‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে′ | বিশ্ব | DW | 01.07.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে'

ঝিনাইদহে আরো একজন হিন্দু সেবককে হত্যা করা হয়েছে৷ গত মাসে একই জেলায় এক পুরোহিতকে হত্যা করা হয়৷ গত এক মাসে বেশ কিছু মন্দির আর চার্চে হত্যার হুমকির চিঠি গিয়েছে৷ সংখ্যালঘুদের নেতারা বলছেন, সংখ্যালঘুরা ভীষণভাবে অসহায়৷

সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা এখন অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন বলে সংখ্যালঘুদের নেতারা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন৷ তাঁরা জানান, ''এ পর্যন্ত চারজন হিন্দু পুরোহিত ও সেবককে হত্যা করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি এমন যে ঠিকমতো প্রতিবাদও করা যাচ্ছে না৷'' তাঁরা বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে৷''

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে জানান, শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার উত্তর কাষ্ট সাগরা গ্রামে মন্দিরের পাশে পূজার জন্য ফুল কুড়াচ্ছিলেন শ্যামানন্দ দাস৷ এ সময় তিন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে করে এসে তাঁকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়৷ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্‍সক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন৷

অডিও শুনুন 04:08
এখন লাইভ
04:08 মিনিট

‘‘আমরা ভালো নেই, আমরা নিরাপদ নেই''

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাষ্ট সাগরা গ্রামের শ্রী শ্রী রাধামদন গোপাল মঠ মন্দিরের সেবক ছিলেন শ্যামানন্দ দাস৷ তাঁকে মন্দিরের লোকজন ‘গোসাঁই' বলে সম্বোধন করতেন৷

এর আগে গত ৭ জুন ঝিনাইদহ শহরের করাতি পাড়া গ্রামের পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলিকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়৷

গত ১৪ মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক নামে এক হোমিও চিকিত্‍সককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা৷

গত এক মাসে রামকৃষ্ণ মিশন, বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির এবং চার্চের পুরোহিত, ফাদার ও অধ্যক্ষকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শুধু হত্যা নয় অব্যাহতভাবে পুরোহিতদের হুমকি দেয়া হচ্ছে৷ শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘুরা এখন টার্গেটে পরিণত হয়েছে৷ আমরা ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে আছি৷ সরকার ও রাষ্ট্রের আমাদের যে নিরাপত্তা দেয়ার কথা আমরা সেই নিরাপত্তা পাচ্ছি না৷''

অডিও শুনুন 03:47
এখন লাইভ
03:47 মিনিট

‘‘তারা চায় এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা না থাকুক’’

কাজল দেবনাথ আরো বলেন, ‘‘আমরা নিরাপত্তা চাই, কিন্তু সরকার সেই নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করবে তা সরকারের কাজ৷ আমরা শুধু বলতে পারি - আমরা ভালো নেই৷ আমরা নিরাপদ নেই৷''

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘‘আমরা ঠিকমতো প্রতিবাদও করতে পারছি না৷ আমাদের উপর হামলা হচ্ছে৷ আমরা চিত্‍কার করছি৷ আবার সেই চিত্‍কারে কোনো দাড়ি-কমায় ভুল হলে আমাদের জবাদিহি করতে হচ্ছে৷ আমরা এখন অসহায়৷ ভীষণভাবে অসহায়৷''

কী কী করা হলে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ বোধ করতে পারেন - জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এটা তো করবে সরকার, রাজনৈতিক দল৷ এটা তো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তেমন কোনো সাড়া পাচ্ছি না৷''

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে৷ আর সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে আমার মনে হয় না৷''

তিনি বলেন, ‘‘এখানে ব্যক্তির নিরাপত্তা মুখ্য নয়৷ আর সব ব্যক্তিকে আলাদাভাবে নিরাপত্তা দেয়াও সম্ভব নয়৷ যেটা প্রয়োজন তা হলো, সংবিধান স্বীকৃত সব ধর্মের সমান ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আর এ জন্য সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জনগণকে সাথে নিয়ে জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসা৷''

রানা দাশগুপ্ত আরো বলেন, ‘‘এই হামলা এবং হুমকির মধ্যে একটা রাজনীতি আছে৷ যারা এ সব করছে তারা ভিন্নমত ছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরও হামলা করছে৷ হুমকি দিচ্ছে৷ তারা বলছে, তোমরা ধর্ম প্রচার করতে পারবে না, ধর্ম পালন করতে পারবে না৷ তারা চায় এখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা না থাকুক৷ এটা সরকারকে বুঝতে হবে৷ দু-একজনের নিরাপত্তা এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাবে না৷ সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে৷''

রানা দাশগুপ্তের মতে, ‘‘২০১১ সাল থেকে এই পরিস্থিতি চলছে৷ আমরা সরকারকে বার বার বলেছি৷ কিন্তু সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে আমার মনে হয় না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন