বাংলাদেশে নির্বাচনি আমেজ | বিশ্ব | DW | 18.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে নির্বাচনি আমেজ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এক ধরনের চাঞ্চল্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে৷ চলছে সভা-সমাবেশ৷ তবে সব দলের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সব দলকে নির্বাচনে আনাটাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সভা-সমাবেশ করা ভালো, কিন্তু সমস্যা হলো – নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা একেবারে দূর হয়ে যায়নি৷ অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ব্যাপারে এখনো অনড়, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷ আবার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের অধীনেই হবে নির্বাচন, অর্থাৎ সংবিধান মেনে৷

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক পরিষদ বা জানিপপ-এর চেয়ারম্যান ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবারের নির্বাচনের বিষয়টি কিন্তু আগের মতো না৷ এবার বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে৷ কারণ নির্বাচনে না এলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে৷ আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে যে পরিবেশ ছিল, সেরকম বোমাবাজি করার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না৷ আবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক ধরনের টেনশন কাজ করছে৷ তবে নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, যেসব সমস্যা বা সংকট আছে তা দূর হবে বলেই আমার বিশ্বাস৷''

নির্বাচন কমিশনের সংলাপ থেকে আমরা অনেক কিছুই অর্জন করেছি বলে মনে করেন তিনি৷ জানান, ‘‘সব দলের সুপারিশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি গ্রন্থ প্রকাশ করতে চাচ্ছে৷ সেটা করলে এই মুহূর্তে আমাদের কোন উপকারে না লাগলেও ভবিষ্যতে যারা আসবেন তাদের জন্য ওই গ্রন্থটা অনেক কাজে লাগবে৷ আমি মনে করি তারা ঠিক পথেই আছে৷''

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে৷ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য, পরামর্শ, প্রত্যাশা এবং শঙ্কা-আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে এই সংলাপে৷ নির্বাচন কমিশনও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তাদের প্রত্যাশা এবং করণীয় সম্পর্কে কিছু ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছে৷ তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক এটা সবারই প্রত্যাশা৷

অডিও শুনুন 03:27
এখন লাইভ
03:27 মিনিট

‘সব দলের সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’

গত সপ্তাহে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করেছে৷ ওই সমাবেশটা অনেকটা নির্বাচনি সমাবেশে রূপ নেয়৷ অন্যদিকে শনিবার একই জায়গায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের বৈশ্বিক স্বীকৃতি উদযাপনে নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে নাগরিক কমিটি৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন৷ ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এতে যোগ দিয়েছিলেন৷ এখানে নির্বাচনের কথা খুব বেশি না এলেও এটা যে বিএনপির পাল্টা সমাবেশ এবং নির্বাচনি শো-ডাউন ছিল সেটা অনেকটা পরিষ্কার বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছিল বিএনপির চেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণের কথা৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নির্বাচন হতে এখনো এক বছর বাকি৷ বাংলাদেশে এক বছর আগে কিছু পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়৷ কারণ ছ’মাস পর অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে৷ সবাই আগামী নির্বাচন নিয়ে যতটা ইতিবাচক, আমি কিন্তু অতটা না৷ আমাদের সামনে অনেক ঝামেলাই রয়ে গেছে৷ রাজনৈতিক দলগুলো এখনও কোন সমঝোতায় আসতে পারেনি৷ সবাই যে যার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন৷

অডিও শুনুন 03:14
এখন লাইভ
03:14 মিনিট

‘এবার বিএনপিকে নির্বাচনে আসতেই হবে, না এলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে’

ফলে শঙ্কাও কম নয়৷ তবে নির্বাচন কমিশন যে সংলাপটা শেষ করল সেটা থেকে কিছুটা অর্জন তো হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস৷ সংলাপ করলে কিছু না কিছু কাজে লাগে৷ এই সংলাপের মাধ্যমে স্টেকহোল্ডারদের তারা কিন্তু চিনল৷''

বিএনপি-আওয়ামী লীগ এর সমাবেশ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি তো মনে করি এটা ভালো দিক৷ তবে পরিবেশ যেন শান্ত থাকে, সবার একই রকম সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে৷ নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে এই ধরনের সভা-সমাবেশ আরো বাড়বে৷'' আগামী নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘সব দলের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷ পাশাপাশি সব দলকে নির্বাচনে আনাও একটা বড় কাজ৷ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সেটা গ্রহণযোগ্যতা পায় না৷ সবাইকে নিয়ে ভালো নির্বাচন করাই এখন প্রধান কাজ নির্বাচন কমিশনের৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন