‘বাংলাদেশে সেবার মান এখনো অনেক খারাপ’ | আলাপ | DW | 05.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘বাংলাদেশে সেবার মান এখনো অনেক খারাপ’

সংখ্যার হিসেবে সাড়ে ১৪ কোটি সক্রিয় সংযোগ আছে বাংলাদেশে৷ কিন্তু সেবা নিয়ে গ্রাহকদের বিস্তর অভিযোগ৷ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সেবার মান বাড়াতে পারছে না কেন? সমস্যা কোথায়? এ সব নিয়েই ডয়চে ভেলের মুখোমুখি ড. শাহজাহান মাহমুদ৷

ডয়চে ভেলে: সংখ্যার দিক দিয়ে মোবাইল ফোনের বাজার বাংলাদেশে অনেক বড়ই মনে হয়৷ কিন্তু সেবার মানের দিক দিয়ে আমরা সেই পর্যায়ে কি আসতে পেরেছি? বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা  বিটিআরসি-ই বা তার দায়িত্ব কতটা পালন করতে পেরেছে?

ড. শাহজাহান মাহমুদ: আমাদের সেবার মান বিটিআরসি যেভাবে আশা করে, সেভাবে এসে পৌঁছায়নি৷ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমরা সেবার মান বাড়ানোর জন্য বরাবরই জোর দিয়ে এসেছি৷ কোয়ালিটি অফ সার্ভিস মাপার জন্য অতি সম্প্রতি আমরা কিছু যন্ত্রপাতি কিনেছি৷ আমরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সেটা মেপে দেখতে পারব৷ তবে সেবার মান খারাপ হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে৷ তার মধ্যে একটা হলো স্পেকট্রামের স্বল্পতা৷ অন্যান্য দেশে এক মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম দিয়ে যে পরিমাণ লোককে সেবা দেয়া হয়, আমাদের দেশে এক মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম দিয়ে অনেক বেশি মানুষকে সেবা দেয়া হচ্ছে৷ ট্রান্সমিশন লাইনের বিষয়ও আছে৷ এ সব কারণে আমাদের দেশে সেবার মান অনেক খারাপ৷ তবে আমরা চেষ্টা করছি এটা বাড়ানোর৷ কোয়ালিটি অফ সার্ভিসের জন্য আমাদের একটা গাইডলাইন ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে৷ সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব৷

অডিও শুনুন 09:29
এখন লাইভ
09:29 মিনিট

‘ আয়ের দিকেও আমাদের কিছুটা নজর রাখতে হয়’

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসি-র নজর যতটা না গুণগত সেবা নিশ্চিত করার দিকে, তার চেয়েও বেশি আয়ের অঙ্ক বৃদ্ধির দিকে৷ এটা কেন?

এটা সত্য নয়৷ গুণগত সেবার দিকে আমরা যেভাবে নজর রাখি, আয়ের দিকেও আমাদের নজর রাখতে হয় কিছুটা৷ সরকার আমাদের এখানে শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য বসায়নি, অপারেটররা গ্রাহকদের কাছ থেকে যেভাবে টাকা নিচ্ছে, সেভাবে যেন আমাদের সঙ্গেও রেভিনিউ শেয়ার করে সেটি দেখতে হয়৷ এটা আদৌ সত্য না যে, আমরা টাকা আয়ের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি৷

গুণগত সেবা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি-র সামনের পরিকল্পনা কী?

ফোরজি দেয়ার ফলে থ্রিজিতে যেসব দুর্বলতা ছিল, তার অনেকগুলোই কেটে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস৷ নেটওয়ার্ক যদি আমরা ভালোভাবে বিস্তার করতে পারি, তাহলে সেবার মান অনেকটাই ভালো হয়ে যাবে৷ সম্প্রতি স্পেকট্রাম নিলাম হওয়ার পরও আমরা মনে করি, অপারেটরদের যে পরিমাণ স্পেকট্রাম কেনা উচিত ছিল তারা সেটা কেনেনি৷ তাদের আরো স্পেকট্রাম কেনা উচিত৷ আমরা তাদের সে ব্যাপারে অনুরোধ করব৷

অপারেটররা বলছে, তাদের সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু স্পেকট্রাম কেনা সম্ভব, তারা সেটা কিনেছে৷ এখন বিটিআরসি-র কাছে পড়ে থাকা স্পেকট্রাম যদি তাদের সহনশীল দামে দেয়া হয়, তাহলে রাতারাতি সেবার মান বাড়ানো সম্ভব৷ এ কথা কি ঠিক?

এই স্পেকট্রামের মালিক তো আর বিটিআরসি না৷ জনগণ এটার মালিক৷ সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় অপারেটরদের বিনা পয়সায় স্পেকট্রাম দিয়ে দেবে, তাহলে দিতে পারে৷ আমাদের কোনো আপত্তি নেই৷ স্পেকট্রামের যে বাজার মূল্য সেটা নির্ণয় করেই আমরা সরকরের কাছে প্রস্তাব পাঠাব৷ সেটা সরকার মানতেও পারে, নাও মানতে পারে৷ আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ করি, সরকার সেটা বাস্তবায়ন করে৷

এখনো ৪৫ ভাগ স্পেকট্রাম অবিক্রিত রয়ে গেছে, এটা নিয়ে বিটিআরসি-র পরিকল্পনা কী?

আমাদের উদ্দেশ্য এটা বিক্রি করা৷ সরকার আমাদের এখনো এমন কোনো নির্দেশনা দেয়নি যে স্বল্পমূল্যে বা কম দামে এটা বিক্রি করতে হবে৷

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবার আগে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের লাইসেন্স দেওয়া হয়৷ কিন্তু থ্রিজি, ফোরজি বা এমএনপি সেবা চালুর দিক দিয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি৷ এর কারণ কী?

গত দু'বছর ধরে সরকার ফোরজি দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছে৷ কিন্তু বিভিন্ন কারণে এটা হয়নি৷ চার-পাঁচ বছর ধরে সরকার চেষ্টা করছে যাতে এমএনপি চালু করা যায়৷ আমি কারো দিকে আঙুল তুলব না৷ তবে চেষ্টা করছি যেসব সেবা জনগণের পাওয়া উচিত সেগুলোতে যে স্লথ গতি ছিল, সেটা যাতে দ্রুত আমরা দিতে পারি৷

স্যাটেলাইট নিশ্চয়ই বিটিআরসি-র অন্যতম বড় সাফল্য৷ এখান থেকে কী কী সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে?

প্রথমত আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিদেশি যেসব স্যাটেলাইট আছে সেখান থেকে সার্ভিস কিনে তাদের বিদেশি দর্শকদের সেবা দেয়৷ এতে আমাদের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অপচয় হয়৷ আমি মনে করি, আমাদের স্যাটেলাইট চালু হলে তারা আমাদের কাছ থেকেই সেবাটা নেবে৷ এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে৷ পাশাপাশি এই স্যাটেলাইট নির্মাণ করতে আমাদের যে খরচ হয়েছে, সেই টাকা স্যাটেলাইটের অর্ধেক মেয়াদের মধ্যেই উঠে আসবে৷ একটা স্যাটেলাইটের মেয়াদ ১৫ বছর হয়৷ ভালো হলে ১৮ বছরও চলতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

স্যাটেলাইট দিয়ে দেশের বাইরে কোনো ব্যবসা হতে পারে?

অবশ্যই হতে পারে৷ এই স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্যান্সপন্ডার আছে৷ এর মধ্যে ২০টি রেখেছি বাংলাদেশের টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সার্ভিস দেয়ার জন্য৷ বাকি ২০টা বাইরে বিক্রি করব৷

মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরির ক্ষেত্রে লাইসেন্স দেওয়াও বিটিআরসি-র সাফল্যের আরেকটি দিক হতে পারে৷ ঠিক কত দিনে বাংলাদেশ মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে স্বনির্ভর হবে বলে আপনি আশা করেন?

স্বনির্ভর কথাটার উত্তর দেয়া কঠিন৷ কারণ এটা নির্ভর করছে আগামী দিনে আমাদের চাহিদা কী পরিমাণ বাড়বে৷ তবে সাপ্লাইয়ের ব্যাপারে আমি বলতে পারি, একটা কোম্পানিকে ইতিমধ্যে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে৷ আরেকটা কোম্পানি আবেদন করেছে৷ আমাদের আশা আছে আগামী দু'মাসের মধ্যে আমরা আরো দু'টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দিতে পারব৷ এতে শুধু বৈদেশিক মুদ্রারই সাশ্রয় হবে না, অনেক সস্তায় আমরা মোবাইল ফোন পাবো৷

নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে আপনার কাছে প্রশ্ন – ফোরজি মোবাইল সেবাকে কোন উচ্চতায় নিতে পারে বলে মনে করছেন আপনি?

এখন আমাদের ট্রেন্ড হচ্ছে ডেটার দিকে যাওয়া৷ আগে যেমন মানুষ ভয়েস কল করত বেশি, এখন ডেটা ব্যবহার করছে বেশি৷ এই ফোরজি হলো ডেটা সার্ভিস দেয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো টেকনোলজি৷ যাঁরা ইন্টারনেট দিয়ে ব্যবসা করেন, যেমন আউটসোর্সিং বা কনসালটেন্সি – তাঁদের জন্য ফোরজি দারুণ কাজে দেবে৷ আর যাঁরা ডাউনলোড করেন বা আপলোড করেন, তাঁদের জন্য এই গতি অনেক বেড়ে যাবে৷ এখন যে থামা থামা ডেটা প্রবাহ, ফোরজিতে এটা থাকবে না৷

ডেটার ব্যবহার বাড়লে স্থানীয় কনটেন্ট খুব বেশি প্রয়োজন৷ এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে?

যেসব কোম্পানি কনটেন্ট সাপ্লাই করে, আমরা যাদের বলি ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বা ভ্যাস – সেই গাইডলাইন প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে৷ এটা করার আগে আমরা সব স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলেছি, বিশেষ করে যারা কনটেন্ট সাপ্লাই করে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি৷ আমরা অপারেটরদের সঙ্গেও কথা বলেছি৷ ভ্যাস থেকে যে উপার্জন হবে, সেখান থেকে দু'পক্ষই যাতে লাভবান হতে পারে, আমরা সেই চেষ্টাই করেছি৷

আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করতে পারছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়