‘বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন খুবই কঠিন’ | বিশ্ব | DW | 04.06.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন খুবই কঠিন’

খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়' টকশো-তে এবারের আলোচনার বিষয় ছিল ‘জাতীয় পরিচয়পত্র স্বরাষ্ট্রে কেন?' অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান৷

দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে আনেন সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান৷ তিনি বলেন,  ১৯৯১ সালের পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে ছোটখাট প্রশ্ন উঠলেও জনমত অনুযায়ী নির্বাচনগুলো ভালো হয়েছিল৷ তবে সবশেষ দুই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি৷ শহীদ খান বলেন, ‘‘এখন মনে হয় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করাটা খুবই কঠিন৷ নির্বাচন যদি করতে হয়, যে দল ক্ষমতায় থাকবে সে দল, সে দলের নেতা, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনযন্ত্রের যারা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের অবশ্যই স্বাধীনভাবে ও দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে৷''

তিনি মনে করেন চাইলে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব, কিন্তু এর পেছনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা রয়েছে কিনা, সেটিই বড় প্রশ্ন৷

জাতীয় পরিচয়পত্রের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেয়ার ফলে নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি হয় বলে মনে করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার৷ তিনি বলেন, ‘‘পৃথিবীর অনেক দেশে সরকারের কাছেই ন্যাশনাল আইডি কার্ড করার দায়িত্ব থাকে৷ সেজন্য এর একটি যৌক্তিকতা আছে৷ কিন্তু আমাদের এখানে যেভাবে এই সেবা দেয়ার বিষয়টি এসেছে, সেক্ষেত্রে এ যুক্তি খাটে না৷ কারণ, আমাদের এখানে ন্যাশনাল আইডি কার্ড সরাসরি ভোটার তালিকার ডেটাবেইজের সঙ্গে সম্পৃক্ত৷''

বর্তমান সরকারকে সরকারি কর্মকর্তা, নির্বাচন কমিশন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি ক্ষমতায় এনেছে এবং টিকিয়ে রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার৷ তিনি বলেন, ‘‘সরকারের দায়বদ্ধতা কিন্তু তাদের কাছেই৷ এই যে বাজেট ঘোষণা হয়েছে, সেটিও তাদের সন্তুষ্ট করারই বাজেট৷ তাদের বেতন-ভাতা, তাদের সুযোগ-সুবিধা বেড়েই যাচ্ছে৷ এখানে জনগণের তেমন কিছু বলার ছিল না, এখনও বলার নেই৷ তাই তাদেরকে সন্তুষ্ট করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য৷ তারাই সরকারকে এখন ক্ষমতায় রেখেছে৷''

ভয়ভীতি, নাকি সুবিধা পাওয়ার আশায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা ‘সঠিক কাজটি' করছেন না? এমন প্রশ্নের উত্তরে কর্মকর্তাদের শক্ত অবস্থান নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান৷ তিনি বলেন, ‘‘যে-কোনো নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশে গুম হয়ে যাবে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করি ন৷ ফলে কেউ যদি এমন বলে থাকেন সেটা তিনি হয়তো তার দুর্বলতা ঢাকার জন্য বলেছেন৷ যদি এমন পরিস্থিতিই হয়ে থাকে, সেখানে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং বলতে হবে আমি গুম হয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি৷ এটা যদি বলতে না পারেন তাহলে ওখানে যাওয়ার দরকার কী! আপনি বাড়ি যান, ঘুমান, রিটায়ার্ড লাইফ লিড করেন৷''

এডিকে/এসিবি