বাংলাদেশের প্রথম নারী রেলচালকের কাজের অভিজ্ঞতা | বিশ্ব | DW | 05.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশের প্রথম নারী রেলচালকের কাজের অভিজ্ঞতা

চৌদ্দ বছর আগে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চালক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের মেয়ে সালমা খাতুন৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন৷

ডয়চে ভেলে: আপনি যে সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগদান করেছেন তখন দেশের কোনো কর্মক্ষেত্রেই নারীদের তেমন একটা উপস্থিতি ছিল না৷ এমন প্রক্ষাপটে রেলওয়ের চালক হিসেবে যোগদান করার মতো একটি সাহসি সিদ্ধান্ত আপনি কেন এবং কীভাবে নিলেন? 

সালমা খাতুন: ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রমধর্মী কিছু একটা করার ইচ্ছা ছিল আমার৷ যেটা সাধারণত কেউ করে না তেমনি একটু চ্যালেঞ্জিং ধরণের কিছু একটা করার ইচ্ছা ছিল আমার৷ এ ইচ্ছা পূরণ করাটা আমার জন্য এতো সহজ ছিল না, কেননা আমি ছিলাম গ্রামের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে৷ এদিকে আমাকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্যও আমার বাবা-মায়ের ছিল না৷ গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর অর্থনৈতিক টানাপড়েনের কারণে আমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়৷ তবে আমি জেদ করি, আমি পড়বই৷ আবার বাবা-মা আমাকে তখন এইচএসসিতে ভর্তি করায়৷ এদিকে আমাদের পরিবারে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন লেগেই ছিল৷ যে কারণে এইচএসসি পাস করার পর আমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, আমার পরিবার থেকে বলা হয় আর পড়াশোনা করানো সম্ভব নয়৷ তখন আমার মনে হলো আমার একটা কিছু করা দরকার যেন আমার পরিবারকে কিছুটা অর্থনৈতিক সহযোগিতা করতে পারি৷ আমি যখন একটা কিছু করার উপায় খুঁজছিলাম, তখন আমার বড় ভাই আমাকে একদিন বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে বলল যে, তুমি চাইলে এখানে আবেদন করতে পার৷ চাকরির এ সুযোগটি আমার ইচ্ছার সাথে মিলে যায়, আর তাই আমি আবেদন করি৷

অডিও শুনুন 11:34

‘ব্যতিক্রমধর্মী কিছু একটা করার ইচ্ছা ছিল আমার’

ডয়চে ভেলে: চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়ে কি একজন নারী হিসেবে আপনাকে কোনো ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে?

সালমা খাতুন: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমি মৌখিক পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাই৷ মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত কর্তাব্যক্তিরা খুব আগ্রহ নিয়েই আমার কাছে জানতে চান যে, এ চাকরিটি আমি করতে পারব কিনা? বললাম, আমি পারব, এ চাকরিটি আমি করতে চাই৷ তাঁরাও আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন৷

ডয়চে ভেলে: আপনার প্রতিবেশী ও আপনার আত্মীয় স্বজনেরা এক্ষেত্রে আপনাকে কতটা সহযোগিতা করেছে বা আপনি তাঁদের কাছ থেকে কতটা সাড়া পেয়েছেন?

সালমা খাতুন: চাকরিতে যোগদান করে ট্রেনিং এর জন্য আমাকে ঢাকায় চলে যেতে হয়৷ যে কারণে প্রথমে আমার প্রতিবেশীরা জানতো না আমি রেলওয়েতে চালক হিসেবে যোগদান করেছি৷ প্রায় এক বছর ট্রেনিং শেষে যখন আমি ফিরে আসি তখন আমার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারে৷ বাংলাদেশের প্রথম নারী রেলচালক হয়ে আমি তাঁদের গর্বিত করেছি - এই বলে তাঁরা সবাই আমাকে উৎসাহিত করেছে৷

ডয়চে ভেলে: চাকরির শুরুতে আপনি কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন?

সালমা খাতুন: রেলওয়েতে এখন একমাত্র আমি পূর্ণাঙ্গ নারী রেলচালক৷ এ সংখ্যা বাড়ছে৷ বর্তমানে প্রায় ২০ জন নারী কর্মরত আছেন যারা কেউ সহকারি রেলচালক, কেউ চালক হিসেবে প্রশিক্ষণে আছেন ইত্যাদি৷  তবে, আমি যখন চাকরিতে যোগদান করি তখন আমার বিভাগে ৫০০ পুরুষ কর্মী ছিলেন৷ তার বিপরীতে আমিই ছিলাম একমাত্র নারী কর্মী৷ আমি যখন ট্রেনিং এ যাই তখন আমার পুরুষ সহকর্মীদের অনেকেই আমাকে দেখতে আসতো এই ভেবে যে রেলওয়েতে একজন মেয়ে সহকর্মী এসেছে৷ তাঁদের অনেকেই বলতো যে এটি অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা৷ তবে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলাম যে, আমি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা করব৷ এই মনোবল থাকার কারণেই সম্ভবত আমি আজ ১৪ বছর ধরে সফলতার সাথে কাজ করে আসছি৷ অনেক সাহস নিয়ে এ কাজটি করতে হয়েছে আমাকে৷ এ সময়ে অনেকেই আবার আমাকে বলেছে, আমরা যদি পারি তুমি কেন পারবে না৷ আমার সহকর্মীরা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করেন৷ তা না হলে তো এতদুর আসতে পারতাম না৷

ডয়চে ভেলে: আপনার শিক্ষা জীবন কেমন ছিল?

সালমা খাতুন: এইচএসসি পাস করে আমি চাকরিতে যোগদান করি৷ তবে পড়াশোনার প্রতি আমার সবসময়ই আগ্রহ ছিল৷ সে কারণে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি৷ আর চাকরি করার পাশাপাশি আমি বিএড পাস করি৷ পরে, কবি নজরুল সরকারি কলেজ থেকে আমি এমএ পাস করি৷

ডয়চে ভেলে: একজন নারী চালক হিসেবে কর্মক্ষেত্রে আপনি কি ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন?

সালমা খাতুন: এ মুহূর্তে আমি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছি৷ একটি বিষয় হলো, নারী পুরুষ সবাইকেই এ পেশাটিতে অত্যন্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়৷ যেমন রাস্তার উপর থেকে কেউ পাথর ছুড়ে মারে, সে জন্য সতর্ক থাকতে হয়৷ সবসময় সিগনালের দিকে খেয়াল রাখতে হয়৷ বিপদ এড়ানোর জন্য প্রতিটি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হয়৷ তবে একজন নারী চালক হিসেবে আমি বলব আমাকে একটু বেশি চাপ নিতে হয়, কেননা আমার সন্তানদের রেখে আমি কাজে যাই৷ যদিও আমার স্বামী আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন তারপরও, কাজ থেকে ফিরতে দেরি হলে আমি বাচ্চাদের জন্য টান অনুভব করি৷ 

ডয়চে ভেলে: একজন নারী চালক হিসেবে আপনি কীভাবে যাত্রীদের মুখোমুখি হন?

সালমা খাতুন: আসলে যাত্রীরা আমাকে দেখে খুব অবাক হয়৷ প্রথম দিকে আরো বেশি অবাক হতো৷ যাত্রীরা অনেকেই প্রশ্ন করতো, আপনি মেয়ে মানুষ ট্রেন চালাচ্ছেন? আবার অনেক মেয়েই বলে যে আপনাকে দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই৷

ডয়চে ভেলে: ১৪ বছরের কর্মজীবনের বিশেষ কোনো বিষয়ে কি আপনি কিছু বলবেন?

সালমা খাতুন: আসলে আমার যে বিষয়টি খুব খারাপ লাগে সেটি হলো পথচারীদের অসচেতনতা৷ অনেক সময়ই দেখা যায় পথচারীদের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে, যে বিষয়গুলো আমার কাছে অত্যন্ত খারাপ লাগে৷

সালমা খাতুনের অভিজ্ঞতা কেমন লাগলো? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন