বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বেড়েছে: এইচআরডাব্লিউ | বিশ্ব | DW | 17.01.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন বেড়েছে: এইচআরডাব্লিউ

বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে, একইসঙ্গে বাক স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে বলে মনে করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷ ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে এমন দাবিই করা হয়েছে৷

default

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ২০১৮ সালের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই নিপীড়ন কয়েকগুণ বেড়েছে৷ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী জবাবদিহিতার আওতায় আসার পরিবর্তে সহিংসতা, নির্যাতন, জোরপূর্বক গুম, এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে৷

২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এ নির্বাচনে গুরুতর কারচুপি হয়েছে৷ এছাড়া বিরোধীদলীয় কর্মীদের ওপর হামলা, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও তোলা হয়৷

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অব্যাহত আগমনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করে সংস্থাটি৷ প্রতিবেদনে বলা হয়, আশ্রয় সক্ষমতাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে যাবে যদি না মিয়ানমার তাদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে৷ অচিরেই বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে এই শরণার্থীরা– এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ৷   

প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে৷ এবং এই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে প্রশাসন৷ পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা হরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে৷ বিষয়টি এমন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে-কোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে নিজেদের জনগণের অধিকার খর্বসহ নানা অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছেন৷’’

প্রতিবেদনে মাদক নির্মূল অভিযানের নামে কয়েকশত লোক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনে ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে সরকারী দলের ছাত্র সংগঠনের  হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়৷ একইসঙ্গে শহীদুল আলমের ১০৭ দিনের কারাভোগের ঘটনা উল্লেখ করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়৷

পাশাপাশি, ধর্ষণ, পারিবারিক নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ রোধে কোনো অগ্রগতিই হয়নি বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে৷ রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনার ৫ বছর পরেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো জোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও মনে করে এইচআরডাব্লিউ৷

৬৭৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে শতাধিক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে৷ সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কেনেথ রথ প্রতিবেদনটির ভূমিকায় বলেন, আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, অনেক দেশে জনভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্বজুড়ে ঘৃণার বিস্তার করছে৷ এতে জনরোষ ও অসহিষ্ণুতা ছড়াচ্ছে৷ একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারি প্রশাসনের উত্থানের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও বেড়েছে৷

এই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে জার্মানির হিউম্যন রাইটস ওয়াচের পরিচালক ভেনজেল মিশালস্কি বলেন, ‘‘দেশটিতে অস্ত্র ব্যবসায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে৷ তিনি আরো উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে স্বৈরাচারী আচরণ বেড়েছে৷

তবে মালোয়েশিয়া ও মালদ্বীপে জনগণের ভোটে দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের পতনকে স্বাগত জানানো হয়৷ 

এফএ/এসিবি (হিউম্যান রাইটস ওয়াচ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন