বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে | বিশ্ব | DW | 22.09.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে

২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং বিরোধী ও মানবাধিকারকর্মীদের কার্যক্রমে বিধি-নিষেধের কারণে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের অবনতি হয়েছে বাংলাদেশে৷ ইইউ-র সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বার্ষিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে৷ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত৷ চারজন ‘নাস্তিক' ব্লগার এবং একজন প্রকাশকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, বাংলাদেশ ধর্মীয় জঙ্গিবাদের হুমকি থেকে মুক্ত নয়৷ এছাড়া দু'জন বিদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ড নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷

মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সব মানবাধিকার সংগঠনই এই ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে৷ মানবাধিকারের যে বিষয়গুলো নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, আমরা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে গত বছর ঐ একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি৷ সেখানে গুমের কথা বলা আছে, বলা আছে ক্রসফায়ারের কথাও৷ তাছাড়া নাগরিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে – এ ধরনের কথা কিন্তু আমরা আগে থেকেই বলে আসছি৷ আজকে ইইউ যে মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে যারা কাজ করে, তারা সকলেই এ বিষয়ে একমত হবে৷

অডিও শুনুন 02:37

‘নাগরিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে – এ কথা তো আমাদেরও’

তবে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি: ইইউ অ্যানুয়াল রিপোর্ট-২০১৫' শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ২০১৫ সালের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতির মতো ইতিবাচক দিকও আছে৷ ইইউ-র ওয়েবসাইটে দেওয়া এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ নিয়ে আরো বলা হয় যে, সাংবাদিক ও সম্পাদকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়ে গেছে বাংলাদেশে৷ একইসঙ্গে কিছু সংবাদপত্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার ব্যাপারে পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, সুশাসন, মানবাধিকার, অভিবাসন ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সামনে রেখে গত বছরের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যৌথ কমিশনের বৈঠকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ইইউ৷ এ সব বৈঠকে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, বিরোধী ও মানবাধিকারকর্মীদের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর পরিস্থিতি এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

এই পরিস্থিতির ব্যাখা করতে গিয়ে নূর খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আরেকটা নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ একদিকে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের কারণে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে৷ অন্যদিকে রাষ্ট্রের তরফ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সেটাও এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে৷ এ অবস্থা সামগ্রিকভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে৷''

প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী? জবাবে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের বিকল্প কিছু নেই৷ দেশে গণতন্ত্রের চর্চা করা আর সমাজে ও রাজনীতিতে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে, সেটা থেকে বের হতে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করা এবং জনগণকে সমস্ত বিষয়ে যুক্ত করা৷''

ইইউ-র প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সংলাপ, উন্নয়ন সহায়তা ও কর্মসূচি, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ও মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে কিংবা মাঠপর্যায়ে ঘুরে ইইউ এবং তার সদস্যদেশগুলো নিয়মিতভাবে মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে৷ ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ইইউ-র মিশন প্রধানেরা রাজনৈতিক সংঘাত এবং এর ফলে হতাহতের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন৷

বাংলাদেশে ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ইইউ কড়া নিন্দা জানিয়ে কয়েকবার বিবৃতিও দিয়েছিল৷ একইসঙ্গে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে আহ্বান জানিয়েছিল এবং তা আবারো পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা৷ গত বছরের পরপর তিনটি নির্বাচন (ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন, যাতে ইইউ-র পর্যবেক্ষকেরা ব্যাপক অনিয়ম খুঁজে পেয়েছন) পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার জন্য ইইউ অন্য দাতাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করেছে৷ শ্রম অধিকার রক্ষা, কারখানায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘সাসটেনেবিলিটি কম্প্যাক্ট'-এর আওতায় সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷

বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার কি সত্যিই সংকুচিত হচ্ছে? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন