বাংলাদেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ কি আরো বিস্তৃত হবে? | বিশ্ব | DW | 02.07.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে করোনার চতুর্থ ঢেউ কি আরো বিস্তৃত হবে?

বাংলাদেশে এখন চলছে কারোনার চতুর্থ ঢেউ৷ আর সামনেই মুসলামনদের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আজহা৷ স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আসছে উৎসবে করোনা আরো বিস্তৃত হবে৷

তাদের মতে, সবচেয়ে সংকট তৈরি করছে বুস্টার ডোজ নেয়ায় মানুষের অনাগ্রহের বিষয়টি৷ আর করোনার নতুন উপধরন উদ্বেগ ছড়াচ্ছে৷ কারণ এখন এই উপধরনের দাপট চলছে বলে জানান তারা৷

সরকারের হিসেব অনুযায়ী, গত ২০ জুন শনাক্তের হার শতকরা ১০ ভাগ ছাড়িয়ে গেছে৷ ওই দিন সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ৮৭৩ জন৷ মারা গেছেন একজন৷ আক্রান্তের হার ছিল শতকরা ১০ দশমিক ৮৭ ভাগ৷ আক্রান্তের এই হারকে করোনার উচ্চমাত্রা বলা হয়৷ এরপর ১২ দিনের মাথায় গত ২ জুলাই মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১০৫ জন৷ মারা গেছেন ছয় জন৷ আক্রান্তের হার ১৩ দশমিক ২২ ভাগ৷ তার একদিন আগে ১ জুলাই আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৯৭ জন৷ মারা গেছেন পাঁচ জন৷ আক্রান্তের হার ১৫ দমমিক ৩১ ভাগ৷

গত ১২ দিনে দেশে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৯ হাজার ৫৮৭ জন৷ আর মারা গেছেন ২৮ জন৷

এ পর্যন্ত সারাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ জন৷ মারা গেছেন ১৯ হাজার ১৬০ জন৷

আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার এই হিসাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেস্টের ভিত্তিতে করা হয়৷

উদ্বেগের বিষয় হলো মৃত্যুহার বাড়ছে: অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘করোনা আবার বিশ্বের ১১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে৷ বাংলাদেশে প্রথমে ঢাকা শহরে চতুর্থ ঢেউ শুরু হলেও এখন দেশের সব বিভাগ ও জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে৷ এখন আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে৷ তা না হলে সামনে কোরবানির সময়ে এটা আরো বেশি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে৷ সরকার মাস্ক আবার বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছে৷ কিন্তু এটা মনিটরিং করা হচ্ছে না৷ গরুর হাট বসে গেছে কিন্তু সেখানে কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না৷ আর ঈদযাত্রায় যদি স্বাস্থ্যবিধির প্রতি এই উদাসীনতা থাকে তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে বাধ্য৷’’

তিনি বলেন, ‘‘উদ্বেগের বিষয় হলো মৃত্যুহার বাড়ছে৷ যারা বয়স্ক, যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের জন্য বিপদ বেশি৷ এবার দেখছি কেউ টেস্ট করাতে চাচ্ছেন না৷ করোনার সব উপসর্গ থাকার পরও টেস্ট করাচ্ছেন না৷ এর ফলে করোনা তাদের মাধ্যমে আরো দ্রুত ছড়াচ্ছে৷’’

সবাইকে টিকা ও বুস্টার ডোজ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘টিকা ও বুস্টার ডোজ যারা নিয়েছেন তারাও আক্রান্ত হচ্ছেন৷ এর কারণ হলো টিকার কার্যকারিতা থাকে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চতুর্থ ডোজ শুরু করেছে৷ আরো কিছুটা দেখে আমাদের চতুর্থ ডোজের ব্যাপারে চিন্তা করা উচিত৷’’

বাংলাদেশে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার টিকা দেয়া শুরু হয়৷ সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত  দেশে ১২ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন৷ দুই ডোজ পেয়েছেন ১১ কোটি ৮০ লাখের কিছু বেশি মানুষ৷ আর বুস্টার ডোজ নিয়েছেন  দুই কোটি ৯৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষ যা মোট জনগোষ্ঠীর ২৪ দশমিক ২৪ শতাংশ৷

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি এক কোটি ৭৩ লাখ শিশু-কিশোর প্রথম ডোজ পেয়েছে৷ দুই ডোজ পেয়েছে এক কোটি ৪১ লাখ৷

সরকার চলতি জুলাই মাস থেকে পাঁচ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেয়া শুরু করবে৷

রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন জানান, ‘‘আমরা আগেই দেখেছি টিকাকে চ্যালেঞ্জ করে করোনা মানুষকে সংক্রমিত করছে৷ এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন ও মারা যাচ্ছেন তারা বিএ ফাইভ উপধরনে আক্রান্ত হচ্ছেন৷ এর ক্ষতি করার ক্ষমতা বেশি৷ আক্রান্তরা গত তিন সপ্তাহ আগে আক্রান্ত হয়েছেন৷ এখন তা প্রকাশ পাচ্ছে৷ আজ (শনিবার) সংক্রমণ কিছুটা কমলেও আমার ধারণা মৃত্যু হার আরো বেড়ে যাবে৷’’

টিকা কার্যক্রম আবার জোরদার করতে হবে: ডা. মোশতাক হোসেন

তিনি বলেন, ‘‘তিন মাস আগে করোনায় মৃত্যু যখন শূণ্যের কোঠায় নেমে আসে তখন আমরা উদাসীন হয়ে পড়ি৷ টিকার প্রতি আগ্রহ সরকার, সাধারণ মানুষ সবারই কমে যায়৷ এটা ঠিক হয়নি৷ আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরব, তবে সতর্ক থাকব৷ কিন্তু সেটা হয়নি৷ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও মাস্ক ছাড়া প্রকাশ্যে চলাফেরা শুরু করেন৷ যা এখন নতুন করে বিপদ ডেকে আনছে৷’’

তার কথা, ‘‘সামনে কোরবানি৷ গরুর হাট বসে গেছে৷ এখানে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে৷ পদ্মা সেতু হওয়ার কারণে ফেরির গাদাগাদি হয়তো কমবে৷ তারপরও ঈদযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে৷ টিকা কার্যক্রম আবার জোরদার করতে হবে৷ আমাদের পর্যাপ্ত টিকা আছে৷’’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন টেস্ট অনেক কম হচ্ছে৷ টেস্ট অনেক বাড়িয়ে দেয়া উচিত এবং বিনামূল্যে করা উচিত৷ তাহলে বাস্তব চিত্র যেমন বোঝা যাবে তেমনি পজিটিভ লোককে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে৷ তবে সেজন্য সরকারকে গরিব মানুষের প্রতি আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে৷ তা না হলে তারা টেস্ট করাবেন না৷ তারা দিন আনেন দিন খান৷ তাদের আক্রান্ত হয়ে ঘরে থাকতে হলে আয় বন্ধ হয়ে যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন