‘বাংলাদেশে হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি বড্ড বেশি′ | আলাপ | DW | 10.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘বাংলাদেশে হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি বড্ড বেশি'

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেন এত হিংসা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যা সামাধানের মনোভাব তৈরি না হওয়াই এর প্রধান কারণ৷

ডয়চে ভেলে: খালেদা জিয়া তো এখন কারাগারে৷ বিএনপির রাজনীতিতে এর প্রভাবটা কেমন?

অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ: আমি বিষয়টাকে এভাবে দেখি, যখন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলেন তার আগে থেকেই ক্ষমতাসীনরা মনে করছিল, খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে দলটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে৷ কয়েকভাগে ভাগ হয়ে যাবে৷ কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিএনপি এখন ভয়ংকরভাবে ঐক্যবদ্ধ৷ সেটা খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে যতটা না ঐক্যবদ্ধ ছিল, এখন তার চেয়েও অনেক বেশি৷ বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আমি দেখি না৷ আর দ্বিতীয় হলো, যেহেতু খালেদা জিয়া ভয়ংকর জনপ্রিয় নেত্রী, ফলে তাঁর অনুসারী কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবি পর্যন্ত প্রচুর, যা হিসেব করে বলা যাবে না৷ 

সরকার বলছে, খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের ভুলে তিনি এখনও কারাগারে, আর তাঁর আইনজীবীরা বলছেন, সরকারের এখানে হস্তক্ষেপ করছে৷ আপনি কী মনে করেন?

আমি মনে করার কিছু নেই৷ এটা প্রমানিত হয়েছে বিভিন্নভাবে যে, বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে সবকিছু৷ প্রশাসন থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি নিম্ন আদালতও৷ এখানে খালেদা জিয়ার পক্ষে যাঁরা আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন, তাঁদের কোথাও ছোটখাট ভুল হতে পারে, সেটা অত গুরুত্বপূর্ণ না৷ এখন এসব কথা বলে বাইরে একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে যে, তাঁরা একত্রিত না, বা তাঁরা বিভ্রান্ত৷ 

আদালতের উপর কি তাহলে সরকারের হস্তক্ষেপ আছে বলে মনে করেন? 

নিম্ন আদালতে সরকারের ভয়ংকরভাবে নিয়ন্ত্রণ আছে৷ আর হাইকোর্ট নিয়ে আমরা সারা জীবনই গর্ব করে এসেছি৷ এখানে তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা আমার জানা নেই৷ এটাকে মোটামুটি স্বাধীন বলতে পারি, তবে নিচের দিকটায় যে তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই৷

অডিও শুনুন 11:35
এখন লাইভ
11:35 মিনিট

‘পারস্পরিক সহযোগিতার মাত্রা আরো উচু হওয়া দরকার’

আপনার কি মনে হয় প্রতিহিংসার রাজনীতি এখানে কাজ করছে?

বড্ড বেশি৷ এখানে তো হিংসা আর প্রতিসিংসার রাজনীতিই চলছে৷ এখানে যদি জনকল্যাণমূলক কাজের খতিয়ান নিতে যান, তাহলে কোথায় পাবেন আপনি? রাজনীতি হলো জনগণের মঙ্গলজনক কাজের যৌথ কর্মকাণ্ড৷ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনীতির উৎস হলো জনগণ৷ কয়েকদিন আগে তো জার্মানি থেকেই একটা গবেষণা এলো৷ আমি অত্যন্ত দুঃখিত বোধ করি যে, আমাদের উগান্ডার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে৷ নিকারাগুয়ার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে৷ এটা কত দুঃখজনক, কত অপমানজনক! অথচ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার আর্শীবাদ মাথায় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল৷ এর আড়াই তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়ে গিয়েছিল৷ পরে এটাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়৷ আবার তা-ও করেছিলেন খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে৷ উগান্ডা, মোজাম্বিক বা নিকারাগুয়ার সঙ্গে তুলনা হতে বড্ড দুঃখ ও লজ্জা লাগে৷

কিন্তু কেন এই প্রতিহিংসা?

এর পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস আছে৷ তবে সংক্ষেপে বলি৷ আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করেছি৷ তখন থেকে আমরা এখানকার মানুষ দ্বারা শাসিত হচ্ছি৷ এর আগে ৪ হাজার বছরের ইতিহাস আছে৷ তখন কখনোই এই এলাকা বাঙালিদের দ্বারা শাসিত হয়নি৷ এলাকার মানুষের দ্বারা শাসিত হয়নি, শোষিত হয়েছে৷ ফলে আমরা মাথা উঁচু করে চলবার শিক্ষাটা এখনো পাইনি৷ ব্রিটিশ আমলেও বা পরে পাকিস্তান আমলেও আমরা নিজেরা শাসন করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি৷ কিন্তু নিজেরা কীভাবে শাসন করব বা করতে হয়, তা আমরা কখনও ভাবিনি৷ আমরা আত্মসমালোচনা, পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ – এ সব নিয়ে কখনোই ভাবিনি৷ একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এটা খুবই প্রয়োজন৷ পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আমরা আলোচনা করে সমাধান করতে পারি, আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সেই মনোভাব তৈরি হয়নি৷ এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এসব বিষয় আসার পর্যায়েও আমরা উন্নীত হইনি৷ এ কারণে আজকে আমাদের এই অবস্থা৷

বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ও তো আমরা এমন প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখেছি...

ছিল৷ ওই যে কারণ বললাম, আমাদের পারস্পরিকসহযোগিতার মাত্রা আরো উচু হওয়া দরকার, বৃদ্ধি করা দরকার, সেটা তো আমরা শিখিনি৷ শেখার সুযোগ পাইনি৷ এই ৪৭ বছর বাদ দিলে এর পেছনে যে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস, সেখানে আমরা কোনোভাবে টিকে থেকেছি আরকি৷ হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি বিএনপির আমলে ছিল না তা বলব না, তবে এখন একটু বেশি হয়েছে বলে মনে হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বর্তমানে কী হচ্ছে সেটা তো সবাই দেখছেন৷ বিএনপি আমলে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা, কিবরিয়া- আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা-কর্মী হত্যার কথা তো এখনো আলোচনায় আছে?

আমি পুরোপুরি একমত৷ আমরা কিন্তু তখনও লিখেছি৷ আপনি যদি ওই সময় কাগজগুলো দেখার সুযোগ পান, তাহলে দেখবেন, আমরা কিন্তু চুপচাপ ছিলাম না৷ একজন শিক্ষক হিসেবে আমরা এটা নিয়ে প্রতিবাদ করেছি৷ আমরা লিখেছি, কেন এটা হচ্ছে? এটা হওয়া উচিত না৷

২০০১ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের উপর হামলা-নির্যাতনের কথাও নিশ্চয় আপনার স্মরণ আছে?

এগুলো অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্খিত৷ এটা রাজনীতির ব্যাপার না৷ সোজা কথা অরাজনৈতিক, হিংসা-প্রতিহিংসা এবং কোনোভাবে ক্ষমতায় যাওয়া৷ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ভেতরে ভেতরে আক্রোশ যেটা, সেটা মেটানোর সুযোগ গ্রহণ করা৷ 

খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাতে কি আওয়ামী লীগের কোনো লাভ হচ্ছে?

কোনো লাভ হচ্ছে না৷ বরং ক্ষতি হচ্ছে৷ যেভাবেই বলুন – খালেদা জিয়া অপরিচিত মহিলা না৷ তিনবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণকারী৷ এখানকার চিফ অব আর্মি স্টাফের বেগম তিনি৷ যে সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা বলছি, এখনকার যে ব্যবস্থা, যেটা উপড়ে ফেলা হয়েছে প্রায়, সেটাকে তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ১৯৯১ সালে৷ এর ফলে তাঁর জনপ্রিয়তা ভয়ঙ্করভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ দু'দিন আগে জিয়ার মাজারে ছোট্ট একটা সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি সরকার এই কারণে৷ ভয়ঙ্করভাবে না আবার জনসাধারণ উপচে পড়ে৷ এতে তাঁর জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে৷

এই প্রতিহিংসার রাজনীতি বাংলাদেশের জন্য কতটা ক্ষতি করছে বলে আপনি মনে করেন?

অর্থনৈতিক দিক থেকে আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারতাম৷ রাজনীতিতেও যোগ্যতার আরো উন্নতি করতে পারতাম৷ এখন যে অবস্থা তাতে যারা বিত্তবান, তারা আরো বেশি বিত্তবান হয়েছে৷ চুরি-দুর্নীতির মাধ্যমে৷ বাংলাদেশে এখন অন্য রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতা লক্ষ্য করি৷ এটা হয়ত তখন থাকতো না৷ জনগণের কল্যানমূলক কাজগুলো অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পেত৷

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি করা যায়? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়