বাংলাদেশে হুমকির চেয়ে চাকরিচ্যুতি বড় চ্যালেঞ্জ | বিশ্ব | DW | 03.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে হুমকির চেয়ে চাকরিচ্যুতি বড় চ্যালেঞ্জ

মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে হত্যা, হুমকি ও কাজে বাধার চেয়ে হুট করেই চাকরিচ্যুতি, বেতন না দেয়াসহ কয়েকটি বিষয়কে প্রধান চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সাংবাদিকরা৷ তাঁরা বলছেন, চাকরিই যদি না থাকে, তাহলে স্বাধীনতা দিয়ে কী হবে?

এসবের প্রতিকারে আগামী ৬ মে জাতীয় প্রেসকাবের সামনে সমাবেশ ডেকেছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো৷

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সভাপতি মোল্লা জালাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হত্যা, হুমকি, পেশাগত কাজে বাধা তো আছেই৷ কিন্তু তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতি৷ অনেক মালিক তো বেতনই বন্ধ করে দিয়েছেন৷ ফলে চাকরি রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ৷ আপনার চাকরি যদি না থাকে, তাহলে স্বাধীনতা দিয়ে কী হবে? আগে তো চাকরি রক্ষা করা দরকার৷ সাংবাদিকরা কাজ করেন রাষ্ট্রের স্বার্থে, মানুষের পক্ষে৷ কিন্তু সংবাদপত্রের মালিকরা মাফিয়া হয়ে উঠছেন৷ হুট করেই চাকরি থেকে বাদ দিচ্ছেন৷ এগুলো দেখার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের৷ কিন্তু রাষ্ট্র যখন এদিকে মনোযোগ না দেয়, তখন মালিকরা মাফিয়া হয়ে  ওঠেন৷ ফলে হত্যা বা হুমকির ঘটনা এখানে চাপা পড়ে যাচ্ছে৷’’

অডিও শুনুন 01:38

চাকরি যদি না থাকে তাহলে স্বাধীনতা দিয়ে কী হবে: মোল্লা জালাল

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন ওয়ার্ল্ড প্রেস ফিডম ডে উপলক্ষে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে৷ সেখানে বাংলাদেশে গণমাধ্যম, অধিকারকর্মী ও মত প্রকাশের চর্চাকারীদের ‘হত্যা, হুমকি ও পেশাগত কাজে বাধা' দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে৷ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মত প্রকাশের অধিকার খর্বের ৪৬৩টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ৷

ভয়ভীতি প্রদর্শন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রেকে ‘অবদমিত' করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সল৷ তিনি বলেন, ‘‘এসব অনভিপ্রেত ঘটনা মানবাধিকারকর্মী, যোগাযোগকর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পী-সাহিত্যিকদের কণ্ঠরোধে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে৷’’

অডিও শুনুন 02:19

পুরো চিত্র এই প্রতিবেদনে আমরা আনতে পারিনি: রুবায়েত রহমান

প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র কনসালটেন্ট রুবায়েত মল্লিকা রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, পুরো চিত্র এই প্রতিবেদনে আমরা আনতে পারিনি৷ আংশিক এসেছে৷ আমাদের সারাদেশেই একটা বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে৷ বিভাগীয় শহর ছাড়াও জেলা শহরে আমাদের প্রতিনিধি আছেন৷ এছাড়া পত্রিকা, টিভি চ্যানেল ও অনলাইনগুলো আমরা নিয়মিত মনিটরিং করি৷ সেভাবেই আমাদের প্রতিবেদন তৈরি হয়৷ আমি এবং ফারুক ফয়সল দু'জনই খুব অল্পদিন আগে এখানে এসেছি, ভবিষ্যতে আমাদের এগুলো নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে আছে৷’’

আর্টিকেল নাইনটিন-এর প্রতিবেদনে যে পরিসংখ্যানগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এমন:

·       ২০১৮ সালে মত প্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত মোট ৪৬৩ টি ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

·       অধিকার লঙ্ঘনের শতকরা ৫১ ভাগ ঘটনাই ঘটেছে জাতীয় পর্যায়ে, ঢাকায়৷

·       নারীকর্মীদের যৌননিপীড়ন-হয়রানির ঘটনার বেশীরভাগই তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট

·       ২০১৮ সালে মতপ্রকাশজনিত মোট ১৩১টি ঘটনায় আইনের অপব্যবহার হয়েছে

·     শুধু মতপ্রকাশজনিত কারণে মোট ৩১টি ফৌজদারি মানহানি মামলা হয়েছে

·    ৭১টি মামলা করা হয়েছে আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায়

·     ৯টি বেআইনি আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাসহ ২০টি বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমুলক মামলা হয়েছে

·     ২০১৮ সালে মোট ২ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন

·       ১৯ জন মতপ্রকাশ-কর্মী মারাত্মক শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন

·     ১৫৬ জন মতপ্রকাশের চর্চাকারী বিভিন্নভাবে শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন

প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০১৮ সালে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে হুমকি ও নানা ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দমনের চিত্রই বেশি লক্ষণীয়৷ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে মতপ্রকাশের চর্চা রোধে সংগঘটিত অপরাধের দ্রুত বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে আর্টিকেল নাইটনটিন৷

অডিও শুনুন 01:47

পেশাদার সাংবাদিকতা উঠে যাচ্ছে: ডিইউজে সভাপতি

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-র সভাপতি আবু জাফর সূর্য ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংবাদপত্রের মালিকরা এটাকে কর্পোরেট কালচারের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন৷ এখানে পেশাদার সাংবাদিকতা উঠে যাচ্ছে৷ ফলে মালিকরা ইচ্ছে মতো কর্মীদের ছাঁটাই করছেন, বা বিনা নোটিশে অফিসে যেতে মানা করছেন৷ এখানে যদি পেশাদার সাংবাদিকতা গড়ে ওঠে, তাহলে এগুলো অনেক কমে যাবে৷ তবে এখানে হত্যার হুমকি এত বেশি আছে বলে আমি মনে করি না৷ আর্টিকেল নাইনটিনের প্রতিবেদনে যেটা বলা হয়েছে, হত্যার হুমকির কথা, আমার মনে হয় চিত্রটা এমন নয়৷ আসলে এখানে সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে৷’’

অডিও শুনুন 02:14

মালিকদের রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তিও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বড় বাধা: নূর খান

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে অধিকাংশ সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিকরা ব্যবসায়ী৷ ফলে তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় সংবাদ মাধ্যমকে কাজে লাগাচ্ছেন৷ পাশাপাশি এখানে মালিকদের রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তিও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বড় বাধা৷ এর মধ্যে আমরা দেখেছি, কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকানা বদল হয়েছে৷ যেভাবে এটা হয়েছে, বা যাদের বসানো হয়েছে, সেটা তো রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তির জন্যই৷ ফলে এখানে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন