1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
ছবি: IFDC

বাংলাদেশির উদ্ভাবনে মুগ্ধ ওবামা

জাহিদুল হক
১৩ আগস্ট ২০১৩

কৃষকের জন্য সহজে বহনযোগ্য ও স্বল্পমূল্যের গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র বা ‘অ্যাপ্লিকেটর’ উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষি প্রকৌশলী ড. আবদুল ওহাব৷ তাঁর যন্ত্র দেখে খুশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও৷

https://p.dw.com/p/19OAh

‘ইন্টারন্যাশনাল ফার্টিলাইজার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার' বা আইএফডিসি'র বাংলাদেশ কার্যালয়ে কর্মরত ড. ওহাব বছর দেড়েক আগে যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন৷ গত জুন মাসে সেনেগালে একটি কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ওবামা অ্যাপ্লিকেটরটি দেখেন৷ তখন সেখানে উপস্থিত আইএফডিসির একজন প্রতিনিধি ওবামাকে জানান যে, যন্ত্রটির উদ্ভাবক একজন বাংলাদেশি৷

বিশ্বের অন্যান্য দেশের কৃষকদের মধ্যেও সাড়া ফেলছে এই অ্যাপ্লিকেটরটি৷

মুগ্ধতার কারণ

Abdul Wohab Landwirtschaft Bangladesch
এই সেই অ্যাপ্লিকেটরছবি: A.Wohab/AAPI

সেটা জানার আগে জানতে হবে গুটি ইউরিয়া সম্পর্কে৷ এটা এক ধরনের নাইট্রোজেন সার যেটারও উদ্ভাবক বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা৷ এখন সেটা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের অন্যান্য ধান উৎপাদনকারী দেশেও৷

সাধারণ ইউরিয়া থেকেই গুটি ইউরিয়া তৈরি হয়৷ দেখতে অনেকটা ন্যাপথালিনের মতো৷ এটা মাটির সাত থেকে ১০ সেন্টিমিটার গভীরে পুঁতে দিতে হয়৷ এতে লাভ হয় দুটো৷ এক, এর ফলে গাছ গুটি ইউরিয়া থেকে প্রায় ৭০ ভাগ নাইট্রোজেন নিতে পারে, অর্থাৎ নষ্ট হয় মাত্র ৩০ ভাগ৷ অন্যদিকে সাধারণ ইউরিয়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে ব্যবহার করার কারণে গাছ মাত্র ৩৩ ভাগ নাইট্রোজেন পায়৷ আর বাকি পুরোটাই অপচয় হয়৷

গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের দ্বিতীয় সুবিধাটি হচ্ছে, গাছ পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন পাওয়ায় ধানের উৎপাদন ভালো হয়৷ অর্থাৎ ইউরিয়ার অপচয় কম হওয়ায় স্বল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়

কিন্তু গুটি ইউরিয়া মাটির গভীরে লাগাতে হয় বলে কৃষকদের কাছে এতোদিন সেটা তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায়নি৷ এভাবে সার দিতে কৃষককে কোমর নোয়াতে হয় বলে বিষয়টা যেমন কষ্টকর, তেমনি সার একটা রাসায়নিক উপাদান হওয়ায় সেটা হাতে করে দেয়াটাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়৷ গুটি ইউরিয়ার এসব সমস্যা দূর করতে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী আইএফডিসিকে একটা অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবন করার পরামর্শ দেন যেন কৃষকরা সহজে সেটা জমিতে দিতে পারে৷

এই উদ্যোগের ফলে উদ্ভাবিত অ্যাপ্লিকেটরটির সুবিধা দুটি৷ এক, এটা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় ওজন মাত্র দেড় কেজি৷ ফলে কৃষকরা সহজেই সেটা বাড়ি থেকে ক্ষেতে নিয়ে যেতে পারেন৷ আর আরেকটা বড় সুবিধা হচ্ছে দামে অনেক সস্তা, মাত্র সাড়ে চারশো টাকা৷

বিজ্ঞানী ওহাবের সাক্ষাৎকার

পেছনের কথা

আইএফডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের আবাসিক প্রতিনিধি ইশরাত জাহান ডয়চে ভেলেকে অ্যাপ্লিকেটরটি উদ্ভাবনের পেছনের কথা জানান৷ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ‘ফিড দি ফিউচার' প্রকল্পের আওতায় ইউএসএআইডি'র কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পেয়ে তাঁরা কৃষিমন্ত্রীর পরামর্শ বাস্তবায়ন করেছেন৷ প্রাপ্ত অর্থের একটা অংশ তাঁরা বাংলাদেশের কয়েকটি সংস্থাকে দিয়েছেন, যেন তারা সেটা অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবনের গবেষণায় কাজে লাগাতে পারে৷ এক পর্যায়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটা অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবন করেছিলেন৷ তবে সেটাতে প্রতিবার একটি করে গুটি ইউরিয়া ঢোকাতে হত৷ ফলে কৃষকরা সেটাতে আগ্রহী হচ্ছিলেন না৷ পরবর্তীতে আইএফডিসির বিজ্ঞানী ড. ওহাব কয়েকমাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে ঐ যন্ত্রটিরই একটি উন্নত সংস্করণ বের করেন৷ ফলে এখন এই অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে একবারেই ৫০-৬০ টা গুটি ইউরিয়া জমিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান ড. ওহাব৷

আরএফএল এর সহযোগিতা

অ্যাপ্লিকেটরটি বাস্তবে রূপ দেয়া ও স্বল্পমূল্যে কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অবদানের কথা জানালেন ইশরাত জাহান ও ড. ওহাব, দুজনই৷ আরএফএল এর একটি কারখানাতেই অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবনের কাজ করেন ড. ওহাব৷ এরপর সেটা শুধুমাত্র উৎপাদনমূল্যে, কোনোরকম লাভ না রেখে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রাণ-আরএফএল৷

ইশরাত জাহানের সাক্ষাৎকার

কোথায় পাওয়া যাচ্ছে

বরিশাল, যশোর অঞ্চলের ২০টি জেলা এবং ময়মনসিংহ ও শেরপুর - এই ২২টি জেলায় অ্যাপ্লিকেটরটি পাওয়া যাওয়ার কথা জানালেন ইশরাত জাহান৷ তবে অচিরেই সেটা অন্যান্য জেলায়ও পাওয়া যাবে৷ এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশও যন্ত্রটি কিনতে প্রাণ এর সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানান তিনি৷

ড. ওহাব যা বললেন

অ্যাপ্লিকেটরটি দিয়ে আপাতত এক ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করা যায়৷ সে হিসেবে এক বিঘা বা ৩৩ শতাংশ জমিতে সার প্রয়োগ করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগার কথা৷ তবে এর চেয়েও উন্নতমানের যন্ত্র উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানান ড. ওহাব৷ তিনি বলেন, এই অ্যাপ্লিকেটরটির দাম একটু বেশি হবে৷ আড়াই হাজার টাকার মতো৷ তবে সুবিধা হলো উন্নত সংস্করণের অ্যাপ্লিকেটরটি দিয়ে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করা যাবে৷ আগামী বোরো মরসুমেই সেটা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

আদানির কয়লার দামে ‘সংশোধন’ চায় পিডিবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান