাট্যকর্মীদের অবস্থা নিয়ে কজন ভাবেন? লকডাউনে সব বন্ধ ছিল বলে মানুষের অনুদান এসেছে৷ এখন হল খুলে যাচ্ছে৷ মানুষ কি তেমন অনুদান দেবেন? নাট্যকর্মীদের সংসার চলবে কী করে? সমাধানই-বা কোথায়? এসব প্রশ্নই সৃজিৎ-এর মতো ‘সরস্বতী কলামন্দির'–এর প্রবীর মণ্ডল, ‘কালিন্দী নাট্যসৃজন'-এর বিল্বদল চট্টোপাধ্যায়, নাট্যকার মৃণালজিৎ গোস্বামীদের ভাবিয়েছে৷ তাহলে ১৭ জানুয়ারি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর লক্ষ্য কী? তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাডেমি কার্যত কোনো কাজই করে না৷ তাই নাট্য আকাডেমির দায়িত্বই পালন করবে ‘দ্য লিবারাল থিয়েটারস্ কনফেডারেশন'৷ পাশাপাশি ভাল হল তৈরি, ভাল অভিনেতা তৈরির মতো সামগ্রিক দিকেও নজর থাকবে৷ 

দলের অনুপ্রেরণা

নাট্যকর্মীরা জানান, দিল্লি থেকে বছরে ১২ কোটি, রাজ্য থেকে চার কোটি টাকা অনুদান আসে৷ সৃজিত বলেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছে বাংলা থিয়েটার দিল্লি নির্ভর৷ দিল্লি ছাড়া কাজ করার উপায় নেই, বাঁচার উপায় নেই৷ রাজ্যের সামর্থ্যও নেই, সাধও নেই!’’ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক নাট্যকর্মী বলেন, ‘‘থিয়েটার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ৩০ মিনিটের একটি ভিডিও অনুপ্রাণিত করেছে আমাদের৷ দেরিতে হলেও অনান্য দলের তুলনায় বিজেপি নাট্যদলের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করেছে৷’’

প্রবাদপ্রতিম নাট্যব্যক্তিত্ব মেঘনাদ ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘লকডাউনে আমরা নিজেরা নাট্যোৎসব করে টাকা তুলেছি৷ কিন্তু থিয়েটারের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল মানুষদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো আলাদা করে গ্রান্ট দেননি৷ তাই জাতীয় পুরস্কারজয়ী নাট্যব্যক্তিত্বদের সই নিয়ে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলাম, তাতে দিল্লি কর্ণপাত করেনি৷ আজ হঠাৎ করে প্রায় একবছর পরে দিল্লি আমাদের সুবিধা করে দিচ্ছে, এটা অবান্তর৷’’

মেঘনাদ বলেন, ‘‘আসলে বিজেপি চাইছে নাট্যকর্মীদের মধ্যে ভাঙন তৈরি করে তাদের নিজস্ব ইউনিট তৈরি করতে, যেটা ভোটে কাজে লাগবে৷ সত্যি কাজ করার থাকলে অনেক আগেই করত৷’’

দেখুন গত সেপ্টেম্বরের ছবিঘর...

নির্বাচিত প্রতিবেদন