বাংলাদেশের তৈরি সর্ব প্রথম ল্যাপটপ ‘দোয়েল′ | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 19.09.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

বাংলাদেশের তৈরি সর্ব প্রথম ল্যাপটপ ‘দোয়েল'

পাখির নামে ল্যাপটপ৷ আশা করা যাচ্ছে, কাজেও ‘দোয়েল' হবে পাখিটির মতোই চটপটে৷ টেলিফোন শিল্প সংস্থা ও মালয়েশিয়ান একটি কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ল্যাপটপ বাজারে আসছে শীঘ্রই৷

default

অ্যামেরিকার নিকোলাস নেগ্রোপন্টে ২০০৫ সালেই ১০০ ডলারের ল্যাপটপ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন

বাংলাদেশের নিজের মাটিতে তৈরি ‘দোয়েল'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়াই প্রায় সম্পন্ন৷ অর্থাৎ, আর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে ল্যাপটপটির বিক্রি-বাট্টা৷ শোনা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে৷ তাই এখন শুধু শেখ হাসিনার অনুমতির অপেক্ষা৷ সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজীউদ্দিন আহমেদ রাজু৷ তিনি বলেন, শিক্ষার্থী এবং সর্ব স্তরের মানুষের হাতে কম মূল্যের এই ল্যাপটপ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে বর্তমান সরকার৷ তাহলে কবে নাগাদ হাতে পাওয়া যাবে ‘দোয়েল'? কম্পিউটারটি তৈরির পিছনে যে কোম্পানিটির অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই টুএম কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার নাজিব হাসান জানান, ‘‘আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ল্যাপটপের উদ্বোধন করবেন৷ একথাই আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে৷ তবে আপাতত আমরা সরকারের যে চাহিদাগুলো আছে - সেগুলোই পূরণ করার চেষ্টা করবো৷ ‘দোয়েল'-কে এখনই সরাসরি বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের এ মুহূর্তে নেই৷''

Doel, Nationaler Vogel Bangladesch

এবার আসছে দোয়েলের নামে ল্যাপটপ

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দেশে ল্যাপটপ তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে ১৪৮ কোটি টাকার একটা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়৷ গত প্রায় আড়াই বছর ধরে এই ল্যাপটপ তৈরির কাজ চলে আসছে৷ মন্ত্রী রাজীউদ্দিন আহমেদ জানান, তিন মাস আগে গত ১০ জুলাই টেলিফোন শিল্প সংস্থা লিমিটেড বা টেশিস'এর গাজীপুর কারখানায় দোয়েলে'র পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়৷ জানা যায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট'এর পরামর্শ এবং সহযোগিতায় মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘থিম ফিল্ম ট্রান্সমিশন' বা টিএফটি ও কয়েকজন বিদেশি বিশেষজ্ঞের সহযোগিতায় এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে টেশিস৷

তবে ল্যাপটপের মাদার বোর্ডসহ শতকরা ৬০ ভাগ যন্ত্রাংশই তৈরি করা হয়েছে দেশের মাটিতে৷ আর সেখানেই টুএম কর্পোরেশন একটি অন্যতম অবদান রাখে৷ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার নাজিব হাসান টেশিস ল্যাপটপের রকমফের প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘মোট চারটি মডেলে পাওয়া যাবে ‘দোয়েল'৷ প্রাইমারি-২১০২(২১শে ফেব্রুয়ারি), বেসিক-০৭০৩(৭ই মার্চ), স্ট্যান্ডার্ড-২৬০৩(২৬শে মার্চ) এবং অ্যাডভান্স-১৬১২(১৬ই ডিসেম্বর)৷ প্রাইমারি মডেলের কম্পিউটারটি মূলত প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য৷ এর মেমোরি হবে ৫১২ মেগাবাইট এবং সাইজ ১০ ইঞ্চি৷ অন্যদিকে, সবচেয়ে উচ্চমানের ১৪ ইঞ্চির অ্যাডভান্স মডেলের মেমোরি হবে ২ গিগাবাইট৷''

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, সাশ্রয়ী মূল্যে ১০ হাজার, ১২ হাজার, ২১ হাজার ও ২৫ হাজার টাকায় চার ধরনের ‘দোয়েল' পাওয়া যাবে৷ ওদিকে, এই ল্যাপটপ বাজারে এলে, বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের ল্যাপটপের দাম কমাতে বাধ্য হবে বলেও আশা করছেন অনেকে৷

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে টেলিফোন সেট উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল টেশিস কোম্পানি৷

প্রতিবেদন: দেবারতি গুহ / বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম / টেকটিউনস

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন