বাংলাদেশে পোশাকশিল্পে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত | বিশ্ব | DW | 19.10.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রম অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মনে করে পাঁচটি আন্তর্জাতিক জোট৷ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে পণ্য রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশে একটি তদন্ত দল পাঠানোর দাবি জানিয়েছে তারা৷

তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারখানাগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়ন করেছি৷ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে৷ বাংলাদেশে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সেক্টরের উন্নতি করা হয়েছে৷ এখন তারা যেটা বলছে, সেটা একেবারেই ঠিক নয়৷ আমরা বিষয়টা তাদের বলবো৷'' 

অডিও শুনুন 00:45
এখন লাইভ
00:45 মিনিট

‘বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নতি হযেছে’

বাংলাদেশের জিএসপি পুনর্বিবেচনার দাবি করা জোট পাঁচটি হচ্ছে, ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন, ইন্ডাষ্ট্রঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন, দ্য ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন, দ্য ইউরোপিয়ান ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন ও ইউএনআই গ্লোবাল ইউনিয়ন৷ তারা শ্রম অধিকারলঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণ করতে গত বুধবার ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশের পোশাকশিল্প : সাসটেইনেবল কমপ্যাক্টের ব্যর্থতা' নামে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে৷

এই ৫টি আন্তর্জাতিক সংগঠনের মধ্যে একমাত্র ইন্ডাষ্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের বাংলাদেশে সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ ইন্ডাষ্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন তাদের পক্ষে কাজ করে৷ সংগঠনটির মহাসচিব তৌহিদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ইন্ডাষ্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন আমাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য-উপাত্ত নেয়নি৷ ব্যক্তি পর্যায়ে কারো কাছ থেকে কোনো তথ্য নিয়েছে কি-না সেটা জানি না৷ তবে অবশ্যই বাংলাদেশ নিয়ে তাদের কোনো রিপোর্ট প্রকাশের আগে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া উচিত ছিল৷ তাদের প্রতিবেদন যে ঠিক না আমি এটা বলব না, তবে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে৷ সারা বিশ্বে কোথাও এখন আর বাংলাদেশের পণ্য বয়কট করা হয় না৷ শ্রমিকদের স্বার্থের জায়গায় কিছু দুর্বলতা থাকলেও অবকাঠামো বা তাদের নিরাপত্তায় জায়গায় বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে৷ এখনো এসব কাজ চলছে৷''

অডিও শুনুন 02:33
এখন লাইভ
02:33 মিনিট

তৌহিদুর রহমান

জোটের প্রকাশ করা শ্বেতপত্রে শ্রম আইন সংশোধন, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)-এ ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, ইউনিয়ন নিবন্ধনের উন্নতি এবং ইউনিয়নবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ না হওয়াকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে৷ শ্বেতপত্রে কয়েকটি কারখানার শ্রমিক নির্যাতনের তথ্যও তুলে ধরা হয়৷ শ্বেতপত্রটি ইউরোপিয়ান কমিশনে পাঠানো হয়েছে৷ বিবৃতি দিয়ে তারা বলেছে, বাংলাদেশ সরকার সাসটেইনটেবল কমপ্যাক্ট অমান্য করছে৷ ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রম আইন সংশোধনে সামান্যতম অগ্রগতি হয়নি৷ ইপিজেডে শ্রম সংঘ নিশ্চিত করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটি পরিষ্কার না৷ ইউনিয়ন করতে গিয়ে অনেক কারখানার শ্রমিকেরা নির্যাতিত হওয়ার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে৷ কিন্তু শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ চার বছর সময় পেয়েছে৷

আসলে বাংলাদেশে শ্রমিক অধিকারের চিত্রটা কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিক নেত্রী জলি তালুকদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ওরা অনেক কিছুই নিয়ে রাজনীতি করে৷ কিন্তু শ্রমিকদের বিষয়ে ওরা যে রিপোর্ট দেয় সেটা ঠিক আছে৷ আমিও মনে করি, বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি৷ ২০১৩ সালে সর্বশেষ বেতন কাঠামো হয়েছে৷ চার বছর পার হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো এখনো হয়নি৷ অথচ এই সময়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দামসহ বাড়ি ভাড়া সবই বেড়েছে৷ আমাদের কারখানাগুলোতে এখনো শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারে না৷ অনেক জায়গায় বাধা দেয়ার অভিযোগ আছে৷ আজও আমরা আশুলিয়াতে সমাবেশ করতে পারিনি পুলিশী বাধার কারণে৷''

অডিও শুনুন 02:47
এখন লাইভ
02:47 মিনিট

‘মালিকরা অনেক কিছু নিয়ে রাজনীতি করে‘

 

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নতি ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে চারপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়৷ ওই বছরের জুলাই মাসে জেনেভায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও আইএলও'র উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে যোগ দিয়ে ‘স্টেইং এনগেইজড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট উইথ বাংলাদেশ' নামের উদ্যোগের ঘোষণা দেয়৷ সংক্ষেপে এটি ‘কমপ্যাক্ট' নামে পরিচিত৷ পরে ক্যানাডা যুক্ত হয়৷

গত মে মাসে ঢাকায় কমপ্যাক্টের তৃতীয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষায় যৌথ দর-কষাকষির অভিন্ন অধিকার চালু করতে দেশের ইপিজেড আইন সংশোধনের জন্য বাড়তি সময় পায় বাংলাদেশ৷ দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চেয়েছিল ইইউসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারেরা৷

এদিকে, গত বছরের জুনে আন্তর্জাতিক লেবার কনফারেন্স (আইএলসি)-তে বাংলাদেশ সম্পর্কিত বিশেষ অনুচ্ছেদ যুক্ত হয়৷ এতে বলা হয়, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপের ঘাটতি ও ব্যর্থতা অত্যন্ত উদ্বেগের৷ এ ক্ষেত্রে শ্রম আইন, ২০১৩-তে সংশোধনী আনা, ইপিজেড আইনে সংগঠিত হওয়ার অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্যের তদন্ত করা এবং ইউনিয়নের নিবন্ধন স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে করার মতো চারটি প্রসঙ্গ ওই অনুচ্ছেদে এসেছে৷ এসব কারণেই বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি যাচাই করতে চাইছে ইইউ৷ অবশ্য গত জুনে জেনেভায় আইএলসিতে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্যমূলক আচরণ ও সহিংসতা বন্ধের জন্য আগামী নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন