বাংলাদেশের নারী নেত্রী হেনা দাসের মৃত্যু | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.07.2009
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বাংলাদেশের নারী নেত্রী হেনা দাসের মৃত্যু

দীর্ঘ রোগভোগের পর বাংলাদেশের প্রবীণ নারী ও কমিউনিস্ট নেত্রী হেনা দাস সোমবার মারা গেছেন৷ তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর৷ তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন৷

default

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির(সিপিবি)কেন্দ্রীয় কমিটির প্রবীণ সদস্য হেনা দাস সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যান বলে দলিটর নেতারা জানিয়েছেন৷ মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন৷

গত ১৮ জুলাই অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ রোববার অবস্থার আরো অবনতি হলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়৷ দীর্ঘদিন ধরে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন প্রবীণ এই নেত্রীর মৃত্যৃতে শোক প্রকাশ করেছেন৷

সিপিবির নেতারা আরো জানান, হেনা দাসের এক মেয়ে জার্মানিতে থাকেন৷ তিনি ফিরলে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে৷ এর আগ পর্যন্ত মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে৷

প্রয়াত হেনা দাস সিপিবি'র কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য ছিলেন৷ এর আগে তিনি পার্টির পলিট ব্যুরো'র সদস্য ছিলেন৷ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে অসাম্প্রাদায়িক ও গণতান্ত্রিক সব আন্দোলনেই তিনি ছিলেন সক্রিয়৷ পেশা জীবনে তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন৷

এদিকে সিপিবি'র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হেনা দাসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আগামী ২৩ জুলাই হবে৷ ওইদিন সকাল ১০টায় তাঁর মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সিপিবি কার্যালয়ে, ১০টা ৪৫ মিনিটে সেগুনবাগিচা শিক্ষক সমিতি কার্যালয়ে এবং ১১টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাখা হবে৷ বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে রাখা হবে৷ সেখান থেকে মরদেহ নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে৷

১৯২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের এক জমিদার পরিবারে হেনা দাসের জন্ম৷সিলেটের ঐতিহাসিক নানকার আন্দোলনে তিনি অংশ নেন৷

হেনা দাস সিলেটে চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন সংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন৷ খুব অল্প বয়সেই তিনি মার্কসবাদ ও লেলিনবাদে দীক্ষা নেন৷

তিনি পাকিস্তান আমল থেকেই এদেশের সব সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন৷

হেনা দাস বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সিপিবি'র সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু পৃথক পৃথক শোকবানীতে তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন৷

এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, কৃষক সমিতি, ক্ষেতমজুর সমিতি, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, জাতীয় শ্রমিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠনও শোক প্রকাশ করেছে৷

প্রতিবেদক: নাসিরুদ্দিন খোকন

সম্পাদনা: আবদুস সাত্তার

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন