বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সংবাদিক গ্রেপ্তার | বিশ্ব | DW | 24.12.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সংবাদিক গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি আইনে আরো এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ নাজমুল হুদা নামের ওই সাংবাদিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন নামে একটি দৈনিকের সাভার প্রতিনিধি৷

ঢাকার অদূরে আশুলিয়া এলাকায় পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ-এ ‘উস্কানি' দেয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসীনুল কাদির৷ তবে নাজমুলের পরিবার দাবি করেছে, ‘নাজমুলকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক করা হয়েছে৷'

অডিও শুনুন 03:35
এখন লাইভ
03:35 মিনিট

‘‘কোনো উস্কানি বা শ্রমিকদের ইন্ধন দেয়ার প্রশ্নই আসেনা’’

আশুলিয়া থানার ওসি অবশ্য নাজমুলকে আটকের বিস্তারিত কোন কারণ জানাননি৷ তিনি দাবি করেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে৷ সে শ্রমিক অসন্তোষে উস্কানি দিয়েছে৷ তবে সেটা কী ধরনের অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি ঊধ্বর্তন  কর্মকর্তাদের দোহাই দেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না৷ এএসপি অথবা এডিশনাল এসপি বলতে পারবেন৷'' তবে এব্যাপারে জানার জন্য সাভার সার্কেল এএসপি নাজমুল হাসান ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি৷

সাংবাদিক নাজমুলের ভাই কামরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নাজমুলকে টেলিফোনে ডেকে নিয়ে শুক্রবার রাতে আটক করা হয়৷ পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং গাড়িও জব্দ করেছে৷ নাজমুলের ড্রাইভারকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়৷''

‘‘নাজমুলকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক করা হয়েছে৷ সব সাংবাদিক যেভাবে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে রিপোর্ট করেছে নাজমুলও সেভাবেই করেছে৷ কোনো উস্কানি বা শ্রমিকদের ইন্ধন দেয়ার প্রশ্নই আসেনা,'' বলেন তিনি৷

অডিও শুনুন 00:21
এখন লাইভ
00:21 মিনিট

‘‘আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না’’

কামরুজ্জামান  আরো বলেন, ‘‘নাজমুল ১৩ থেকে ১৮ ডিসেম্বর দেশের বাইরে ছিলেন৷ আর ওই সময় মূলত শ্রমিক অসন্তোষ ও পোশাক কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটে৷ সুতরাং শ্রমিক অসন্তোষে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন৷ একটি কুচক্রীমহল নাজমুলকে পেশাগতভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা মামলা দিতে পুলিশকে উদ্বুদ্ধ করেছে৷'' 

প্রসঙ্গত, নাজমুলের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে৷ তাঁকে এই মামলায় শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন না দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন৷ নাজমুল-এর প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ব্যবহার উদ্বেগজনক৷ এই আইনটি নিয়ে নানা সমালোচনা আছে৷ তারপরও এই আইনটি সাংবাদিকদেও বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে৷''

অডিও শুনুন 01:24
এখন লাইভ
01:24 মিনিট

‘‘তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই যথেচ্ছ ব্যবহার সাংবাদিকদের প্রতি হুমকি''

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ নাজমুলের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ এনেছে সে ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত নই৷ আমরা বিস্তারিত জেনে তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেব৷ তবে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই যথেচ্ছ ব্যবহার সাংবাদিকদের প্রতি হুমকি৷''

উল্লেখ্য, গত সোমবার আশুলিয়ার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের বেতন বাড়ানোসহ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন শুরু করে৷ এরপর ৫৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেয় পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ৷ তারা এই বন্ধকালীন সময়ে বেতন ভাতাও দেবেনা, বেতনও বাড়াবেনা৷ এরইমধ্যে এই ঘটনার জেরে ২৫৬ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৫০০ জনকে৷ সাংবাদিক নাজমুলসহ এ পর্যন্ত ২০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ আশুলিয়া এলাকায় অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন