বাংলাদেশের সংবিধান, আইন ও ধর্ম | আলাপ | DW | 11.09.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সংবিধান, আইন ও ধর্ম

বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলাম ধর্মকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে বলে সমালোচনা আছে৷ তবে সব ধর্মের সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিতের কথাও বলা হয়েছে৷ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সার্বজনীন৷ আর প্রচলিত আইনে ধর্ম অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷

বাংলাদেশের সংবিধান শুরুই হয়েছে, বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে) দিয়ে৷ আর এখানেই ইসলাম ধর্ম প্রাধান্য বিস্তার করে আছে বলে সমালোচনা করা হয়৷ আর সংবিধানের প্রথম ভাগেই রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের কথা বলা আছে৷

সংবিধানের ২ (ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন৷ আর সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে –

(১) আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে

(ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে

(খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে

(২) কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোনো ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাঁহাকে কোনো ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না 

অডিও শুনুন 04:54
এখন লাইভ
04:54 মিনিট

‘‘বাংলাদেশে সব ধরনের বিবাহের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক’’

সংবিধানের প্রস্তাবনা শুরুর আগে ‘বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম', রাষ্ট্রধর্ম এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে যা বলা হয়েছে তাতে এটা পরিষ্কার যে, সংবিধান সব ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে৷ তবে সংবিধান একই সঙ্গে ধর্মীয় সমমর্যাদা নিশ্চিত করেছে কিনা তা নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক আছে৷ এটা স্পষ্ট যে, অন্তত দু'ভাবে ইসলাম ধর্মের মর্যাদা সংবিধানে সব ধর্মের উপরে স্থাপন করা হয়েছে৷

তবে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ১২ অনুচ্ছেদ ধর্ম নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে৷ সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল – জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে৷'' তাই সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির চতুর্থ নীতিটি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা

সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা'-র ব্যাপারে বলা হয়েছে, ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য –

(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,

(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,

(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,

(ঘ) কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন, বিলোপ করা হইবে৷

ধর্ম, ধর্মীয় স্বাধীনতা, রাষ্ট্র কর্তৃক ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান, ধর্ম নিরপেক্ষতা এ সব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানে পরস্পর বিরোধিতা অস্বীকার করা যায় না৷

বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম' এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয় দু'টি ছিল না৷ ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম সংযোজন করা হয়৷ আর ১৯৮৮ সালে সাবেক সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের সময় সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযুক্ত হয়৷

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের পর ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে ফেরার কথা বলা হয়৷ ২০১১ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২-এর সংবিধানে ফেরার লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের পাশাপাশি অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ বিবেচনায় সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান রাখে৷ এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়৷ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ কিন্তু বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থেকেই যায়৷

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সংবিধানে সব ধর্মের সমান স্বাধীনতা এবং সমমর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে৷ তারপরও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয়টি সমালোচনার সৃষ্টি করেছে৷ এটা মূল সংবিধানে ছিল না৷ পরে এরশাদ সাহেব সংযুক্ত করেছেন৷''

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সমালোচনা ছিল বলেই পরে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির-রহমানির রহিম'-এর সঙ্গে ‘দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে' শব্দগুলো যোগ করা হয়৷ আর ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম'-এর সঙ্গে ‘তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবে' শব্দগুলোও যোগ করা হয়৷''

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইন

বাংলাদেশের আইনের উৎস মূলত ব্রিটিশ আইন আর বাংলাদেশের ফৌজদারি এবং দেওয়ানি আইন সার্বজনীন ও সেক্যুলার৷ রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্মের কোনো প্রভাব নেই৷ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা মূলত দণ্ডবিধি, ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর কোড এবং সিভিল প্রসিডিউর কোড দিয়ে পরিচালনা করা হয়৷ আদালত ব্যবস্থাও সার্বজনীন৷ এখানে ধর্মের ভিত্তিতে আদালতের কোনো বিভাজন নেই৷ রাষ্ট্রীয় আইনে ধর্মীয় বা শরিয়া আইন বা আদালত বলতে কিছু নেই৷ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা আদালত এবং সুপ্রিম কোর্ট মোটা দাগে এভাবেই আদালতের স্তর বিন্যাস৷''

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘আইন দু'ধরনের, রাষ্ট্রীয় এবং পার্সোনাল ল'৷ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইন সেক্যুলার এবং সার্বজনীন৷ পার্সোনাল ল' সারা পৃথিবীতেই ধর্মের ভিত্তিতে হয়৷ বাংলাদেশে এক রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার-আচার হয়৷ ধর্মীয় কারণে আইনের ভিন্নতা হয় না৷''

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘মালয়েশিয়ায় রাষ্ট্রীয় আইন ছাড়াও শরিয়া আইন আছে৷ কিন্তু বাংলাদেশে কোনো শরিয়া বা ইসলামি আইন বলে কিছু নেই৷ বাংলাদেশের নাগরিকরা অপরাধ করলে বা বিচার চাইলে তা রাষ্ট্রীয় আইনেই নিস্পত্তি হবে৷ ধর্মীয় বা অন্য কোনো কারণে আইনের আলাদা প্রয়োগ বাংলাদেশের সংবিধান এবং আইন বিরোধী৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘ধর্মের নামে ফতোয়া বা সালিশ আইন সম্মত নয়৷''

ধর্মের অবমাননা

প্রচলিত ফৌজদারি আইনেই ধর্ম অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত৷ বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ২৯৫ থেকে ২৯৮ ধারার আইনে এ সংক্রান্ত অপরাধ এবং শাস্তির বিধান আছে৷ মোটা দাগে এই অপরাধগুলো হলো:

২৯৫ – কোনো বা যে কোনো বিশেষ ধর্মবোধে অবমাননা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে উপসানলয়ের ক্ষতি সাধন বা অপবিত্র করা৷

২৯৫ (ক) – কোনো বা যে কোনো বিশেষ ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করে উক্ত যে কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে কঠোর আঘাত হানার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষাত্মক কাজ৷

২৯৬ – ধর্মীয় সমাবেশে গোলমাল সৃষ্টি৷

২৯৭ – সমাধিস্থান ইত্যাদিতে অনধিকার প্রবেশ৷

২৯৮ – ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করার উদ্দেশে শব্দ উচ্চারণ বা অঙ্গভঙ্গি৷

এ সব অপরাধ প্রমাণ হলে সর্বোচচ দুই বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান আছে৷ অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম বলেন, ‘‘এই আইন সব ধর্মের জন্য৷ এই আইনের সুবিধা সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে নিতে পারবে৷ আর যে কোনো ধর্মের অবমাননাই শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ কোনো বিশেষ ধর্মের জন্য বা একক কোনো ধর্মকে সুরক্ষা দিতে এই আইন নয়৷''

এর বাইরেও বিতর্কিত তথ্য-প্রযুক্তি আইনে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ এই আইনে অপরাধ প্রমাণ হলে ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে৷

ধর্মীয় আইন

বাংলাদেশে ধর্মীয় আইন সাধারণভাবে পার্সোনাল ল' নামে পরিচিত৷ বাংলাদেশে মুসলিম আইন এবং হিন্দু আইন ছাড়াও সব ধর্মের ধর্মীয় আইন আছে৷ এ সব আইনের সাধারণত উত্তরাধিকার, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদসহ ধর্মীয় বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হয়৷

মুসলিম আইনের আওতায় আছে- ১. বিবাহ ২. স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার ৩. মোহরানা ৪. বিবাহবিচ্ছেদ ও তালাক ৫. পিতৃত্ব বৈধতা এবং স্বীকৃতি ৬. ওয়াকফ ৭. হেবা ও দান ৮. উইল ৯. উত্তারিধকার প্রভৃতি৷

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনই প্রধানত এখানকার মুসলিম আইন৷ মুসলিম আইনের মূল উৎসগুলো হলো: কোরান, হাদিস, ইজমা এবং কিয়াস৷ এছাড়া কিছু বিধিবদ্ধ আইনও মুসলিম আইনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়৷

হিন্দু আইনের আওতায় আছে – ১. উত্তরাধিকার, ২. নারীর সম্পত্তি, স্ত্রী ধন এবং স্ত্রী ধনের উত্তরাধিকার, ৩. দত্তক, ৪. নাবালকত্ব ও অভিভাবকত্ব, ৫. দান এবং উইল, ৬. ধর্মীয় বা দাতব্য কারণে দান বা অর্পণ, ৭. যৌথ হিন্দু পরিবার, ৮. ঋণ ৯. বণ্টন প্রভৃতি৷

হিন্দু আইনে উৎসের মধ্যে আছে – শ্রুতি, স্মৃতি, নিবন্ধ, প্রথা, বিচারের নজীর, বিধিবদ্ধ আইন ন্যায়পরায়ণতা ও সুবিবেচনা প্রভৃতি৷

হিন্দু আইনে পুরুষের উত্তরাধিকার আইনে দায়ভাগা এবং মিতাক্ষরা নামে দু'টি পদ্ধতি আছে৷ বাংলাদেশে দায়ভাগা এবং ভারতে দু'টি পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়৷

অডিও শুনুন 05:32
এখন লাইভ
05:32 মিনিট

‘‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইন সেক্যুলার এবং সার্বজনীন’’

বাংলাদেশে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যেমন খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ তাদেরও এ সব বিষয়ে ধর্মীয় আইন আছে৷

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘‘এ সব আইন ধর্মের ভিত্তিতে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে৷ তবে নিয়ম হলো যদি রাষ্ট্রীয় আইনের সঙ্গে ধর্মীয় আইনের বিরোধ হয়, তাহলে ধর্মীয় আইন প্রাধান্য পাবে৷'' তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন,‘‘মুসলমান মারা গেলে দাফন করা হয়৷ আর হিন্দু মারা গেলে দাহ করা হয়৷ রাষ্ট্রীয় আইন দিয়ে কেউ মারা গেলে কীভাবে তার শেষকৃত্য করা হবে, তা নির্ধারণ করা যায় না৷''

তবে বাংলাদেশে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কোড'-এর দাবি আছে৷ উত্তরাধিকার, সম্পত্তির অধিকার নিয়ে সব নাগরিকের জন্য একই আইনের দাবি তুলছেন অনেকেই৷ সরকার এ জন্য হিন্দুদের উত্তরাধিকার আইন সংশোধনের উদ্যোগও নিয়েছিল৷ হিন্দু আইনে বিবাহিত মেয়েরা পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয় না৷

মুসলিম আইনে সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইনও সংস্কার করতে চায় সরকার৷ কারণ মুসলিম আইনে বিবাহিত মেয়েরা উত্তরাধিকার সূত্রে পিতার সম্পত্তি পায় ভাইয়ের অর্ধেক৷ কিন্তু এই দু'টি সংস্কার প্রস্তাবই ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিরোধের মুখে এগোতে পারেনি৷ এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম বলেন, ‘‘এরকম আরো কিছু বিষয়, যেমন হিন্দু বিবাহ আইন সংশোধন করা যাচ্ছে না ধর্মীয় প্রতিরোধের মুখে৷ তবে বাংলাদেশে সব ধরনের বিবাহের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক৷''

বিবাহের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইন ছাড়াও বাংলাদেশে একটি বিশেষ আইন আছে, যা ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইন নামে পরিচিত৷ পাত্র-পাত্রী ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হলে এই আইনের আশ্রয় নিয়ে বিয়ে করতে পারেন৷ এই বিয়েতে কোনো ধর্মীয় আইন প্রযোজ্য নয়৷

বিশেষ বিবাহ আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী, বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে রেজিস্ট্রার এবং ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদানকারী তিনজন সাক্ষীর সামনে৷ পক্ষগুলোকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তিনবার বলতে হবে – ‘‘আমরা পরস্পর পরস্পরকে আইনসঙ্গত স্ত্রী অথবা স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম৷''

তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, বাংলাদেশের সংবিধান আইনের দৃষ্টিতে সবাইকে সমানভাবে দেখেছে৷ সংবিধানে আইনের দৃষ্টিতে সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে৷ ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী৷'' 

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন