1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বাংলাদেশ ব্যাংকের আগুন নিয়ে প্রশ্ন

হারুন উর রশীদ স্বপন ঢাকা
২৪ মার্চ ২০১৭

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনের ১৪ তলায় আগুন লাগে বৃহস্পতিবার৷ আধ ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও, এ ঘটনা বহু প্রশ্নের জন্ম দেয়৷ বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর, এবার বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে আগুনের ঘটনার কারণে৷

https://p.dw.com/p/2Zu1j
বাংলাদেশ ব্যাংক
ছবি: Reuters/A. Rahman

বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লাগার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে সে কথাই বলেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম. এ. মান্নান৷ রিজার্ভ চুরির সময়ও বাংলাদেশ ব্যাংকে তিন দিনের ছুটি ছিল আর এবার আগুনের ঘটনার সময়ও বাংলাদেশ ব্যাংকে বন্ধ ছিল তিন দিনের জন্য৷ বিষয়টির মধ্যে কোনো যোগসাজশ আছে কিনা – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কাকতালীয় হোক আর যা-ই হোক, এভাবে আগুন লাগার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে৷ আমাদের আইসিটি বিভাগ, বুয়েট ও কম্পিউটার সায়েন্সের বিশেষজ্ঞদের দেখানো হবে৷ ঘটনা যা-ই ঘটুক, প্রকৃত ঘটনা সবাইকে জানানো হবে৷ এখানে ঢেকে রাখার কিছু নেই৷'' তবে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ঘটনাস্থলে গেলেও, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি তাঁরা৷

Bri Ali Ahmed - MP3-Stereo

৩০ তলার বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ১৪ তলায় বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কক্ষের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়৷ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা পরাবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে৷ এই ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের নিয়মিত তদন্ত কমিটি ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামালের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ দু'টি কমিটি এরইমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর৷ তারা আগুন লাগার কারণ এবং এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত কিনা, তার খতিয়ে দেখার কাজ করছেন৷

শুক্রবার পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত কমিটি জানায়, ‘আগুনে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার জিএম মাসুদ বিশ্বাসের কক্ষের কাগজপত্র এবং তাঁর পিএস-এর টেবিলে রাখা কাগজপত্র পুড়ে গেছে৷'

কিন্তু কী ধরনের কাগজপত্র পুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত কমিটি৷ সেটা নিশ্চিত হলেই প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে৷ কারণ এর আগে গত ১৪ই মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগেরই ই-মেল হ্যাক করেছিল হ্যাকাররা৷ এর আগে গত বছরের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয়৷ বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ বিভাগ আলাদা থাকলেও তাদের নিয়ন্ত্রক এই বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগই৷

Abu Nayem Mohammad Sahidullah - MP3-Stereo

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ শুক্রবার আগুনের ঘটনা পরিদর্শনের পর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ আমাদের আগুনের খবর দেয়নি৷ বাইরে থেকে আগুন দেখে স্থানীয়রা খবর দিয়েছে৷ তাছাড়া ব্যাংকের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা খুবই নড়বড়ে৷ তাদের ফায়ার অ্যালার্মও কাজ করেনি৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা দেখে আমরা হতাশ৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আগুনে কিছু ফার্নিচার ছাড়াও অনেক ফাইল এবং কাগজপত্র পুড়ে গেছে৷ আর আগুন লাগার কারণ সম্পর্কেও এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না৷''

ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐ জায়গায় আগুন লাগার কথা নয়৷ ব্যাংকের ভেতরে এটাই প্রথম আগুন, যা নিভাতে ফায়ার সার্ভিসকে যেতে হয়েছে৷ এই আগুন নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং নানা কথা আছে৷ তাই আমরা এটাকে গভীরভাবে তদন্ত করে দেখব৷ আমাদের তদন্ত দলের দুই সদস্য আগুনের সময়ই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন৷ এখন আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ধরে তদন্ত করব৷ তাহলেই স্পষ্ট হবে আগুন লেগেছে না, লাগানো হয়েছে৷''

Samorendra nath Biswas - MP3-Stereo

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দলের প্রধান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামাল অবশ্য মনে করেন, ‘‘বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে৷''

ফায়ার সাভির্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জেনারেল আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা৷ তাই সেখানে এই আগুনের ঘটনা বিস্ময়কর৷ এছাড়া ফায়ার সার্ভিস কেন, তাদের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপন ব্যাবস্থারই তো তা নেভানোর কথা ছিল৷ কিন্তু সেটা হয়নি৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘রিজার্ভ চুরির পর বাংলাদেশ ব্যাংক আস্থার সংকটে আছে৷ আর এই ঘটনায় সংকট আরো বাড়ল৷ তাই এই আগুনের ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন৷''

বন্ধু, আপনার মনেও কি এই ঘটনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন আছে? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য