বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী আদর্শ মোকাবেলার বিষয়টি আদৌ গুরুত্ব পাচ্ছে কি? | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.08.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী আদর্শ মোকাবেলার বিষয়টি আদৌ গুরুত্ব পাচ্ছে কি?

সময়টা ছিল ২০০৩ সালের শেষের দিক৷ আমি তখন প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার৷ ২০০২ সালে  প্রথম আলোর ক্রাইম রিপোর্টিং বিভাগে যোগ দেয়ার পর থেকে কিছুদিনের মধ্যে আমার বিট হয়ে দাঁড়ায় জঙ্গি ও বোমা হামলা৷

জঙ্গিবাদ দমনে আমরা যে সাময়িক সাফল্য পেয়েছি সেটি কি আদৌ দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে?

জঙ্গিবাদ দমনে আমরা যে সাময়িক সাফল্য পেয়েছি সেটি কি আদৌ দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে?

সারাদেশে যেখানেই জঙ্গি ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটতো, আমাকে সেখানেই ছুটতে হতো৷ ২০০৩ সালের শেষের দিকে সোর্স থেকে একটি কাগজ পাওয়ার পর রীতিমতো চক্ষু চড়ক গাছ!

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি পত্র পাঠানো হয়, যেখানে জানতে চাওয়া হয় এনাম আর্নাওয়াট নামে ওসামা বিন লাদেনের সহযোগীর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে আছে কিনা৷ স্বাভাবিকভাবে সরকারের সবগুলো সংস্থা একবাক্যে অস্বীকার করে৷ কিন্তু তিন মাস টানা অনুসন্ধানের পর এনাম আর্নাওয়াটের ব্যাংক একাউন্ট, তার দুই সহযোগীর ঠিকানাসহ প্রথম আলোতে ‘লাদেনের সহযোগীরা বাংলাদেশে কাজ করেছে' ব্যানার শিরোনামে সংবাদ ছাপা হয়েছিল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এর পরের দু'টি বছর প্রথম আলোতে জঙ্গিদের তৎপরতা নিয়ে অনেক অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে৷ সেসব রিপোর্ট থেকে একটি সতর্কবাণী পাওয়া যেত যে, জঙ্গিরা যে কোন সময় বাংলাদেশে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে৷ এ আশঙ্কাবাণী খোদ প্রথম আলোর বার্তা বিভাগেই অনেকে বিশ্বাস করতে চাইতেন না৷ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট একযোগে ৬৩টি জেলায় বোমা হামলার পর অনেকের ভুল ভাঙে৷ আর গুলশানের হোলি আর্টিজানে হামলার পর জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য বড় একটি আতঙ্ক, বাংলাদেশ নামক অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের মূল ভিতে বড় আঘাত৷

বাংলাদেশে জঙ্গিদের এই উত্থান ও বিকাশ একদিনে হয়নি৷ বিভিন্ন সময়ে সরকার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর দেখেও না দেখার ভান করার প্রবণতা, কখনও কখনও বিশেষ বাহিনীর প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা, আইনি দুর্বলতা,  স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক মদদে জঙ্গিদের তৎপরতা এক সময় বাংলাদেশের জন্য মরণব্যাধি হয়ে দেখা দেয়৷

বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে৷ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি এখনো অব্যাহত রেখেছে৷ কিন্তু জঙ্গিরা যে একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়৷ গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুত্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো হয়, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনেক ব্যবস্থা নেয়ার পরেও বাংলাদেশে এখনো জঙ্গি হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে৷ এ অবস্থায় একটি বড় প্রশ্ন হলো, জঙ্গিবাদ দমনে আমরা যে সাময়িক সাফল্য পেয়েছি সেটি কি আদৌ দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? বাংলাদেশে জঙ্গিদের উত্থান ও বিকাশের কার্যকারণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ প্রশ্নের একটি উত্তর খোঁজা যেতে পারে৷

বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের উত্থান ও বিকাশের পেছেন দুটি নিয়ামক মূলত কাজ করে- অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক৷ বাংলাদেশেও এই দু'টি কারণ কাজ করেছে এবং করছে৷ বাংলাদেশে জঙ্গিদের উত্থান ও বিকাশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, জঙ্গিরা দীর্ঘ একটা সময় `ওপেন ফিল্ড' বা উন্মুক্ত চারণক্ষেত্র পেয়েছিল৷ ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ছিল বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ‘ইনকিউবেশান পিরিয়ড' আর ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটে বেশি৷ এ সময়ে দেশটির জঙ্গিরা সরকার ও সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতা পায়৷ এ সময়টাতে সবচেয়ে বেশি বোমা হামলার ঘটনা ঘটে এবং জঙ্গিরা সবচেয়ে ভালভাবে তাদের নেটওয়ার্ক প্রসারের কাজটি করতে পারে৷ এ সময় অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক- দুটো নিয়ামকই চূড়ান্ত মাত্রায় কাজ করেছিল৷

১৯৯০ সাল থেকে আফগান ফেরত বাংলাদেশি মুজাহিদরা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার নামে Rohingya Solidarity Organisation (RSO) এর সাথে যুক্ত হয়ে কক্সবাজার ও উখিয়া অঞ্চলে জঙ্গিদের বিশাল আস্তানা গড়ে তুলেছিল৷ সে সময় সরকারি সংস্থাগুলোর চোখের সামনে তারা তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাতো৷ এই আফগানফেরত জঙ্গি ও তাদের থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দলটি ১৯৯৯ সালের ১৮ জানুয়ারি কবি শামসুর রাহমানের উপর হামলা, একই বছরের ৬ মার্চ যশোর টাউন হলে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সম্মেলনে বোমা বিস্ফোরণ, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা, ২০০১ সালে ঢাকার পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায়৷

২০০৩ সালে টাঙ্গাইলের ফাইলার মাজারে বোমা হামলার পর সিআইডি একটি প্রতিবেদনে এই সবগুলো হামলা একই চক্রের কাজ বলে সরকারকে সতর্ক করার পরও রাজনৈতিক কারণে কোনো ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি৷

এরপর ২০০৪ সালে হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলা, ২১ আগেস্টর নারকীয় গ্রেনেড হামলা, ২০০৫ সালে সারাদেশে বোমা হামলার ঘটনার পর তৎকালীন সরকার হয় জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে না হয় প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপিয়েছে৷ এমনকি জেএমবির শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের উত্থানকেও গণমাধ্যমের সৃষ্টি বলে প্রচার করা হয়েছিল৷ শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কাজ করায় পুলিশের অনেক সদস্যকে চরম মূল্যও দিতে হয়েছিল৷ তাদের মধ্যে এন পালিত, আখতারুজ্জামান রুনুর কথা উল্লেখ করা যায়৷

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিষয়টি যতটা না ধর্মীয় তার চেয়ে বিষয়টি অনেক বেশি রাজনৈতিক৷ ১৯৯০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে জঙ্গিরা রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা পেয়েছে৷ উখিয়া-টেকনাফে গরীব রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর রাজনীতির মাধ্যমে জঙ্গি প্রশিক্ষণের দিকে ঠেলে দেয়া হতো৷ আবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ মদদে বাংলা ভাই ও তার বাহিনী কার্যক্রম চালিয়েছিল৷ জেএমবি যুগের পর বাংলাদেশে জঙ্গিরা যেমন নিজেদের সংগঠনের নামের পরিবর্তন করেছে, তেমনি তাদের হামলার ধরন ও লক্ষ্যবস্তু পাল্টে ফেলেছে৷ ২০১৩ সালের পর থেকে বেশ কয়েকজন ব্লগারকে হত্যা করেছে জঙ্গিরা৷ ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৩৭টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে৷ আগে একচেটিয়া যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে জঙ্গিবাদের বিস্তারের জন্য মাদ্রাসা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করা হতো৷ হোলি আর্টিজানসহ বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনায় দেখা গেছে, স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত তরুণ, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়েছে৷ আত্মঘাতি নারীও এতে যুক্ত হচ্ছে৷ ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২৫০ জনের ওপর পুলিশ সদর দপ্তরের পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২২ ভাগ মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত৷ আবার বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর হয়ে অনেক জায়গায় তৎপরতা চালাতেও দেখা যাচ্ছে৷

জঙ্গিবাদকে কার্যকরভাবে মোকাবেলার জন্য কিছু বিষয়ে সুষ্ঠু ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়৷ এগুলো হলো জঙ্গিবাদের উৎস ও সূত্র চিহ্নিত করা, বিস্তারের গতিপথ নির্ধারণ, কারণগুলো অনুসন্ধান, জঙ্গিদের কাজের নতুন ধরন বা গতিপ্রকৃতি খুঁজে বের করা৷ আন্তর্জাতিকভাবে কাউন্টার-টেররিজমের কৌশল ও কাজ এভাবেই নির্ধারিত হয়ে থাকে৷ এর সাথে একটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূলের কৌশল সাজাতে হয়৷ প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের সরকার ও সরকারি বাহিনীগুলো এসব কাজ কতটুকু করতে পেরেছে৷

Bangladesch | Wahlen | Talkshow

মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জঙ্গি দমনে নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অনেক বেশি রিঅ্যাকটিভ৷ বাংলাদেশে প্রতিটি জঙ্গি হামলার পরপর দেশের আইন-শৃংখলা বাহিনী, সরকার ও সরকারি সংস্থাগুলো আদাজল খেয়ে উঠে পড়ে লাগেন৷ কিন্তু জঙ্গি দমনে সামগ্রিক কাজ কতটুকু হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়৷ বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উৎপত্তির সূত্র ধরে পুরো চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করা হয়নি কখনই৷ কোনো বিশেষ ধরনের অপরাধ নির্মূলের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে একটি ম্যাপ তৈরি করতে হয়৷ দেশের কোন কোন এলাকায় জঙ্গি বেশি, কেন সেখানে জঙ্গিদের তৎপরতা বেশি, বাইরের জঙ্গিদের সাথে কোন সম্পর্ক আছে কীনা তা খতিয়ে দেখতে এ ম্যাপটি খুবই জরুরি৷ বাংলাদেশে জঙ্গি নির্মূলের ক্ষেত্রে আইনশৃংখলা বাহিনীগুলোর এ ধরনের তৎপরতা যে নেই তার একটি বড় প্রমাণ হলো রমনা বোমা হামলার ১৮ বছর পরও এই হামলার মূল নায়ক মুফতি শফিকুর রহমানকে গ্রেফতার করতে না পারা৷

১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে জঙ্গি প্রশিক্ষণের পেছনে যে কয়জন সরাসরি ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে মুফতি শফিক নেতৃস্থানীয়৷ কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ কখনই মুফতি শফিক, মওলানা মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি আব্দুল হাইসহ অনেককেই গ্রেফতার করতে পারেনি৷ প্রতিটি নতুন জঙ্গি হামলার পর পুলিশ নতুন জঙ্গি সংগঠন এবং নতুন নেতার নাম বলে, কিন্তু আদি গুরুরা কোথায় হারিয়ে গেছে তার হিসাব তাদের কাছে নেই৷

জঙ্গি নির্মূলে সামগ্রিক পরিকল্পনা না থাকায় সময়ে সময়ে বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর বক্তব্যেরও বদল ঘটতে দেখা যায়৷ ব্লগার ও লেখক হত্যার পর পুলিশ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং আনসার আল ইসলামের সদস্যদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস'র ভাবাদর্শের বলে উল্লেখ করে৷ এমনকি পুলিশ বাংলাদেশি আইএস সদস্যদের আটক এবং তাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছিল, যেখানে বাংলাদেশে তাদের তৎপরতা ও সদস্য সংগ্রহের কথাও বলা হয়৷ কিন্তু ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করে, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই৷ এই দৌদুল্যমানতার ফল হলো, ইন্টারপোলের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করলেও, এখনো বাংলাদেশ জঙ্গিদের কোন নজরদারি তালিকা তৈরি করতে পারেনি৷ অথচ ৩০ বছর ধরে জঙ্গিদের তৎপরতা এখানে চলছে৷

জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো আইনগত৷ রমনা বোমা হামলার আসামী মাওলানা রউফ, আকবরের মত জঙ্গিরা বেশ কয়েকবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গিয়েছিল৷ বিদেশি কোনো জঙ্গি যদি বাংলাদেশে কাজ করে তাহলে তার বিচারে পর্যাপ্ত আইন কি আমাদের আছে? প্রচলিত ফৌজদারি অপরাধ আর জঙ্গিবাদ তো এক কথা নয়৷ আইনগত দুর্বলতায় জঙ্গিদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেয়ার মতো জটিল অর্থনৈতিক মামলাগুলোর বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ৷

কোনো একক কারণে যেমন জঙ্গিবাদের বিকাশ হয়না তেমনি জঙ্গিবাদ নির্মূলেরও শটকার্ট কোনো রাস্তা নেই৷ দু-একটি বিশেষ টিম গঠন করে, সীমান্ত ও বিদেশে যাওয়া আসার পয়েন্টে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করে, ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের মাধ্যমে ধৃত জঙ্গিদের নিহত হওয়ার ঘটনা বাড়লেই জঙ্গি দমন হয়ে যাবে এমন ভাবলে কোনো সুদূরপ্রসারী ফল আসবে না৷

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো অভিযান পরিচালনা করছে৷ কিন্তু আদর্শিক ও সামগ্রিক এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কি বাংলাদেশে জঙ্গি বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে? জঙ্গিবাদী আদর্শ মোকাবেলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হলে জঙ্গিদের উৎপত্তি থেকে বিকাশের প্রতিটি স্তরকে গুরুত্ব দিয়ে করণীয় ঠিক করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন