বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আদালত ফেসবুক | আলাপ | DW | 09.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আদালত ফেসবুক

রম্য ওয়েবসাইট ই-আরকি একটু কার্টুন করেছে৷ এক ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে গেছে৷ পুলিশ টেবিলের ওপর পা তুলে আরাম করে বসেছিলেন৷ ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে চাইলে খুব বিরক্তি নিয়ে পুলিশ বললেন, ‘‘বললাম তো, ঘটনা ভাইরাল হলে তখন আইসেন৷’’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের ছবিটি আলোচিত হয়েছে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের ছবিটি আলোচিত হয়েছে

রম্য ওয়েবসাইট ই-আরকি একটু কার্টুন করেছে৷ একজন ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে গেছে৷ পুলিশ কর্মকর্তা টেবিলের ওপর পা তুলে আরাম করে বসেছিলেন৷ ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে চাইলে খুব বিরক্তি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বললেন, ‘‘বললাম তো, ঘটনা ভাইরাল হলে তখন আইসেন৷’’ মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে সাংবাদিক ও লেখক গোলাম কিবরিয়ার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করছি, ‌‘‘এখন আর তারা নিজেদের ‌‘বীরত্ব’ ভিডিও করবে না৷ আর এটা তো দিবালোকের মতো পরিষ্কার, ভিডিও ভাইরাল না হলে কোনো রিস্ক নাই!’’

মানেন আর না-ই মানেন, বাংলাদেশে এটাই এখন বাস্তবতা৷ এখন আপনাকে ধর্ষিত বা নির্যাতিত হওয়ার সময় ভিডিও করা বা সিসিটিভি ফুটেজ নিশ্চিত করতে হবে, নইলে বিচার পাওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে যাবে৷ শুধু ভিডিও থাকলেই হবে না, সেটা ফেসবুকে ভাইরাল করতে হবে৷ একবার ভাবুন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের যে ভিডিও নিয়ে সারাদেশ তোলপাড়, সেটি যদি নির্যাতকরা ফেসবুকে আপলোড না করতো, তাহলেই কিন্তু কেউ এই নির্মমতার কথা জানতেই পারতো না৷ তারা তো সেই নারীকে শায়েস্তা করার জন্য, সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য ৩২ দিন ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেছিল৷ তখনও তারা বুঝতেই পারেনি, বিষয়টি এভাবে তাদের জন্য ‘হিতে
বিপরীত' হয়ে যাবে৷ আচ্ছা, এবার ভাবুন, ঘটনাটি ২০ বছর আগে ঘটেছে; যখন মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন ছিল না, যখন ফেসবুক আবিস্কার হয়নি; তাহলে কী হতে পারতো? এই ঘটনা নিয়ে শাহবাগে আন্দোলন তো দূরের কথা, বেগমগঞ্জ থানা পর্যন্ত যেতো কিনা সন্দেহ৷ বরং সেই নারীকে ‘চরিত্রহীন’ আখ্যা দিয়ে তার মাথার চুল কেটে, ঘোল ঢেলে, দোররা মেরে একঘরে করে রাখার সুযোগই বেশি ছিল৷

মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতিত হওয়ার পরও সেই নারী কিন্তু ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে থানায় যাননি৷ স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে গেলেও, তিনি সেই নারীকে ঘটনাটি চেপে যেতে বলেছিলেন৷ পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্নই ছিল৷ অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই নির্যাতকদের জন্য কাল হলো৷

ফেসবুক না থাকলে কেউ জানতেই পারতো না বেগমগঞ্জে কী হয়েছে? আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি, বেগমগঞ্জে যা হয়েছে, প্রতিদিন বাংলাদেশে তারচেয়ে ভয়ঙ্কর অনেক ঘটনা ঘটে৷ কিন্তু হয় তার ভিডিও থাকে না, অথবা থাকলেও তা কোনো কারণে ভাইরাল হয় না৷ ব্যস নো ভাইরাল, নো জাস্টিস৷ আচ্ছা কিছুক্ষণের জন্য
আবেগ দূরে রাখুন, মাথা থেকে বেগমগঞ্জের ভিডিওটিও সরিয়ে রাখুন৷ ভাবুন বেগমগঞ্জে কয়েকজন অমানুষ একজন নারীকে বিবস্ত্র করে সেটা ভিডিও করছিল ভবিষ্যৎ ব্ল্যাকমেইলের জন্য৷ সেই ভিডিওর ভয়াবহতা এবং বাঁচার জন্য সেই নারীর আকুতি আমাদের সবার ভাবনার জগতে তুমুল আলোড়ন তুলেছে৷ এমন ধরনের ঘটনা দেখে আমরা অভ্যস্ত নই৷ আমাদের অনভ্যস্ত মনস্তত্ব বিষয়টি নিতে পারেনি৷

পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবেদন ধরলে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে  কমপক্ষে ৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, যার প্রতিটিই বেগমগঞ্জের ঘটনার চেয়ে ভয়াবহ৷ আরেকবার ভাবুন, বেগমগঞ্জে কিন্তু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি৷ কিন্তু প্রতিটি ধর্ষণেই বিবস্ত্র করার ঘটনা ঘটে৷ বিবস্ত্র করা হলো, ধর্ষণের একদম প্রাথমিক পদক্ষেপ৷ বেগমগঞ্জে এইটুকু দেখেই আমরা এলোমেলো হয়ে গেছি৷ কিন্তু ধর্ষণের ঘটনায় বিবস্ত্র করার পর একজন অনিচ্ছুক নারীর সাথে জোর করে যা হয়, তা কিন্তু ভয়ঙ্কর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার৷

প্রতিটা ধর্ষিত নারী নিশ্চয়ই বেগমগঞ্জের সেই বোনটির চেয়েও আরো জোরে, আরো কষ্টে চিৎকার করে৷ কিন্তু হায় ভিডিও নাই বলে, ভাইরাল হয় না বলে সেই চিৎকার আমাদের কানে পৌঁছায় না৷ তাই আমরা প্রতিবাদও করি না৷

মানুষের ইন্দ্রিয় পাঁচটি৷ গণযোগাযোগের থিওরি বলে আপনি একজন মানুষের যত বেশি ইন্দ্রিয় স্পর্শ করতে পারবেন, তত তার নিকটে পৌঁছতে পারবেন৷ চাইলে কিন্তু একটি পত্রিকা শুধু লেখা দিয়েও ছাপা সম্ভব৷ কিন্তু লেখা যত ভালোই হোক, সেই পত্রিকা কিন্তু বেশি লোক কিনবে না৷ পাঠকের নজর কাড়তে পত্রিকার মেকআপ আকর্ষণীয় করতে চাই ছবি৷ চমৎকার একটি ছবি অনেক বেশি পাঠককে স্পর্শ করবে৷ বলাই হয়, একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়েও শক্তিশালী৷ আর টেলিভিশন মানেই তো ছবি৷ যত ভালো ছবি, তত বেশি দর্শক৷ গণমাধ্যমের এই তত্ত্বটা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষেত্রেও বাস্তবতা৷ আমার এক বন্ধু ফেসবুকে তার সব স্ট্যাটাসের সাথেই প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক ছবি জুড়ে দেয়৷ একদিন জানতে চাইলাম কেন? তিনি বললেন, ছবি দিলে মানুষের চোখে পরে তাড়াতাড়ি, লাইকও পরে বেশি৷ তিনি হয়তো না জেনেই গণযোগাযোগের সেই থিওরি অনুসরণ করছেন৷ মানুষকে স্পর্শ করার সেই ঘটনাই ঘটছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷ ভিডিও থাকলেই ভাইরাল৷ আর ভাইরাল হলেই জনমত৷

এই জনমতেই লুকিয়ে আছে ভাইরালের সাফল্য৷ ফেসবুক হলো দ্রুত জনমত যাচাই ও গঠনের সবচয়ে সহজ প্ল্যাটফরম৷ আর জনমত গড়ে উঠলে আসামী গ্রেপ্তার হয়, দ্রুত বিচার হয়৷ বর্তমান সরকারের একটা ভালো দিক হলো, তারা জনমতকে বিবেচনায় নেয়৷ 

বিভিন্ন ইস্যুতে স্বতস্ফূর্তভাবে গড়ে ওঠা অনেক আন্দোলন প্রশমিত হয়ে যায় সরকারের দ্রুত ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে৷ সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধর্ষণ করলেও পুলিশ দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করায় আন্দোলন দানা বাঁধতে পারেনি৷ বেগমগঞ্জের ঘটনার পর দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে উঠেছে৷ তবে ইতিমধ্যেই বেগমগঞ্জের ঘটনায় জড়িত অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে৷ আর ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য মানুষকে আন্দোলন করতে হবে কেন? ধর্ষণ বন্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে না কেন? 

বাংলাদেশে এখন বিরোধী দল নেই বললেই চলে৷ কাগজে-কলমে সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি আসলে সরকারেরই অংশ৷ প্রকৃত বিরোধী দল বিএনপি অথর্ব, নিষ্ক্রিয়৷ তারা কোথাও নেই৷ দেশে এখন গণতান্ত্রিক স্পেস সঙ্কুচিত৷ 

মতপ্রকাশের প্রাতিষ্ঠানিক জায়গাগুলো ধ্বংসপ্রায়৷ এ অবস্থায় মানুষের মত প্রকাশের, ক্ষোভ প্রকাশের একমাত্র খোলা জানালা ফেসবুক৷ ২০১৩ সালে শাহবাগের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে যে ক্ষোভের আগুন
জ্বলেছিল, তার স্পার্কটাও ছিল ফেসবুকেই৷ দুই বছর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও ফেসবুক থেকেই শুরু৷ এবার ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনও ফেসবুক থেকেই শুরু৷ শুধু বড় আন্দোলন নয়, ছোট-বড় অনেক ঘটনাকেই বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব ফেসবুকের৷ একটু মনে করে দেখুন, সিলেটে রাজন নামের এক কিশোরকে চুরির অপরাধে বেঁধে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল৷ সাধারণভাবে এই ঘটনা জাতীয় দৈনিকের মফস্বল পাতার এক কলামের নিউজ৷

কিন্তু পেটানোর ভিডিও থাকায় রাজনের মৃত্যু সারাদেশের মানুষকে কাঁদিয়েছিল৷ মূল আসামী সৌদি আরব পালিয়ে গিয়েও রেহাই পায়নি৷ প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাকে ধরে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল৷ এরচেয়ে কত ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ আসামি দেশের ভেতরেই দাপটে ঘুরে বেরায়, পুলিশ ফিরেও তাকায় না৷ যেমন বেগমগঞ্জের গৃহবধূকে বিবস্ত্র করার ঘটনায় জড়িত দেলোয়ারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা ছিল৷

খুনের মামলার আসামি হয়েও এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছে রাজার হালে, নারীদের বস্ত্রহরণ করেছে৷ আর এখন সেই মামলার আসামী না হয়েও সারাদেশের মানুষের ঘৃণার তালিকায় এক নাম্বারে উঠে এসেছে দেলোয়ার৷ এখানেই সা্মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শক্তি৷ সিলেটের রাজন না হয় মারা গিয়েছিল, সিলেটের এমসি কলেজের খাদিজা তো গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন৷ ছাত্রলীগ নেতা বদরুল তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল৷ আবার অনুরোধ করছি, আবেগ সরিয়ে একবার ভাবুন, ‘প্রেমিকের কোপে কলেজছাত্রী গুরুতর আহত’ এই শিরোনাম আপনাকে কতটা স্পর্শ করতো? কিন্তু যখন আপনি সেই কোপানোর ভিডিও দেখেছেন, তখন আপনি আতঙ্কে-ঘৃণায় কেঁপে উঠেছেন৷ গত দুই দশকে দেশে কয়েক হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারের নামে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে৷ অথচ বছর দশেক আগে ঝালকাঠিতে লিমন নামে এক কিশোরের পায়ে গুলি করে বিপাকে পড়েছিল র‌্যাব৷ টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুলের কন্যার এক প্রশ্ন, ‘‘আব্বু, তুমি কান্না করতেছো যে?’’ চোখের জলে ভাসিয়েছে গোটা দেশকে৷ পুরান ঢাকার বিশ্বজিৎ, ফেনীর নুসরাত, বুয়েটের আবরার- ফেসবুকের কারণে বিচার পেয়েছে এমন ঘটনার তালিকা অনেক লম্বা৷

Bangladesch Probhash Amin

প্রভাষ আমিন, সাংবাদিক ও লেখক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, প্রতিবাদ, গড়ে ওঠা জনমত দারুণ ইতিবাচক৷ তবে আইনের শাসন আছে, সুশাসন আছে এমন রাষ্ট্রে এমনটা কাম্য নয়৷ অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ হবে, জনমত গড়বে; কিন্তু আইন তো চলবে তার নিজস্ব গতিতে৷ ফেসবুকে ভাইরাল হলে সুপারসনিক গতি, নইলে কচ্ছপের; এটা তো কোনো কাজের কথা নয়৷ বাংলাদেশে প্রতিদিন ধর্ষণ হয়, খুন হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা কয়টার প্রতিবাদ করবে৷ আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গড়ে
ওঠা ধারণা দিয়ে তো বিচারক বিচার করবেন না৷ আইডিয়ালি বিচারকদের চোখ বাঁধা থাকার কথা৷ তারা শুধু সাক্ষ্য-প্রমাণ দেখবেন৷ কিন্তু বিচারকরাও তো এই সমাজেরই মানুষ৷ তাদেরও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে৷ তারাও পত্রিকা পড়েন৷ তাই রাস্তায় গড়ে ওঠা ধারণার প্রভাব পরে বিচারেও৷ সরকারের দায়িত্ব আইনের শাসন নিশ্চিত করা৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা-দুটো ঘটনা আলোড়ন তুলবে, ভাইরাল হবে, আন্দোলন হবে৷ আর সরকার সব ঘটনার ন্যায্য ন্যায়বিচার করবে৷ 

সরকার নারীদের জন্য, সব মানুষের জন্য নিরাপদ দেশ গড়বে; ধর্ষক, খুনী, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারীরা থাকবে আইনের আওতায়৷ সরকার যখন তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তখনই মানুষ সোচ্চার হয় প্রতিবাদে, রাস্তায় নামে৷ 

যতদিন সরকার সব ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করবে, অপরাধীদের না ধরবে; যতদিন বিচারের বাণী নীরবে কাঁদবে, যতদিন অপরাধীরা সরকারি দলের প্রশ্রয় পাবে; আপাতত ততদিন ফেসবুকই ভরসা৷ বাংলাদেশে ট্রাক, বাস, সিএনজি বা রিকশার মতো গণপরিবহণের পেছনে নানা চিত্তাকর্ষক বাণী লেখা থাকে৷ সবচেয়ে বেশি লেখা থাকে, মায়ের দোয়া বা আশীর্বাদ কামনা৷ তবে আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লেগেছে, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদালত মানুষের বিবেক৷’ কয়েকদিন পর যদি লেখা হয়, ‌‘বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আদালত ফেসবুক’, আমি একদমই অবাক হবো না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন