‘বাংলাদেশে উগ্র ইসলামপন্থার উত্থান’ | বিশ্ব | DW | 18.04.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ডিডাব্লিউ ডকুমেন্টারি

‘বাংলাদেশে উগ্র ইসলামপন্থার উত্থান’

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, জঙ্গি হামলা, ব্লগার হত্যা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড এবং রোহিঙ্গা ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি কেড়েছে৷ এ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে ডয়চে ভেলে৷

প্রায় ৪২ মিনিটের তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভ্রমণ করেছে ডয়চে ভেলের টিম৷ কথা বলেছে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নিহত ব্লগারদের পরিবার, তরুণ সংস্কৃতিকর্মী, নারী ব্লগার, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকার কর্মী, আক্রান্ত সংখ্যালঘু পরিবার, সাধারণ মানুষ ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে৷

তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার ও বিরোধীপক্ষের বাদানুবাদ প্রসঙ্গ, রোহিঙ্গাদের একাংশের জঙ্গিবাদে জড়ানোর শঙ্কা ও কট্টর ইসলামপন্থিরা নারীদের কীভাবে দমিয়ে রাখতে চায়, সেইসব প্রসঙ্গ৷

Bangladesch Extremismus

অভিজিৎ রায়ের ওপর হামলার পর

তথ্যচিত্রের শুরুতে এক নারী ব্লগার আয়েশা (ছদ্মনাম) বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশ কট্টরপন্থার দিকে ঝুঁকছে৷ এ থেকে বেরুতে হলে দরকার প্রকৃত শিক্ষা৷''

নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের বাবা অজয় রায় রাজনৈতিক অনৈক্য ও অসহিষ্ণুতাকেই দায়ী করেন যে কোনো ধরনের উগ্রপন্থার জন্য৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নেতারা সঠিক রাজনৈতিক চর্চা করেন না৷ আমরা একটা বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছি৷ যদি এটা চলতেই থাকে, তাহলে বাংলাদেশে একটি নৈরাজ্যমূলক পরিবেশ তৈরি হবে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘হয় কর্তৃপক্ষ অসমর্থ ও অদক্ষ, অথবা তাঁরা এর বিচার করতে চান না৷ বিচারহীনতার আর কী ব্যাখ্যা আছে?''

তথ্যচিত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের পরিস্থিতি পাকিস্তানের মতো নয়৷ এ দেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতার কথাও বলে৷ প্রশ্ন করা হয়, তাহলে সাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশকে কীভাবে ব্যাখ্যা করছে সরকার? প্রশ্নটি করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে৷

তিনি এর উত্তরে বলেন, ‘‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে৷ আমরা কোনো রকমের জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদকে সহ্য করিনি৷ ভবিষ্যতেও করব না৷''

Bangladesch - die Stunde der Islamisten (DW/H. C. Ostermann)

এইচ টি ইমাম

তাহলে কেন ব্লগাররা মারা গেলেন, তার উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘দেখুন এ দেশের মানুষ সাধারণভাবে ধর্মপরায়ণ৷ কেউ কেউ অবশ্য কট্টরপন্থি৷ তাই যখন আপনি কোরানকে বিকৃত করেন কিংবা মহানবীকে কটাক্ষ করেন, তখন অনেকে আঘাতপ্রাপ্ত হন৷ তাঁরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এসব করেন৷ এভাবেই ব্লগাররা নিজেদের ওপর বিপদ ডেকে এনেছেন৷''

তাঁর মতে, যারা বিকৃত করেন, এবং যারা হত্যা করেন, উভয়ই উগ্রপন্থি৷ এইচ টি ইমাম আরো বলেন, ‘‘দু'পক্ষকেই মূল ধারায় আনতে হবে৷'' 

তথ্যচিত্র দলটি লালবাগের একটি মাদ্রাসায় যায়৷ সেখানে কথা বলে হেফাজতে ইসলামেরনেতা মুফতি ফয়জুল্লাহ'র সঙ্গে৷ তিনি বলেন, ‘‘ইসলাম একটি উদার ও মধ্যপন্থি ধর্ম৷ অন্যান্য ধর্ম, যেমন, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ সবার মাঝেই সন্ত্রাসী আছে৷ কিন্তু যখনই ইসলাম ধর্মের কেউ কোনো অন্যায় করে, এর সঙ্গে ইসলামকে জড়িয়ে দেয়া হয়৷ সেটা অন্য ধর্মের ক্ষেত্রে কিন্তু হয় না৷''

তিনি মনে করেন, ইসলামকে বা নবীকে কটাক্ষ করা হলে, মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়৷ কিন্তু সে জন্য অস্ত্র তুলে নেয়াকে সমর্থন করেন না তিনি৷ তবে তিনি মনে করেন, সেজন্য বিচার চাওয়ার অধিকার তাঁদের আছে৷

সংবিধানে লেখা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠার ধারণা থেকেবাংলাদেশ ক্রমশ দূরে সরছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সারা হোসেন৷ তবে মূল সমস্যা ভিন্ন মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা বলেই মনে করেন তিনি৷

Bangladesch - die Stunde der Islamisten

মুফতি ফয়জুল্লাহ

তাঁর কথায়, ‘‘যারা অসহিষ্ণু, সমাজে তাদের সহ্য করার একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে৷ অন্যদিকে, যতক্ষণ আমার বক্তব্যের সমর্থন পাচ্ছি, ততক্ষণই কেবল আমি ভালো৷ কিন্তু সেই আমিই অন্যের মতকে সম্মান করছি না৷''

তথ্যচিত্র দল এরপর নোয়াখালীর আলাদিন নগর গ্রামে যায়৷ সেখানে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা হয়৷ সেই গ্রামের এক তরুণ জানান, আশেপাশের মুসলিম পরিবারগুলোই তখন তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বাঁচিয়েছে৷ অনেকে তাঁকে এ দেশ ছেড়ে চলে যেতে বললেও তিনি দেশত্যাগ না করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ, এটাই তাঁর দেশ৷

তথ্যচিত্র দল এছাড়াও কথা বলেছে হাটহাজারি মাদ্রাসার হেফাজত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে৷ হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শফির পুত্র মাওলানা আনাস মাদানি বলেন, ‘‘ইসলামি শিক্ষা মানে অন্যকে কষ্ট দেয়া বা মেরে ফেলা নয়৷ ইসলাম শান্তির শিক্ষা দেয়৷ এখান থেকে পাশ করে শিক্ষার্থীরা সমাজের নানা উন্নয়নের কাজ করবে৷''

সংগঠনটির একজন মুখপাত্র মুফতি সারোয়ার বলেন, ‘‘আমরা নারী শিক্ষার জন্য অনেক কাজ করেছি৷ আমরা নারীকে দেশের উন্নয়ন, হস্তশিল্প, সন্তান লালনপালন, সংসারের কাজকর্ম, স্বামীর প্রতি আনুগত্য, প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ এসব শিক্ষা দিয়ে থাকি৷''

Eröffnung des DW-Dokumentarfilms über Bangladesch

বার্লিনের এআরডি কনফারেন্স রুমে তথ্যচিত্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ডয়চে ভেলের পরিচালক পেটার লিমবুর্গ

তথ্যচিত্রের শেষ দিকে দলটি যায় কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যম্পে৷ সেখানে তাঁরা কথা বলেন কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে৷ তথ্যচিত্রে বলা হয়, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে কেউ কেউ জিহাদের ঘোষণা দিয়েছেন৷ তাই এখান থেকে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে৷

সদ্য কৈশোর পেরোনো কয়েকজন তরুণের একটি ব্যান্ড দলকেও দেখানো হয়েছে, যারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ঘটনাগুলো দেখে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভীত৷ কিন্তু তাঁরা এসব ধারণার বিরুদ্ধে আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যেতে চান৷

এসব বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তথ্যচিত্রে বলেন, ‘‘কিছু হলেই সরকার আমাদের ওপর দোষ চাপায়৷ একটা গরু মারা গেলেও বলে বিএনপির কারণে মরেছে৷ যদি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না থাকে, তাহলে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবেই৷''

সব মিলিয়ে তথ্যচিত্রটিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, জঙ্গি হামলা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নারীদের অবস্থা এসবের একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে৷

মঙ্গলবার জার্মানির রাজধানী বার্লিনে জার্মানির অন্যতম টেলিভিশন চ্যানেল এআরডি-র কনফারেন্স রুমে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়৷ জার্মানির অন্যান্য মিডিয়া হাউসের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডয়চে ভেলের পরিচালক পেটার লিমবুর্গ স্বয়ং৷ তাঁর সঙ্গে আলোচনা সভায় অংশ নেন তথ্যচিত্র নির্মাতা সান্দ্রা পেটার্সমান ও ক্রিস্টিয়ান ওস্টারমান, ডয়চে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ফ্রয়েন্ড এবং বাংলা বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ৷

জেডএ/এসিবি

ডকুমেন্ট্রিটা দেখলেন? আমরা এ বিষয়ে আপনাদের মতামত জানতে আগ্রহী৷ তাই লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন