বাংলাদেশের কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প | অন্বেষণ | DW | 03.05.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

বাংলাদেশের কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ৷ মাত্রাতিরিক্ত বন্যা আর খরা এ দেশের কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে৷ তা সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন কৃষকরা৷

গ্রীষ্মে গাইবান্ধার উপর দিয়ে বয়ে চলে বালুঝড়৷ তাই শুষ্ক মৌসুমের পরের প্রথম বৃষ্টিপাতের অপেক্ষায় থাকেন সাধারণ মানুষ৷ পশুপাখির জন্যও তখন পানীয় জলের দরকার হয়৷

উন্নয়ন সংস্থা ‘‘প্র্যাক্টিক্যাল অ্যাকশন''-এর কৃষি বিজ্ঞানী কামাল হোসেন এবং নির্মল ব্যাপারী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গাইবান্ধার স্থানীয় মানুষদের দুর্দশা সম্পর্কে অবগত৷

কামাল হোসেন বলেন, ‘‘এপ্রিল মাসে আমরা দেখি সবকিছু শুষ্ক হয়ে যায়৷ কোথাও পানি থাকে না৷ বালুঝড় হয়৷ অথচ আমরা যদি জুন-জুলাই মাসে সেখানে যাই তাহলে দেখবো চারদিকে শুধু পানি আর পানি৷ এখানে বড় সমস্যা হচ্ছে, যখন পানি দরকার তখন পাওয়া যায় না৷ আর যখন পাওয়া যায়, তখন পানির পরিমাণ এত বেশি হয় যে কোনো কাজে আসে না৷''

কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানো

খোকা মিয়ার বয়স ৭০ বছরের বেশি৷ গত কয়েক বছরে অনেক বন্যা দেখেছেন তিনি৷ একসময় তিনি সফল কৃষক ছিলেন৷ নিজের অনেক জমিও ছিল৷ ছয় সন্তান এবং অনেক নাতি-নাতনি রয়েছে খোকা মিয়ার৷ কিন্তু বন্যা তাঁর জীবনে অনেক সমস্যা বয়ে এনেছে৷ এখন পরিবারের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি৷

মাত্রাতিরিক্ত বন্যার কারণে জমিতে বালুর আস্তরণ পড়ে গেছে৷ আশার কথা হচ্ছে, এই বালুর মাঠে চাষের এক নতুন উপায় বের হয়েছে৷ কৃষকরা বালুর মধ্যে গর্ত খোঁড়েন৷

এরপর তারা গর্তের মধ্যে গোবর দিয়ে বীজ রোপণ করেন৷ এভাবে উৎপাদিত হচ্ছে মিষ্টিকুমড়া, যা হাজার হাজার মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সহায়তা করছে৷

বালুর মাঝে চাষ নিয়ে গবেষণা

নির্মল ব্যাপারী গত কয়েক বছর ধরে চাষের এই পন্থা পরীক্ষা করছেন৷ যে সব কৃষকরা জমি হারিয়েছেন, তাঁরা এ ভাবে চাষেবাদ করছেন এখন৷ তিনি বলেন, ‘‘মিষ্টিকুমড়া বেছে নেয়ার কারণ হচ্ছে, কৃষকরা এটা সহজেই চাষ করতে পারেন৷ তাঁরা এটি চাষের পদ্ধতি জানেন৷ আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, মিষ্টিকুমড়া এমন এক সবজি যা ‘কোল্ড স্টোরেজ' বা বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই কৃষকের বাড়িতে ছয় থেকে আট মাস বা এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়৷''

বন্যায় সব হারানো খোকা মিয়াও এখন এভাবে কৃষিকাজ করে পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছেন৷ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সুবিধা থাকায় সময় নিয়ে সারা মাস ধরে মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করেন তিনি৷

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা বাংলাদেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ৷ তবে সেদেশে উদ্ভাবিত বিভিন্ন সমাধান একই সমস্যায় থাকা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আদর্শ হতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন